কর্ণফুলীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা

পুলিশ বলছে, পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ অভিযুক্ত বন্ধু গ্রেপ্তার

কর্ণফুলী প্রতিনিধি | শনিবার , ১১ এপ্রিল, ২০২৬ at ৬:০৪ পূর্বাহ্ণ

কর্ণফুলীতে দিদারুল আলম (৪৮) নামে রিয়াজুদ্দিন বাজারের এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আবু তৈয়বকে (৫১) তাৎক্ষণিক অভিযানে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার রাত ৯টার দিকে কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জ্যারটেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম। নিহত দিদারুল আলম পটিয়ার কোলাগাঁও ইউনিয়নের কালারপোল মোহাম্মদ নগর এলাকার মৃত আহম্মেদ মিয়ার ছেলে। দিদারুলের তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। গ্রেপ্তার আবু তৈয়ব একই এলাকার মৃত কবির আহম্মেদের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিদারুল ও তৈয়বের মধ্যে দীর্ঘদিনের পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল। দিদারুল নগরীর রিয়াজুদ্দিন বাজারে একটি স্টেশনারি দোকান পরিচালনা করতেন, যেখানে তৈয়ব কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।

গতকাল রাতে দিদারুল আলম নগরীর বাকলিয়ার বাসায় ফেরার পথে মইজ্জ্যারটেক এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা তৈয়ব তার ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চমেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নুরুল আলম আশেক। তিনি জানান, রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে তাকে হাসপাতালে আনা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আবু তৈয়ব জানিয়েছেন, তিনি ও দিদারুল আলম নগরীর রেয়াজউদ্দিন বাজারে ডলার ও হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার দাবি, দিদারুলের কাছে তার ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা পাওনা ছিল। ওই টাকা পরিশোধ না করে দিদারুল শহরের বাসা ছেড়ে অন্য কোথাও বাসা নিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার রাতে মইজ্জ্যারটেক এলাকায় দিদারুলকে পেয়ে পাওনা টাকা দাবি করলে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়। এ সময় ধস্তাধস্তির মধ্যে দিদারুল পড়ে গিয়ে মাথায় প্রচন্ড আঘাত পান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি ভিন্ন। তাদের ভাষ্য, দিদারুলের কাছে তৈয়বের কোনো টাকা পাওনা ছিল না। তারা বলেন, দাবির পক্ষে পুলিশকেও কোনো ধরনের নথিপত্রও দেখাতে পারেননি তৈয়ব। বরং দিদারুলই তাকে গ্রাম থেকে এনে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে অস্বাভাবিক আচরণ ও অযৌক্তিক টাকা দাবির কারণে তাকে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও তৈয়ব কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি বলে দাবি তাদের। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্থানীয়দের মতে, প্রকাশ্যে এ ধরনের সহিংস ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দেয়। একই ঘটনায় ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া যাওয়ায় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। নিহতের চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেন বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

কর্ণফুলী থানার ওসি মো. শাহীনূর আলম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে পাওনা টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গেছে। অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হবে।’

পূর্ববর্তী নিবন্ধহরমুজ পার হতে পারল না ‘বাংলার জয়যাত্রা’
পরবর্তী নিবন্ধকক্সবাজারে মায়ের প্রেমিককে হত্যা, যুবক গ্রেপ্তার