চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ফাজিল খার হাট এলাকায় বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। উভয়পক্ষের দাবি, সংঘর্ষে অন্তত ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের কয়েকজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিএনপির দাবি, সংঘর্ষে উপজেলা যুবদলের সদস্য মো. শাহেদ আলম টিটু, বড়উঠান ইউনিয়ন কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনজুর, যুবদল নেতা মো. ইমন, বড়উঠান ইউনিয়ন শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফারুকসহ অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া আরও কয়েকজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে দলটির নেতারা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, তাদের কর্মী মো. এনাম, মামুন, আলমগীর, জাকারিয়া ও সালাউদ্দিন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে এনামের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া আবরার, জোবাঈর, দিদার, সেলিম, মোরশেদ, ফয়সাল মহিউদ্দিন ও তামিমসহ আরও কয়েকজন আহত হলেও তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।
আহত যুবদল নেতা শাহেদ আলম টিটু অভিযোগ করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন একটি কেন্দ্রে হিন্দু ভোটারদের জিম্মি করে রাখার ঘটনায় জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত হয়। ওই ঘটনার জের ধরেই শুক্রবার রাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে আহত এনামের বড় ভাই মো. ইয়াছিন টিপু জানান, নাছির ক্লাব সংলগ্ন তার লাহরি ও পানির দোকানে নামাজের পর একদল লোক হামলা চালায় এবং ক্যাশ টেবিল ভাঙচুর করে। হামলাকারীরা তার ভাই এনামকে খুঁজছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম মেম্বার বলেন, সংঘর্ষে তাদের অন্তত চারজন নেতাকর্মী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আরও কয়েকজন আনোয়ারা মেডিকেলসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েছেন। ঘটনার বিষয়ে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাহেদুল ইসলাম শামীমও ভোটের দিনের বিরোধ থেকেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি নুর উদ্দিন জাহাঙ্গীর অভিযোগ করেন, নামাজের আগে তাদের কর্মী মামুনের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য আলোচনার সময় পুনরায় হামলার ঘটনা ঘটে। উপজেলা আমির মনির আবছার চৌধুরী দাবি করেন, রাতভর তাদের নেতাকর্মীদের বাড়িঘরেও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন মো. হেলাল উদ্দিন, কর্ণফুলী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এস এম মামুন মিয়া ও সাবেক সদস্য সচিব হাজী ওসমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহীনূর আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।












