কক্সবাজারের চার আসনে বিএনপির জয়

এই দিনটির জন্য মানুষ অপেক্ষা করছিল : সালাহউদ্দিন আহমদ

শাহেদ মিজান, কক্সবাজার | শুক্রবার , ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৬:১৮ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারের চারটি সংসদীয় আসনে বিজয় পেয়েছে বিএনপির প্রার্থীরা। কক্সবাজার১ আসনে ২ লাখ ২ হাজার ৫৬৬ ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুখ পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ২৪ হাজার ৭২৬ ভোট।

কক্সবাজার২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ২৬২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৬৩৪ ভোট।

কক্সবাজার(সদররামুঈদগাঁও) আসনে ১ লাখ ৮১ হাজার ৪০৭ ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী শহিদুল আলম বাহাদুর পেয়েছেন ১ লাখ ৫২ হাজার ৯৯৪ ভোট।

কক্সবাজার(উখিয়াটেকনাফ) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে শাহজাহান চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৮৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী নুর আহমেদ আনোয়ারী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৭২৬ ভোট। এই আসনে মোট পোস্টাল ভোট ছিল ৩ হাজার ৮৬৬টি। পোস্টাল ভোটসহ চূড়ান্ত গণনায় বিএনপির প্রার্থী এগিয়ে থেকে বিজয় নিশ্চিত করেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

কক্সবাজার১ আসনে বিজয়ী বিএনপির সালাহউদ্দিন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার(চকরিয়াপেকুয়া) আসনে বিজয়ী হয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার রাতে ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে তাঁর জয় নিশ্চিত হয়। আসনের ১৭৭টি কেন্দ্রের ফলাফলে সালাহউদ্দিন আহমদ পেয়েছেন ২ লাখ ২ হাজার ৫৬৬ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুখ দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৭২৬ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৭৭ হাজার ৮৪০।

ফলাফল ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভোটের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে এসেছে। এই দিনটির জন্য মানুষ অপেক্ষা করছিল। এখন দায়িত্ব অনেক বেশি। শহীদদের ও গণতন্ত্রের আকাক্সক্ষা পূরণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব হবে প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বিএনপি দুইতৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর ভাষ্য, এই বিজয় প্রত্যাশিত ছিল এবং নতুন সংসদ একটি শক্তিশালী বিরোধী দল পাবে।

কক্সবাজার২ আসনে বিএনপির ফরিদের জয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার(মহেশখালীকুতুবদিয়া) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ। ১২৪টি কেন্দ্রের সবকটির ফলাফলে তিনি ৩৫ হাজার ৬২৮ ভোটের ব্যবধানে জয় পান। জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ধানের শীষ প্রতীকে ফরিদ পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ২৬২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৬৩৪ ভোট। শুরু থেকেই এই আসনে দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল আলোচনায়। তবে কেন্দ্রভিত্তিক গণনা শেষে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে থেকে জয় নিশ্চিত করেন বিএনপির এই প্রার্থী। মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এই উপকূলীয় আসনে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। আইনশৃক্সখলা রক্ষায় নির্বাচনের দিন অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বেসরকারি ফলাফল ঘোষণার পর বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করলে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে ফলাফল চূড়ান্ত করা হবে।

কক্সবাজার৩ আসনে বিএনপির কাজলের জয়

কক্সবাজার(সদররামুঈদগাঁও) আসনে বিএনপির প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। আসনের ১৮২টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফলে তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর শহিদুল আলম বাহাদুরকে ২৮ হাজার ৪১৩ ভোটে পরাজিত করেন। জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাপ্ত ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকে লুৎফুর রহমান কাজল পেয়েছেন ১ লাখ ৮১ হাজার ৪০৭ ভোট। অন্যদিকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শহিদুল আলম বাহাদুর পেয়েছেন ১ লাখ ৫২ হাজার ৯৯৪ ভোট। দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে শুরু থেকেই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে থেকে জয় নিশ্চিত করেন কাজল।

কক্সবাজারে সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে রামু ও ঈদগাঁও এলাকায় ধানের শীষের প্রতি ব্যাপক সমর্থন লক্ষ্য করা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। নির্বাচনকালীন সহিংসতা এড়াতে বিজিবি ও সেনাবাহিনী টহল জোরদার রাখে। আইনশৃক্সখলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

কক্সবাজার৪ আসনে বিএনপির শাহজাহানের জয়

কক্সবাজার(উখিয়াটেকনাফ) আসনে বিজয়ী হয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী। ১১৫টি কেন্দ্রের সবকটির ফলাফল এবং পোস্টাল ভোট গণনা শেষে তিনি ২ হাজার ৯২৪ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। ধানের শীষ প্রতীকে শাহজাহান চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৮৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী নুর আহমেদ আনোয়ারী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৭২৬ ভোট। এই আসনে মোট পোস্টাল ভোট ছিল ৩ হাজার ৮৬৬টি। পোস্টাল ভোটসহ চূড়ান্ত গণনায় বিএনপির প্রার্থী এগিয়ে থেকে বিজয় নিশ্চিত করেন। উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলা নিয়ে গঠিত সীমান্তবর্তী এই আসনে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃক্সখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারি ছিল। বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণার পর বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আসমা জানান, নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ করলে গেজেট আকারে তা চূড়ান্ত করা হবে।

কক্সবাজার(সদররামুঈদগাঁও) আসনে বিএনপির লুৎফুর রহমান কাজল বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। আসনের ১৮২টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফলে তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর শহিদুল আলম বাহাদুরকে ২৮,৪১৩ ভোটে পরাজিত করেছেন। প্রাপ্ত ফলাফলের অনুযায়ী, লুৎফুর রহমান কাজল পেয়েছেন ১ লাখ ৮১ হাজার ৪০৭ ভোট, আর শহিদুল আলম বাহাদুর পেয়েছেন ১ লাখ ৫২ হাজার ৯৯৪ ভোট। দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যথেষ্ট তীব্র ছিল, তবে শেষ হাসি হাসলেন ধানের শীষের কাজল।

নির্বাচন ঘিরে জেলাজুড়ে বেশ তৎপর ছিল সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে বিজিবি, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, র‌্যাব, পুলিশ, আনসারভিডিপির মোট ১৩ হাজার ৪৯৯ জন আইনশৃক্সখলা বাহিনীর সদস্য। এর মধ্যে ছিল ২ হাজার ১৬৬ জন সেনা, ৮৮০ জন বিজিবি, ৩৯৯ জন নৌবাহিনী, ৫০ জন বিমান বাহিনী, ১৪৫ জন কোস্টগার্ড, ৮০ জন র‌্যাব, ১৯০ জন আনসার ব্যাটেলিয়ন ও ১ হাজার ৮১৫ জন পুলিশ সদস্য। এ ছাড়া আনসার ও ভিডিপির ৭ হাজার ৭৭৪ জন সদস্য ভোটকেন্দ্রগুলোতে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ৩৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃক্সখলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে ছিল। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া সহিংসমুক্ত এই নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক বোদ্ধারা দেশের ইতিহাসে মাইলফলক হিসেবে মন্তব্য করেছেন।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. . মান্নান জানান, আইনশৃক্সখলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে জেলার কোথাও কোন বড় ধরনের ঘটনা ঘটেনি। হয়নি, রক্তপাত। ঝরেনি প্রাণ। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি আসনই বিএনপির
পরবর্তী নিবন্ধগ্রামে উৎসবের আমেজ