কক্সবাজারের চারটি আসনের মধ্যে সবকটিতে বিএনপির পুরোনো প্রার্থীরাই লড়ছেন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। আর হামিদুর রহমান আযাদ ছাড়া জামায়াতের অন্য তিন প্রার্থী নতুন। কিন্তু প্রচারণায় পুরোনো–নতুনের কোনো তারতম্য নেই। সব দলের প্রার্থীরাই নিরলস প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে চার আসনেই জমজমাট হয়ে উঠেছে ভোটের মাঠ। এতে দুটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুই দলের দুইজন জাতীয় নেতা। এর মধ্যে কক্সবাজার–১ (চকরিয়া–পেকুয়া) আসন থেকে লড়ছেন বিএনপির অন্যতম নীতিনির্ধারক ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দীন আহমদ এবং কক্সবাজার–২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসন থেকে লড়ছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। তাই ভোটযুদ্ধে দেশের শীর্ষ আসনের মধ্যে কক্সবাজারের চারটি আসনই বেশ আলোচিত হয়ে উঠেছে।
এই নির্বাচনে চারটি আসনেই জয় পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপি ও জামায়াত। তিন আসনে জামায়াতের নতুন প্রার্থী হলেও চারটি আসনে জিততে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এই দলটি। ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন দুই দলই। এরমধ্যে জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান কক্সবাজার সফরে মহেশখালী ও কক্সবাজারে দুটি জনসভা করেছেন। অন্যদিকে জেলার চারটি আসনেই প্রচারণা চালাচ্ছেন বিএনপি প্রার্থীরা। কক্সবাজার–৪, কক্সবাজার–৩ এবং সর্বশেষ গত শনিবার কক্সবাজার–২ আসনে ধানের শীষের বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চকরিয়া–পেকুয়া আসনে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দীন আহমদকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী কক্সবাজার শহর শাখার আমীর আবদুল্লাহ আল ফারুক। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তিনি। ‘যুদ্ধের মাঠে দুর্বল প্রতিদ্বন্দ্বী বলতে কিছু নেই’–এই থিওরি সামনে রেখে তাফশিল ঘোষণার পর থেকে মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন সালাহউদ্দীন আহমদ। রাতদিন এক করে নির্ঘুম প্রচারণা চালাচ্ছেন। শেষ সময়ে তার প্রচারণায় এসে যোগ দিয়েছেন তার বড়পুত্র বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম।
কক্সবাজার–২ আসনেও তুমুল প্রচারণা চলছে। সেখানে বিএনপির আলমগীর ফরিদ ও জামায়াতের হামিদুর রহমান আযাদ রাতদিন এক করে নির্ঘুম প্রচারণা চালাচ্ছেন। দুই প্রার্থীই নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি মাড়িয়ে বোটে–গাড়িতে দুই দ্বীপ চষে বেড়াচ্ছেন। গত ২ ফেব্রুয়ারি এই আসনের মহেশখালীতে বিশাল জনসভায় অংশ নিয়েছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া জামায়াতের সেক্রেটারি ডা. আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এবং তাদের জোটের শীর্ষ নেতা কর্ণেল অলি আহমদ, নাহিদ ইসলাম, আল্লামা মামুনুল হক দাঁড়িপাল্লার তিনটি জনসভায় অংশ নিয়েছেন।
ভোটাররা বলছেন, এই আসনে দীর্ঘদিন থেকে প্রচারণা থাকার পরও ভোটের মাঠে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছে জামায়াত। এতে পাঁচদিন আগ পর্যন্ত জামায়াত অনেক এগিয়ে ছিলো। কিন্তু এরমধ্যে কোন্দল মিটিয়ে মাঠে নামেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ–সভাপতি কুতুবদিয়ার এটিএম নূরুল বশর চৌধুরী ও সদ্য বহিষ্কারাদেশ তুলে নেয়া মহেশখালী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু বক্কর ছিদ্দিকের বলয়। এতে আলমগীর ফরিদের পালে ব্যাপক হাওয়া লেগেছে। সর্বশেষ গত শনিবার বড় মহেশখালী নতুনবাজার মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় যোগ দেন সালাহউদ্দীন আহমদ। এখানে বিশাল গণজমায়েত হয়েছে।০
কক্সবাজার–৩ আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলের বিরুদ্ধে লড়ছেন জামায়াতের শহীদুল আলম বাহাদুর। তবে প্রচারণা ও ভোটের হিসেবে পিছিয়ে নেই বাহাদুর। দুই প্রার্থীই ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সকালে সদর তো, দুপুরে ছুটছেন রামুতে; আবার বিকালে যাচ্ছেন ঈদগাঁওয়ে। এভাবে শেষ মুহূর্তে দম করে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন দুই প্রার্থী। এর মধ্যে জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান গত ২ ফেব্রুয়ারি জেলা ভিত্তিক বিশাল জনসভা করেছেন কক্সবাজার শহরে। এখানে ব্যাপক গণজমায়েত করে জামায়াত। অন্যদিকে গত শুক্রবার শহরে আয়োজিত বিএনপির এক জনসভায় অংশ নেন সালাহউদ্দীন আহমদ। এখানেও ব্যাপক গণজমায়েত হয়েছে।
কক্সবাজার–৪ আসনেও জিয়াউর রহমানের সাথে রাজনীতি করা বিএনপির চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরীর সাথে লড়ছেন জেলা জামায়াতের আমীর ও প্রথম সংসদ নির্বাচন করা অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী। এখানেও ভোট ও প্রচারণার মাঠে শাহজাহান চৌধুরীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন নূর আহমদ আনোয়ারী। এই আসনে ব্যাপক হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। এই দুই প্রার্থীর একে অপরকে পাল্লা দিয়ে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত চষে বেড়াচ্ছেন। সেই সাথে এই আসনে প্রচারণা ও ভোটের লড়াইয়ের সাথে তীব্র বাকযুদ্ধও চলছে। বিএনপি–জামায়াতের প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা একে অপরের সাথে নানারকম নেতিবাচক তর্কযুদ্ধও চালাচ্ছেন। সেই সাথে একে অপরের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগও করে যাচ্ছেন। চারটি আসনেই ইসলামী আন্দোলনসহ আরো কয়েকটি দলের প্রার্থী থাকলেও তাদের অধিকাংশই প্রচারণা ও আলোচনায় নেই।












