কক্সবাজার শহরে বাড়ির শৌচাগার নির্মাণ করতে দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় গণেশ পাল (৩৫) নামের এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। গতকাল শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে শহরের বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন পল্লনকাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত গণেশ পাল ওই এলাকার বাসিন্দা এবং মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের পালপাড়ার বিশ্বনাথ পালের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গণেশ পালের বাড়িতে একটি শৌচাগার নির্মাণের জন্য সেপটিক ট্যাংকের কাজ চলছিল। এ সময় স্থানীয় কিশোর গ্যাং সদস্য জিদান, মারুফ, বাদশার নেতৃত্বে একদল চিহ্নিত চাঁদাবাজ চক্র গণেশ পালের কাছে শৌচাগার নির্মাণ করতে গেলে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। কিন্তু তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এই নিয়ে অভিযুক্তদের সাথে তার বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার জের ধরে গণেশের ডাকে তার মামা সুজিতকে ঘটনাস্থলে আসেন। এতে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসীরা গণেশ পালকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। ছুরিকাঘাতে তিনি গুরুতর জখম হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী নেপালী পাল বলেন, শুক্রবার রাতে সন্ত্রাসী জিদান আমার স্বামীর দোকানে গিয়ে চাঁদা দাবি করে। তখন না দেয়ায় শনিবার দুপুরে বাড়িতে এসে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে শৌচাগারের নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে বলে। গণেশ চাঁদাবাজদের মুখের উপর প্রতিবাদ করলে চোখের সামনেই তারা গণেশ পালকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে।
অভিযুক্ত জিদানের বাড়ি বিজিবি ক্যাম্পের পল্লন কাটা এলাকায়। তিনি স্থানীয় রাজমিস্ত্রি জাকির হোসেনের ছেলে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এই সন্ত্রাসী চক্রটি দীর্ঘদিন ওই এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এর আগে হত্যাসহ নানা ঘটনা ঘটিয়েছে। জিদানসহ চক্রটির সদস্যদের বিরুদ্ধে থানায় হত্যাসহ কয়েকটি মামলা রয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ছমি উদ্দিন বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।’
এদিকে গণেশ হত্যার প্রতিবাদে স্থানীয়রা কক্সবাজার শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। তারা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গণেশ হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।








