কক্সবাজারে জুলাইযোদ্ধা ও ছাত্রদল নেতা খোরশেদ আলমকে নৃশংসভাবে খুনসহ আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে অপরাধীদের ধরতে ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এর অংশ হিসেব গত চার দিনে নানা অপরাধে তালিকাভুক্ত ২৮ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব সন্ত্রাসীদের মধ্যে হত্যা, ডাকাতি, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের মামলার আসামি রয়েছে। এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমিউদ্দীন জানান, শহরের চিহ্নিত সন্ত্রাসীসহ নানা অপরাধীদের ধরতে ধারাহিক অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সদর মডেল থানার দেয়া তথ্য মতে, পর্যটন কলাতীর লাইট হাউজ পাড়ায় গত ২৬ মার্চ ভোরে সংঘটিত একটি ছিনতাইয়ের ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও দেখে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর গত ২৮ মার্চ একাধিক অভিযান চালিয়ে খায়রুল আমিন প্রকাশ হারুন প্রকাশ মোহাম্মদ আলম প্রকাশ মাতাল মুন্না (২৯) ও আব্দুস শুক্কুরকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে খায়রুল আমিনের বিরুদ্ধে ১৮টি এবং শুক্কুরের বিরুদ্ধে চারটি মামলা রয়েছে। এর পরদিন একই ঘটনায় জড়িত আরমান প্রকাশ গুরা পুতু প্রকাশ ছোট পুতুকে (২৩) গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধেও চারটি মামলা রয়েছে। একই দিন মধ্যরাতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান চালিয়ে আরও ১৩ জনকে আটক করা হয়। এর আগের দিন শনিবার ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সর্বশেষ সোমবার রাতে শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ছয় চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়। সব মিলে চার দিনে ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় আটক সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় লোকজন জানান, সম্প্রতি শহরের বাজারঘাটা, নাপিতাপুকুর, সুগন্ধা পয়েন্ট ও কটেজ জোনসহ বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, চুরি ও পর্যটকদের ওপর হামলার ঘটনা বেড়ে যায়। এর মধ্যে ২৪ মার্চ রাতে সৈকতে খুন হন জুলাইযোদ্ধা ও ছাত্রদল নেতা খোরশেদ আলম। এ ঘটনার পর আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে পুলিশ।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিন বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অনেকের বিরুদ্ধে ছিনতাই, মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।












