কঠোরভাবে তদারকি করে পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হবে

| সোমবার , ৩১ আগস্ট, ২০২৬ at ৮:০০ পূর্বাহ্ণ

কৌশলে বাজারে সরবরাহ কমিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে কৃত্রিম সংকট। ভোক্তাদের ঠকিয়ে সয়াবিন ও চিনি ব্যবসায় উচ্চ মুনাফার টার্গেট করেছে কোম্পানিগুলো। এরকম অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে পত্রিকায়। এতে বলা হয়েছে, বাড়ানো হচ্ছে দাম। এরই মধ্যে ভোক্তার পকেট কেটে কেজিপ্রতি চিনিতে বাড়তি ২৫ টাকা করে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একইভাবে সয়াবিন তেলের দামও লিটারপ্রতি বাড়ানো হয়েছে ৬ টাকা। এভাবে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক না রেখে ধাপে ধাপে দাম বাড়িয়ে উচ্চ মুনাফা নিশ্চিত করছে কোম্পানিগুলো। শুধু তেলচিনিই নয়, নতুন করে আটাময়দার দামও বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সরবরাহ থাকার পরও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ডিম। ফলে একের পর এক নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় বাজারে তৈরি হচ্ছে অস্বস্তি। আর বাড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ। এতে আরো বলা হয়, সরকারকে চাপে ফেলে সয়াবিন তেলের দাম আরও এক দফা বাড়ানোর ছক কষেছে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট। এ লক্ষ্যে পর্যাপ্ত আমদানি ও মজুত থাকা সত্ত্বেও মিলপর্যায়ে সরবরাহ সংকট তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ডিলারদের কাছে সরবরাহ কমানোর বার্তাও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে লিটারপ্রতি ৮ থেকে সর্বোচ্চ ১৩ টাকা দাম বাড়ানোর দাবিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিয়ে সরকারকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। তবে সরকার এখনো দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত না নিলেও সিন্ডিকেটের কারসাজিতে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এক মাসের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৬ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৯২ টাকায়। অর্থাৎ সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে ভোক্তাকে গুনতে হচ্ছে ১২ টাকা বেশি। পাশাপাশি বোতলজাত সয়াবিন খুচরা পর্যায়ে প্রতি লিটার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের মানুষের চিরস্থায়ী দুঃখের নাম নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি। বাজারে অস্থিরতা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারের ওপর কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই কারও। সিন্ডিকেটে বন্দি দ্রব্যমূল্য। বাজারে পণ্যের মজুত থাকলেও বাড়ে দাম। পণ্যের দাম বৃদ্ধির এ ধারা সময়ে সময়ে আরও বেড়ে যায়। পণ্যের মজুত থাকলেও সৃষ্টি করা হয় কৃত্রিম সংকট, বাড়ানো হয় দাম। এতে বিপাকে পড়েন ক্রেতারা। যদিও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশনা পেয়ে কাজ শুরু করেছে সরকার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। এ কাজের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে মন্ত্রিসভা, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও ইউএনওদের। তবে, এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও তা কার্যকরের সম্ভাব্যতা নিয়ে রয়েছে যথেষ্ট সন্দেহ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণভাবে দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি বা হ্রাস পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে বাজারে পণ্যের চাহিদা ও সরবরাহের ওপর। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকলে পণ্যের দাম বাড়তেই পারে। কিন্তু আমাদের দেশে এ নিয়ম খাটছে না। দেখা যায়, পণ্যের পর্যাপ্ত আমদানি ও সরবরাহ থাকলেও তা বেশি দামে বিক্রি হয়। দ্রব্যমূল্যের এই অযৌক্তিক বৃদ্ধির পেছনে কাজ করে বাজার সিন্ডিকেট বা চক্র। তারা যোগসাজশের মাধ্যমে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। কখনো কখনো তারা পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে। নানা অজুহাত তুলেও বাড়ানো হয় পণ্যের দাম। এ অবস্থায় বেশি দামে পণ্য ক্রয় করা ছাড়া ভোক্তাদের কোনো উপায় থাকে না। তাঁরা বলেন, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার বাস্তবতার চেয়ে বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, মধ্যস্বত্বভোগীদের আধিপত্য এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মুনাফা বাড়ানোর প্রবণতাই নিত্যপণ্যের দামের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। তাই ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় কঠোরভাবে বাজার তদারকি করতে হবে। কোনো পণ্যের দাম কেন বাড়ছে তা খতিয়ে দেখতে হবে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইনের প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়েছে পত্রিকান্তরে। তিনি বলেন, বাজার আসলে কে নিয়ন্ত্রণ করছে? মনে হচ্ছে সেই পুরোনো সিন্ডিকেটের হাতেই পুরো ভোক্তা সমাজকে তুলে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের একাধিক সংস্থাকে বাজার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দেওয়া থাকলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। বরং প্রতি সপ্তাহেই একের পর এক পণ্যের দাম বাড়িয়ে ক্রেতাকে নাজেহাল করে তোলা হচ্ছে। তাই কঠোরভাবে তদারকি করে পণ্যের দাম ভোক্তা সহনীয় করতে হবে। অনিয়ম পেলে সঙ্গে সঙ্গে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৭৮৬
পরবর্তী নিবন্ধএই দিনে