কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় এক রাজনৈতিক নেতার পরিবারের ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধ, দুই নারী ও একটি শিশুসহ চারজনকে আটক করে থানায় নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটককৃতরা স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সালাহউদ্দিন মেম্বারের পরিবারের সদস্য। আটক ব্যক্তিরা হলেন—তার পিতা জাফর আলম (৮০), স্ত্রী, ভাইয়ের স্ত্রী এবং প্রায় ৮ বছর বয়সী এক ভাতিজি, যার নাম মাইরা মনি বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে সালাহউদ্দিন মেম্বারের বাড়ি ঘেরাও করে পুলিশ তার ছোট ভাই মিজানকে আটক করে। তবে এক পর্যায়ে হাতকড়া পরা অবস্থায় তিনি পালিয়ে যান। এর পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় ‘পুলিশের ওপর হামলা’ (এসল্ট) মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ১৫ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়। আটক চারজনকে পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
একজন বৃদ্ধ, দুই নারী ও একটি শিশুকে এ ধরনের মামলায় অন্তর্ভুক্ত করে আটক করার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশুটিকে মায়ের সঙ্গে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মহল থেকে এ ঘটনার তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।
ব্যারিস্টার সাফফাত ফারদিন রামিম তার ফেসবুক পোস্টে বলেন, “বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ৯ বছরের নিচে কোনো শিশুর কর্মকাণ্ড অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না। সেই বিবেচনায় একটি শিশুকে গ্রেপ্তার করা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।”
উখিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক সাইদ মোহাম্মদ আনোয়ারও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তাঁর ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, “একটি নিষ্পাপ শিশুকে থানায় আটক রেখে পরে আদালতে পাঠানো শুধু আইনের পরিপন্থী নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও মারাত্মক অবমাননা।”
কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেন, “বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে ৯ বছরের নিচে কোনো শিশুকে ফৌজদারি অপরাধে দায়ী করা যায় না। সেই প্রেক্ষাপটে একটি শিশুকে মামলার প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা বা আটক রাখা অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ বিষয়। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে মানবিক দিক ও আইনের মৌলিক নীতিগুলো অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া-টেকনাফ সার্কেল) রকিবুল হাসান বলেন, “৬ মাসের সাজাপ্রাপ্ত একজন আসামিকে ধরতে গেলে তিনি হাতকড়াসহ পালিয়ে যান। এ ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলার মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় দুই নারী ও একজন বৃদ্ধকে আটক করা হয়েছে। পরিবারের অনুরোধে শিশুটিকে তার মায়ের সঙ্গে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালত নেবে।”
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চরম বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল বলছে, পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।














