কর্মবিরতিতে নেতৃত্ব দেওয়া ৪ কর্মচারীকে বদলি

বিদেশি অপারেটর নিয়োগ হলেও বন্দরের কোনো শ্রমিক-কর্মচারীর চাকরি যাবে না : কর্তৃপক্ষ

আজাদী প্রতিবেদন | রবিবার , ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৫:১৮ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশিদের ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ৪ কর্মচারীকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের পানগাঁও আইসিটিতে বদলি করা হয়েছে। অপরদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ গতকাল শনিবার শ্রমিককর্মচারীদের আশ্বস্ত করে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, বিদেশি অপারেটর নিয়োগ করা হলেও বন্দরের কোনো শ্রমিককর্মচারীর চাকরি যাবে না। সবার চাকরির নিশ্চয়তা বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রদান করছে মর্মেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

গতকাল যাদের বদলি করা হয়েছে তারা হলেন অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও পরিদর্শন বিভাগের অডিট সহকারী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, নৌ বিভাগের ইঞ্জিন ড্রাইভার মোহাম্মদ ইব্রাহীম খোকন, অর্থ ও হিসাব বিভাগের উচ্চ হিসাব সহকারী আনোয়ারুল আজীম এবং প্রকৌশল বিভাগের খালাসি ফরিদুর রহমান।

এর মধ্যে ইব্রাহীম খোকন চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক, হুমায়ুন কবীর একই সংগঠনের প্রচার সম্পাদক, আনোয়ারুল আজীম ও ফরিদুর রহমান বন্দর শ্রমিক দলের সদস্য। তারা এনসিটি বিদেশিদের ইজারার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গতকাল বন্দরের চিফ পারসোনাল অফিসার স্বাক্ষরিত আদেশে তাদের পানগাঁও অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে আজ রোববার যোগদান করতে বলা হয়েছে।

আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ধারাবাহিক আন্দোলন করে আসছে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল। একই দাবিতে গতকাল সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করা হয়। শ্রমিককর্মচারীদের কর্মবিরতির কারণে গতকাল সকাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়। আজও সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।

বন্দর শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম খোকন কর্মচারীদের বদলির নিন্দা জানিয়ে বলেন, আমরা অবিলম্বে বদলির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানাই। আন্দোলনের কারণে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এ বদলির সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। বন্দরের কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্যই কর্তৃপক্ষের উচিত এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা। তিনি বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন বিভাগে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের তালিকা করছে বলে সংবাদ আছে। এটা কারো জন্য শুভকর হবে না। এ ধরনের প্রক্রিয়া চলতে থাকলে রোববার কর্মবিরতি শেষে আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ওমর ফারুক গত রাতে আজাদীকে বলেন, চারজন কর্মচারীকে বদলি করা হয়েছে। এটি বন্দরের রুটিন ওয়ার্ক। এর সাথে আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন তিনি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ ফেব্রুয়ারি শুরু
পরবর্তী নিবন্ধকর্মবিরতিতে বন্দরে অচলাবস্থা