ওমানে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ফটিকছড়ির একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসময় আরও দুইজন আহত হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে সালালা সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, ফটিকছড়ি সুন্দরপুর ইউপির ছোট ছিলোনিয়া গ্রামের শফিউল আলমের একমাত্র ছেলে মোহাম্মদ সাকিবুল হাসান সবুজ (২২), তার মা বিলকিস আক্তার, সাকিবের বোনের জামাই মোহাম্মদ দিদারুল আলম। একই ঘটনায় সাকিবের স্ত্রী উম্মে সালমা রিতা ও তার মেয়ে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জানা যায়, আইয়ুব নবীর মাজার জিয়ারত এবং সালালা এলাকায় সাকিব পরিবার নিয়ে বেড়ানো শেষে বাসায় ফিরছিলেন। ঘটনার সময় সাকিব গাড়ি চালাচ্ছিলেন। এ সময় গাড়ির সামনে একটি উট চলে আসে। উটের সাথে ধাক্কা লেগে মুহূর্তেই গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুমড়ে–মুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনার আগে সাকিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক আইডিতে পরিবারের সবার হাসিমুখের ছবি শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখেন “পরিবার নিয়ে সালালাহর পথে, নবীয়ে কেরামগণের যিয়ারাত ও সালালাহর সৌন্দর্য উপভোগের উদ্দেশ্যে, যদিও অফ সিজন” কিন্তু সেই আনন্দযাত্রা মুহূর্তেই রূপ নিল চির বিদায়ে। এমন মৃত্যু হয়তো কল্পনাও করেনি কেউ।
সাকিবের আত্মীয় তানজিলা বলেন, সাকিব তার পুরো পরিবার নিয়ে আইয়ুব নবীর মাজার এবং সালালা বেড়ানোর পর বাসায় ফিরছিলেন। এসময় সড়ক দুর্ঘটনায় তারা প্রাণ হারায়। শুধু তার স্ত্রী ও মেয়ে বেঁচে আছে, তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় মোহাম্মদ আমান বলেন, সাকিব এবং তার পিতা শফিউল আলম এলাকায় গরীব দুঃখী মানুষের কল্যাণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঘর নির্মাণ, খাদ্য বিতরণ, গরীব মেয়েদের বিয়েসহ বিভিন্ন খাতে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। যা আমরা উপস্থিত থেকে সম্পাদন করেছি। জনদরদী এ পরিবারের সদস্যদের এমন মৃত্যুতে আমরা সকলেই ভেঙে পড়েছি। পুরো পরিবারটি নিমিষেই শেষ হয়ে গেল।
প্রবাসী মোহাম্মদ বাবর বলেন, সাকিব আমার বন্ধু। গতকাল রাতেও তার সাথে কথা হয়েছে। পরিবার নিয়ে বেড়ানোর পর সালালা থেকে ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটেছে। এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা কোনো ভাবেই মানতে পারছি না। এ সড়কটাতে কত মানুষ প্রাণ হারিয়েছে তার ঠিক নাই।












