পদধারী নেতা হয়েও নৌকার প্রতীকে ভোট চেয়েছিলেন কক্সবাজার জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আকতার কামাল। অন্যদিকে দলীয় নির্দেশ না মেনে ২০২৩ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।
এছাড়াও তৎকালীন সরকার ও আওয়ামী লীগের সাথে প্রকাশ্য সম্পর্ক ছিলো তার। এসব অভিযোগে এই বিএনপি নেতাকে দল থেকে বহিস্কার করেছিলেন।
তবে সম্প্রতি তার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে দলটি। এতে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে এই বহুল বিতর্কিত নেতাকে দলের ভেতর ব্যাপক সমালোচনাও চলছে।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেন আকতার কামাল। এসময় আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থীর মাহবুবুর রহমানের পক্ষে প্রকাশ্যে ভোটও চান তিনি।
এছাড়া সাবেক হুইপ সাইমুম সরওয়ার কমলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রথম সারিতে থাকতেন তিনি। সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান কায়সারুল হক জুয়েলের সাথে একাধিক প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। এসব ঘটনায় ওই বছর ২২ মে তাকে আজীবনের জন্য দল ও দলের সব ধরণের পদ থেকে বহিস্কার করে বিএনপি।

কক্সবাজার জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক জাফর উদ্দিন জানান, আকতার কামাল আওয়ামী লীগের ১৫ বছর শাসনে নিয়মিত আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে বিভিন্ন দলীয় কার্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। একাধিক পৌর ও উপজেলা নির্বাচনে নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে প্রচারণা চালান।
অনদিকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক এড. সিরাজুল মোস্তফা, জেলা সভাপতি এড. ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক হুইপ সাইমুম সরওয়ার কামাল ও সাবেক সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিকসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে প্রকাশ্যে চলাফেরা করতেন আকতার কামাল।
এছাড়া সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিব কবির বিন আনোয়ারের সাথে বহুবার খুব ঘনিষ্ঠভাবে দেখা গেছে তাকে।
অন্যদিকে আপন ছোটভাই জয়নাল আবেদীনকে বানান যুবলীগ নেতা। আরেক ছোট ভাই আবদুল মান্নান আসীন হয়েছিলেন ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক পদে। অথচ আবদুল মান্নান পূর্বে ছিলেন ওয়ার্ড যুবদলের সহ-সভাপতি।
এছাড়া আপন ভাতিজা আনিসুর রহমানকে বানিয়েছিলেন ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি প্রার্থী ছিল তার আরেক ভাতিজা আজিজুর রহমান।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আকতার কামাল বলেন, ‘আমি একজন জনপ্রতিনিধি ছিলাম তাই জনগণের স্বার্থে আমাকে অনেকের সাথে চলাচল করতে হয়েছে, ওঠাবসা করতে হয়েছে। জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুবাদে মেয়র-এমপি সবার সাথে সুসম্পর্ক রাখতে হয়েছে। তাছাড়া এলাকার নির্বাচন জন্যও সেখানে সময় দিতে হয়েছে।’
জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘তিনি ভুল করেছিলেন, অপরাধ করেছিলেন- তাই দল তাকে শাস্তি দিয়েছিলো। এখন দল তাকে ক্ষমা করেছে- এটা দলের সিদ্ধান্ত।’










