কক্সবাজার উপকূলে জলদস্যু দমনে কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযান শুরু

মহেশখালী প্রতিনিধি | রবিবার , ১ মার্চ, ২০২৬ at ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ

বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার উপকূলীয় সমুদ্র এলাকায় ডাকাত ও জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য দমনে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। কক্সবাজারের মহেশখালী ও কুতুবদিয়া সংলগ্ন পশ্চিম সাগর এলাকায় দিনব্যাপী এ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। সামপ্রতিক সময়ে কঙবাজারের টেকনাফ সেন্টমার্টিন সীমান্ত থেকে আনোয়ারা গহীরা উপকূল পর্যন্ত দীর্ঘ ৩০০ কিলোমিটার বঙ্গোপসাগরীয় উপকূল এলাকাজুড়ে জলদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুর গুলিতে কুতুবদিয়া জসিম উদ্দিনের মালিকানাধীন এফবি অজুফা আক্তার মানু নামক ফিশিং ট্রলারে শাহাদাত হোসেন খোকন (১৭) নামে এক জেলে নিহত হয়েছে। গত ১৫ দিনে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূলে অন্তত ৫০টি ফিশিং ট্রলার দস্যুতার শিকার হয়েছে। এতে ১০ জন গুলিবিদ্ধসহ অর্ধ শতাধিক জেলে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এরই প্রেক্ষিতে ২৭ ফেব্রুয়ারি কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

কোস্টগার্ডের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বেশ কিছুদিন ধরে কঙবাজার, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া সমুদ্র এলাকায় ডাকাত ও জলদস্যুদের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। এর প্রেক্ষিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় ২৪ ঘণ্টা টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতা ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

কোস্ট গার্ড জানায়, আধুনিক জাহাজ ও উচ্চগতির স্পিড বোটের মাধ্যমে টহল পরিচালনার পাশাপাশি র‌্যাডার, অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম, ভিএইচএফ ও এইচএফ কমিউনিকেশন সিস্টেম এবং জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোস্ট গার্ডের আওতাধীন নাফ নদী ও সমুদ্রসীমায় সব ধরনের জলযান ও সন্দেহজনক গতিবিধি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

গত দুই মাসে পরিচালিত একাধিক বিশেষ অভিযানে ৪টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৭টি দেশীয় অস্ত্র ও ৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজসহ ৩০ জন ডাকাত ও জলদস্যুকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে ডাকাতদের কবলে জিম্মি থাকা ৩২ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বেইস চট্টগ্রাম, কোস্ট গার্ড জাহাজ কুতুবদিয়া, বিসিজি স্টেশন কঙবাজার, মহেশখালী, মাতারবাড়ী, কুতুবদিয়া ও শাহপরী সমন্বয়ে কঙবাজার উপকূল ও তৎসংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় ডাকাত ও জলদস্যু নির্মূল এবং মৎস্য আহরণে নিয়োজিত জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিনব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের সাগর, নদীপথ ও উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

কুতুবদিয়া উপজেলা জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের সভাপতি ও ফিশিং বোট মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বলেন, গত এক মাসে সাগরে বেপরোয়া জলদস্যুতা ও অনিয়ন্ত্রিত অপতৎপরতার কারণে মৎস্যজীবীরা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। এই সময়ে অর্ধশতাধিক ফিশিং বোট ডাকাতির শিকার হয়েছে এবং জলদস্যুদের হামলায় তিনজন মৎস্যজীবী নিহত হয়েছে।

এদিকে সামপ্রদায়িক সময়ে বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুদের উৎপাত বৃদ্ধি ও জলদস্যুদের গুলিতে কুতুবদিয়ার জেলে নিহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মহেশখালীকুতুবদিয়া আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ বলেন, কঙবাজার উপকূলের বিপুল পরিমাণ মানুষ সাগরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। তাই সাগরে জলদস্যুদের অপতৎপরতা মেনে নেয়া যায় না। আমি গত ২৫ ফেব্রুয়ারি কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের সাধারণ সভা থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কঙবাজারের পুলিশ সুপারকে অবগত করে জলদস্যুদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশনা প্রদান করেছি। ইতিমধ্যে কোস্টগার্ড অভিযান শুরু হওয়ায় আশা করি শিগগিরই সাগরে জলদস্যুদের অপতৎপরতা বন্ধ হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধশিল্প-সংস্কৃতি সমাজের আত্মপরিচয়ের ভিত্তি
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম থেকে প্রয়োজনীয় হজ ফ্লাইট বরাদ্দ দেয়া হোক