দেশের বৃহত্তম শুটকি উৎপাদন কেন্দ্র কক্সবাজারের নাজিরারটেক শুঁটকি মহাল। এছাড়া জেলার উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও রয়েছে শুঁটকি মহাল। এসব উৎপাদিত শুটকি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়। বরাবরের মতো এবারও নাজিরারটেকসহ অন্যান্য শুটকি মহালে শুটকি উৎপাদন চলছে।
বর্তমানে সমুদ্র উপকূলে চলছে শুটকি উৎপাদনের উৎসব। আগামী জুলাই মাস পর্যন্ত চলবে উৎপাদন। মৌসুমে দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি প্রায় ৪০০ কোটি টাকার শুটকি রফতানির আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। নাজিরারটেকের সমুদ্র তীরবর্তী বালুচরের প্রায় ১০০ একর জমিতে গড়ে ওঠেছে দেশের বৃহত্তম শুটকি পল্লী। এখানে নিয়োজিত রয়েছেন প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক, যাদের অধিকাংশই নারী। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত নাজিরারটেকসহ জেলার উপকূলীয় জেলেপল্লীসমূহে শুটকি উৎপাদন চলে। তবে বৃষ্টি না থাকলে বছরের অন্যান্য সময়েও কিছু শুটকি উৎপাদন হয়। সাগরের বালিয়াড়িতে বিশেষ উপায়ে তৈরি বাঁশের মাচার উপর কাঁচা মাছ সূর্যের তাপে ৩/৪ দিন শুকিয়ে তৈরি করা হয় শুটকি। এরপর উৎপাদিত শুটকিগুলো পাঠানো হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে। শহরের নাজিরারটেক ছাড়াও মহেশখালী, সোনাদিয়া দ্বীপ, টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, সেন্টমার্টিন, কুতুবদিয়াসহ জেলার উপকূলীয় সৈকতে শুটকি উৎপাদন হয়।
নাজিরারটেক শুটকি মহালে গিয়ে দেখা গেছে, ৫০টির বেশি মহালে শুটকি উৎপাদন করা হচ্ছে। রূপচাঁদা, ছুরি, কোরাল, সুরমা, লইট্যা, পোপাসহ প্রায় ২৫ প্রজাতির শুটকি রয়েছে। এসব মহালে কাজ করেন প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিক। অন্যদিকে শহরের নুনিয়ারছড়া, খুরুশকুল, চৌফলদন্ডী, মহেশখালীর সোনাদিয়াসহ জেলার উখিয়া, কুতুবদিয়া ও টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আরো ৩ শতাধিক মহালে শুটকি উৎপাদন চলছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতি মৌসুমে নাজিরারটেক শুটকি মহালে মাছের গুঁড়াসহ ৫০ থেকে ৬০ হাজার মেট্রিক টন শুটকি উৎপাদন হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় ৪০০ কোটি টাকার বেশি। উৎপাদিত এসব শুটকি দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা হয়। জেলার অন্যান্য এলাকাতেও নাজিরারটেকের প্রায় সমপরিমাণ শুটকি উৎপাদিত হয়। নাজিরারটেক শুটকি মহালের ব্যবসায়ী মো. নুরুদ্দিন বলেন, এখানে রূপচাঁদা, ছুরি, কোরাল, সুরমা, লইট্যা, পোপা, টেকচাঁদা, হাঙ্গর, ফাইস্যা ও নাইল্যা মাছসহ ২০ থেকে ২৫ প্রজাতির মাছের শুটকি তৈরি করা হয়।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতিকেজি লইট্যা ১০০০–১৪০০ টাকা, ছুরি ৮০০–১৮০০ টাকা, চিংড়ি ১০০০–১৫০০ টাকা, পোপা ৫০০–৮০০ টাকা, মাইট্যা ৮০০–১৬০০ টাকা, কোরাল ১৫০০–১৯০০ টাকা, রূপচাঁদা ১৮০০–২৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নাজিরারটেক শুটকি ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি আ.ক.ম নেয়ামত উল্লাহ বলেন, প্রায় ১০০ একর এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা এ শুটকি মহালে রয়েছে ছোট–বড় অর্ধশতাধিক আড়ত। এখানে ব্যবসায়ীও আছেন প্রায় দুই হাজার। এ মহাল থেকে প্রতিদিন প্রায় ২০০ টন বিভিন্ন জাতের শুটকি উৎপাদন করা হচ্ছে। প্রতি মৌসুমে উৎপাদন হয় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টন শুটকি। যার বাজার মূল্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা।












