এ সংসারে ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য জীবিকার্জন অত্যাবশ্যক। এজন্য নানা মানুষ অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নানা পেশা অবলম্বন করে থাকেন। কোনো প্রতিষ্ঠানে তাঁরা দীর্ঘদিন একসাথে কাজ করতে করতে একটি পরিবার হয়ে যায়। এতে সহকর্মীদের মধ্যে বেশ সখ্যতা গড়ে ওঠে। তাঁদের মধ্যে ভাব বিনিময় হয়, সুখ–দুঃখের আলাপ হয়। এটা হলো কর্মস্থলের সহকর্মীদের মধ্যে ভালোবাসা ও আন্তরিকতা। কিন্তু আজকাল প্রায়ই দেখা যায়, কর্মস্থলে সহকর্মীদের মধ্যে সেই আন্তরিকতা ও ভালোবাসা নেই। নেই পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীল আচরণ। এর পরিবর্তে প্রতিদ্বন্দ্বী মনোভাব তৈরি হয়। কর্মক্ষেত্রে কেউ কথা বলে কাজের স্বার্থে আন্তরিকতা দিয়ে, আবার কেউ সমালোচনা করেন রসিয়ে রসিয়ে খোঁচা দিয়ে। কর্মক্ষেত্রে রাজনীতি, দলাদলি বা ক্ষমতার অপব্যবহার যত বেশি, কাজের গুণগত মান তত নিচে নামে। রাজনীতির কবলে পড়ে কর্মীরা উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন ও কাজে অমনোযোগী হয়ে পড়েন। কারণ রাজনীতি কর্মকর্তা–কর্মচারীদেরকে প্রতিযোগিতার দিকে ঠেলে দেয়। তখন তোষামোদ করাই বেশি গুরুত্ব পায়। একসময়, মেধাবী শিক্ষকরা, কর্মকর্তারা বা কর্মীরা আত্মসম্মান রক্ষার্থে নিজেদের গুটিয়ে নেন। কোনো কাজে উৎসাহ দেখান না। অভিজ্ঞতা ও প্রতিভা থাকলেও তা প্রকাশ করার চেষ্টা করেন না। নিজের মতো করে চুপচাপ থাকেন। যারা জানে কীভাবে প্রতিষ্ঠান প্রধান বা কর্তৃপক্ষের মন জয় করতে হয়, অথচ যাঁদের কাজের কোনো মান নেই। এই সংস্কৃতির ফলে ধীরে ধীরে কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়। উদ্যমীদের আগ্রহ ও উদ্যম মরে যায় এবং সৃজনশীলতা হারিয়ে যায়। কর্মক্ষেত্রের রাজনীতি কেবল কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ ও কাজের মান নষ্ট করে না, কর্মীদের আত্মবিশ্বাস, আস্থা ও উদ্দীপনা কেড়ে নেয়। যে ক্ষেত্র বা প্রতিষ্ঠান মেধাকে অবজ্ঞা ও অবহেলা করে, তোষামোদকে উৎসাহিত ও পুরস্কৃত করে সেখানে দিন দিন কেবল উচ্ছৃঙ্খলা ও অরাজকতাই বৃদ্ধি পায়। প্রশাসনিক কাঠামো স্থবির হয়ে পড়ে।












