কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ফাজিল খার হাট এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষের দাবি, সংঘর্ষে অন্তত ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন। বিএনপির দাবি, সংঘর্ষে উপজেলা যুবদলের সদস্য সাহেদুল আলম টিটু, বড়উঠান ইউনিয়ন কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনজুর, যুবদল নেতা মো. ইমন, বড়উঠান ইউনিয়ন শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফারুকসহ অন্তত ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আরো কয়েকজন বিভিন্ন স্থানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী দাবি করেছে, তাদের কর্মী মো. এনাম, মামুন, আলমগীর, জাকারিয়া ও সালাউদ্দিন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে এনামের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এছাড়া আবরার, জোবাঈর, দিদার, সেলিম, মোরশেদ, ফয়সাল মহিউদ্দিন ও তামিমসহ আরো কয়েকজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
সংঘর্ষের ঘটনায় মো. আলমগীরকে (৩৪) প্রধান আসামি করে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ১০–১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল রোববার কর্ণফুলী থানায় উপজেলা যুবদলের সদস্য মো. সাহেদুল আলম টিটু এ মামলা করেন। মামলায় আলমগীর (৩৪), মামুন (১৯), বাহাদুর খান (৫০), মুন্না (২২), আবরার (২২), সালাউদ্দিন (৩০), ফয়সাল (২০), এনাম (৩২), জাকারিয়া (২৬) ও তানভিরের (২৪) নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১২ ফেব্রুয়ারি দৌলতপুর দিঘির পাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটের দিন জামায়াতের নেতাকর্মীরা হিন্দু ভোটারদের উপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। সেই ঘটনার জের ধরে শুক্রবার রাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
কর্ণফুলী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মনির আবছার চৌধুরী ও সেক্রেটারি নুর উদ্দিন জাহাঙ্গীর এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, শুক্রবার স্থানীয় বিএনপির লোকজন জামায়াত কর্মীদের বাড়িতে দফায় দফায় হামলা চালায়। পরে বিষয়টি মীমাংসার লক্ষ্যে ফাজিল খার হাট বাজারে গেলে যুবদল নেতা টিটুর নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুনরায় হামলা করা হয়। পাশাপাশি জামায়াতের নেতাকর্মীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের অভিযোগও তোলা হয়।
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম মেম্বার জানান, তাদের অন্তত ৪ জন নেতাকর্মী চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি রয়েছেন। যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাহেদুল ইসলাম শামীম দাবি করেন, ভোটের দিনের বিরোধ থেকেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের ঘটনায় সাহেদুল আলম টিটু থানায় মামলা দায়ের করেছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।












