কক্সবাজারে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৪ কোটি টাকা মূল্যের ৬ লাখ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ও ১০ কেজি হেরোইন সদৃশ্য মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে র্যাব–১৫। অভিযানে এই বিশাল মাদকের চালানের সঙ্গে জড়িত দুইজন কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার র্যাব–১৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নেয়ামুল হালিম খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত ২১ জানুয়ারি এক বিশেষ অভিযানে পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের উত্তর নুনিয়ারছড়ার প্যারাবন সংলগ্ন সমুদ্রতট এলাকা থেকে এসব ইয়াবা ও হেরোইন উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, চকরিয়া উপজেলার চরণদ্বীপ এলাকার মৃত হোসেন আহমেদের ছেলে মো. ইসমাইল (৪৩) এবং উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী এলাকার মৃত সাবের আহমেদের ছেলে নজরুল ইসলাম (৪২)। র্যাব জানায়, মাদক কারবারিরা তাদের সহযোগীদের নিয়ে একটি বড় মাদকের চালান সমুদ্রতটে লুকিয়ে রাখার পরিকল্পনা করেছিল। গোপন খবর পেয়ে র্যাব–১৫ এর আভিযানিক দল ২১ জানুয়ারি সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে অভিযান চালায়। অভিযুক্তরা পালানোর চেষ্টা করলে দুইজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে সমুদ্রতটের বালুর নিচে লুকানো চারটি প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়। এসব বস্তা থেকে ৬ লাখ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ১০ কেজি হেরোইন সদৃশ্য মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল নেয়ামুল হালিম খান বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার থেকে সমুদ্রপথে মাদক চোরাচালানে জড়িত ছিলেন। তারা মাছ ধরার ট্রলারের মাধ্যমে মাদকের বড় চালান এনে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করতেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, মিয়ানমার থেকে সংঘবদ্ধ একটি চক্র অভিনব কৌশলে মাদক এনে প্রথমে উপকূলীয় এলাকায় মজুদ করে রাখে। পরে এগুলো কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যার ফলে যুব সমাজ মারাত্মকভাবে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাদকবিরোধী অভিযানে মোট ৫৮ লাখ ১৭ হাজার ২৮৪ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালের শুরুতেই ৭ জানুয়ারি ও ১২ জানুয়ারি পৃথক অভিযানে আরও ২ লাখ ইয়াবা জব্দ করা হয়।












