ওরা এখন নিয়মিত বই পড়ে

কাপ্তাইয়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি

কাপ্তাই প্রতিনিধি | সোমবার , ১৩ নভেম্বর, ২০২৩ at ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ

দেশের গ্রাম এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের বই পড়ার আগ্রহ কম বলে মনে করেন অনেকে। এছাড়া টাকা দিয়ে বই কিনে পড়ার আগ্রহও কম প্রান্তিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের। কিন্তু কাপ্তাই উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে এর ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উপজেলার ওয়াগ্‌গা ইউনিয়নে অবস্থিত তম্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা নিয়মিত টাকা দিয়ে বই কিনে পড়ে। বই পড়ার ক্ষেত্রে তাদের আগ্রহও অনেক বেশি।

জানা যায়, রাঙ্গামাটিস্থ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি থেকে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বই সংগ্রহ করে পড়ছে। সমপ্রতি তম্ব্পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির সামনে আগ্রহ নিয়ে বই সংগ্রহ করছে। শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা ২৫ জন ছাত্রছাত্রী প্রত্যেকে একশ টাকা হারে চাঁদা দিয়ে এই ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির সদস্য হয়েছে। এছাড়াও প্রতিমাসে বই সংগ্রহ বাবদ ১০ টাকা চাঁদা দিয়ে মাসে ৪টি বই পড়ার সুযোগ পায় তারা। লাইব্রেরি থেকে তারা মুক্তিযুদ্ধের বই, গল্পের বই, বঙ্গবন্ধুর বই, ভ্রমণ কাহিনী, মনিষীদের জীবনী ইত্যাদি নানা ধরনের বই পড়ে। বই নিয়ে প্রতি বুধবার ভ্রাম্যমাণ গাড়ি এই বিদ্যালয়ে আসে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঈসাইনু মারমা বলেন, বই পড়ার জন্য আমরা সব সময় ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহ দিয়ে আসছি। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত স্কুলে আসে এবং স্কুলের পাঠদানও যথাসময় শেষ করে। এরই মধ্যে তারা লাইব্রেরি থেকে নেওয়া বইও পড়ে ফেলে এবং পরবর্তীতে নতুন বই সংগ্রহ করার জন্য বুধবারের অপেক্ষায় থাকে। কারণ প্রতি বুধবার ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি নতুন বই নিয়ে স্কুলে আসে। প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, অধিকাংশ অভিভাবক দরিদ্র হওয়া সত্বেও তারা ছেলে মেয়েদের বই পড়ার জন্য প্রতি মাসে ১০ টাকা করে প্রদান করেন। ছাত্রছাত্রীদের বই পড়ার আগ্রহ দেখে প্রধান শিক্ষকসহ বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক অনেক খুশি।

বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র রাঙ্গামাটির ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরিয়ান শওকত হোসেন জানান, কাপ্তাই উপজেলার তম্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়াও দুর্গম অঞ্চলের আরো কয়েকটি বিদ্যালয়ে প্রাথমিকে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা তাদের লাইব্রেরির সদস্য। তাদের বেশিরভাগ দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়া সত্বেও এই ছাত্রছাত্রীরা নিয়মিত লাইব্রেরি থেকে বই নিয়ে পড়ছে।

এ ব্যাপারে কাপ্তাই উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা আশিষ কুমার আচার্য্য জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠ্য বই পড়ার পাশাপাশি অন্যান্য বই পড়তেও আমরা উৎসাহ দিচ্ছি। এছাড়াও বিদ্যালয় আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখা এবং প্রত্যেক ছাত্রছাত্রী নিজ হাতে যাতে গাছের চারা রোপণ করে এবং নিয়মিত গাছের পরিচর্যা করে সেজন্যও আমরা শিশুদের উদ্বুদ্ধ করছি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমেছো বিড়াল শাবকের ঠাঁই হলো বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে
পরবর্তী নিবন্ধবিএনপি-জামায়াত দেশকে ধ্বংস করতে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের আশ্রয় নিয়েছে