স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশ বাস্তবায়নে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে অবৈধ ও অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ও গতকাল শুক্রবার টানা দুই দিন অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে ৬০টির বেশি অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে।
এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রথম দিনের অভিযানে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে ৩৩টি এবং গতকাল ২৭টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। এর আগের দুই দিন বালিয়াড়ি থেকে নিজ দায়িত্বে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে মাইকিং করা হয়।
গত ৯ মার্চ দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃক্সখলা কমিটির সভায় সৈকতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয়। সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সমুদ্র সৈকতে থাকা সব ধরনের অবৈধ ও অস্থায়ী স্থাপনা এক সপ্তাহের মধ্যে অপসারণ করতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার তিন দিন পর আজ উচ্ছেদ অভিযানে নামে প্রশাসন।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সৈকতের অবৈধ স্থাপনাসমূহের উচ্ছেদ শুরু হয়েছে। সুগন্ধা, লাবণী, কলাতলীসহ টেকনাফ পর্যন্ত ১২০ কিলোমিটার সৈকতের সব অবৈধ স্থাপনা পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে অভিযান শুরু করে জেলা প্রশাসন। সৈকতের বালিয়াড়িতে অনিয়ন্ত্রিভাবে গড়ে তোলা দোকানগুলো ভেঙে ট্রাকে তুলে নিয়ে অপসারণ করে শ্রমিকরা। এরপর সুগন্ধা পয়েন্টের রাস্তার মোড়ে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেও বেশ কয়েকটি অস্থায়ী দোকান উচ্ছেদ করা হয় এবং রাস্তার পাশে গড়ে তোলা দোকানগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। সন্ধ্যায় সুগন্ধা পয়েন্টের ঝাউবাগানের ভেতরে (বালিয়াড়িতে) গড়ে তোলা কয়েকটি অস্থায়ী দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় দিন শুক্রবার (গতকাল) বিকালেও যথারীতি ধারাবাহিক অভিযানে সুগন্ধা পয়েন্টের দক্ষিণে অবৈধভাবে স্থাপন করা ফিস ফ্রাই মার্কেটের সবগুলো দোকান উচ্ছেদ করা হয়। উচ্ছেদ করা দোকানগুলো ভেঙে গুড়িয়ে দিয়ে ডাম্পার নিয়ে সেখান থেকে অপসারণ করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসনের পর্যটন শাখার ইনচার্জ মনজু বিন আফনান। তিনি বলেন, দুই দিনের অভিযানে ৬০টির বেশি অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। এই উচ্ছেদ অভিযান জোরদার থাকবে।
এদিকে এসব দোকান উচ্ছেদ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন, দোকানদাররা। তারা দাবি করছেন, যথাযথ নিয়মে সরকারি নির্ধারিত ফি পরিশোধ করেই জেলা প্রশাসন থেকে দোকানোগুলো বরাদ্দ নেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে ইস্যুকৃত কার্ডও রয়েছে তাদের।
এ ব্যাপারে সুগন্ধা বিচ মার্কেট সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ব্যবসার অনুমতি নিয়ে আমরা শতাধিক ব্যবসায়ী বালিয়াড়িতে অস্থায়ী দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা করছি। কিন্তু অবৈধ দোকানগুলো উচ্ছেদ করতে গিয়ে বৈধ দোকানগুলোও উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এটা আমাদের উপর জুলুম।












