চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় হামলার শিকার হয়েছেন দৈনিক আজাদীর (মাল্টিমিডিয়া) কর্ণফুলী প্রতিনিধি এবং কর্ণফুলী প্রেসক্লাবের ক্রীড়া সম্পাদক সাংবাদিক মো. মহিউদ্দিন।
তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সহিংসতার ছবি সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন। হামলাকারীরা সাংবাদিক মহিউদ্দিনের মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেয়।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে কর্ণফুলী প্রেস ক্লাব এবং আনোয়ারা প্রেস ক্লাবসহ একাধিক সাংবাদিক সংগঠন।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে কর্ণফুলীর বড়উঠান ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ডাকপাড়ায় জানাজার পর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের চিত্র ধারণ করতে গেলে সাংবাদিক মহিউদ্দিনের ওপর হামলা চালানো হয় এবং তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
হামলার ঘটনায় কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিউদ্দিনের বাসায় গিয়ে খোঁজ-খবর নেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বিএনপি নেতা এহসান খানের মায়ের মৃত্যুতে সাবেক এমপি সরওয়ার জামাল নিজাম শোকাহত ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে। জানাজার পরে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন মো. হেলাল উদ্দিনের অনুসারী কর্ণফুলী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এসএম মামুন মিয়া ও হাজী ওসমানের নেতাকর্মীদের মধ্যে সরওয়ার জামান নিজাম গ্রুপের সংঘর্ষে চলে।
ঘটনার সময়ে সাংবাদিক মহিউদ্দিন পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংঘর্ষের ছবি তুলতে গেলে হামলাকারীরা তার ওপর হামলা করে এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
হামলার শিকার সাংবাদিক মহিউদ্দিন বলেন, সংঘর্ষ চলাকালীন আমি ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে তারা আমার ওপর হামলা করে। এসময় তাদের আমি সাংবাদিক পরিচয় দিয়েও রক্ষা পাইনি। গাছের টুকরো দিয়ে মারধর করে কেড়ে নেয় মোবাইল ফোনও। আমার এলাকার লোকজন এগিয়ে আসলে প্রাণে রক্ষা পাই।’
ঘটনারপর তাৎক্ষণিক সাংবাদিক মহিউদ্দিনকে দেখতে যান কর্ণফুলী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাজী মুহাম্মদ ওসমান। এসময় তিনি বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলা খু্বই দুঃখজনক। যদি আমার দলের কেউ জড়িত থাকে তার বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে কর্ণফুলী উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোর্শেদুর রহমান নয়ন ও প্রথম আলোর সাংবাদিক মোরশেদ হোসেন বলেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর হামলা গ্রহণযোগ্য নয়। এসব হামলার বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে এবং হামলাকারীদের গ্রেফতার করতে হবে।’
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শরীফ বলেন, ‘আমরা দ্রুত পুলিশ পাঠিয়েছি এবং পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আহত সাংবাদিক মহি উদ্দিনের বাসায় গিয়ে খোঁজ-খবর নিয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেব।’