‘কর্মস্থলে ডায়াবেটিস সচেতনতা গড়ে তুলুন’–এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পালিত হয়েছে ‘বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস–২০২৫’। গতকাল সকালে দিবসটি উপলক্ষে চমেক হাসপতালের শাহ আলম বীর উত্তম মিলনায়তনে বৈজ্ঞানিক সেমিনার এবং সচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। চমেক হাসপাতাল এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ডা. ওমর ফারুক ইউসুফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন চমেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন, চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, চমেক উপাধ্যক্ষ ডা. মো. আবদুর রব, চমেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আবদুস সাত্তার, চমেক হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মাসুদ করিম ও চমেক হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফাহমিদা ইসলাম চৌধুরী। চমেক হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ফারহানা আকতারের সভাপতিত্বে এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. সত্যজিৎ মল্লিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সহকারী অধ্যাপক ডা. রফিক উদ্দিন। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য রাখেন এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. রিপন। বৈজ্ঞানিক সেমিনারে বক্তারা বলেন, চলতি বছর ডায়াবেটিস দিবসে কর্মস্থলে সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কারণ কর্মক্ষেত্রেই প্রাপ্ত বয়স্করা জীবনের একটি বড় অংশ কাটান। কর্মজীবীদের মধ্যে দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা, মানসিক চাপ, অনিয়মিত খাবার ও ঘুম এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবের কারণে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। অফিসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কম্পিউটারের সামনে বসে থাকা, ফাস্ট ফুড ও অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, চা বা কফির সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। এ ছাড়া অনেক কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ব্যায়াম সুবিধা বা সচেতনতা কার্যক্রমের অভাবের কারণে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কর্মীরা প্রয়োজনীয় সহায়তা পান না। অনেক সময় ডায়াবেটিস রোগী কর্মক্ষেত্রে ওষুধ খেতে বা ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে সংকোচ বোধ করেন। এর ফলে রক্তে গ্লুকোজের ওঠানামা, হাইপোগ্লেসেমিয়া বা ক্লান্তি দেখা দেয়, যা কাজের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয়। সাধারণত চার ধরনের ডায়াবেটিস রয়েছে। এরমধ্যে টাইপ–১ ডায়াবেটিস যেকোনো বয়সীদের মধ্যে দেখা গেলেও সাধারণত শিশু–কিশোরদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। টাইপ–১ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ইনসুলিন অপরিহার্য। তবে টাইপ–১ ডায়াবেটিস রোগী সংখ্যায় খুব বেশি না হলেও সারা বিশ্বে টাইপ–২ ডায়াবেটিসই সংখ্যায় বেশি এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে তা মহামারি আকার ধারণ করেছে। টাইপ–২ ডায়াবেটিসে সাধারণত বয়স্ক ব্যক্তিদের আক্রান্ত হতে দেখা যায় এবং তাদের শরীরে ইনসুলিন তৈরি হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় কম থাকে অথবা অনেকটা নিষ্ক্রিয় থাকে। এ ধরনের রোগীদের শুরুতে ইনসুলিন নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণসহ কিছু নিয়ম–শৃঙ্খলা মেনে চললে ও দরকার মতো ওষুধ খেলে এ ধরনের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এছাড়া নারীদের মধ্যে গর্ভাবস্থায় অনেকের ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। এ ধরনের ডায়াবেটিস সন্তান জন্মের পর আবার চলেও যায়। একে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বলা হয়। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ না করলে মা ও শিশু উভয়েরই ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
অন্যদিকে গত শনিবার চমেক হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের উদ্যোগে হাসপাতাল এবং কলেজের ১৭৪ কর্মচারীর বিনামূল্যে ব্লাড সুগার, এইচবিওয়ানসি এবং ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা করা হয়েছে।












