ওমানের সালালাহ থেকে হামিরিয়ার পথে পারিবারিক ভ্রমণ শেষে ফেরার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ফটিকছড়ির একই পরিবারের তিন সদস্য। নিহতরা হলেন বিলকিস বেগম (৫৫), তার একমাত্র ছেলে সাকিবুল হাসান সবুজ (২২) এবং মেয়ের জামাতা মুহাম্মদ দিদারুল আলম (২৮)।
ঘটনাটি ঘটে গত ৯ জানুয়ারি রাতে ওমানের সালালাহ এলাকায়। স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে সবুজের চালানো একটি গাড়ি হঠাৎ রাস্তায় উঠে আসা উটের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে গাড়িটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন সবুজের স্ত্রী, শিশুকন্যা ও তার বোন। তারা ওমানের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বর্তমানে নিজ বাসায় রয়েছেন।
নিহত সাকিবুল হাসান সবুজ ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের ছোট ছিলোনিয়া গ্রামের প্রবাসী শফিউল আলমের একমাত্র পুত্র। পরিবার নিয়ে ছুটির ভ্রমণ শেষে ঘরে ফেরার পথেই ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিহতদের মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে মরদেহ চট্টগ্রামে আনা হয়। গতকাল শুক্রবার ভোরে চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন মুফতি সৈয়দ অছিউর রহমান আল কাদেরী। এ সময় স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের চোখে ছিল গভীর শোক।
পরে মরদেহ তিনটি ফটিকছড়িতে নেওয়া হয়। দুপুর ৩টায় সুন্দরপুর ইউনিয়নের ছোট ছিলোনিয়া গ্রামে মা বিলকিস বেগম ও ছেলে সবুজের দ্বিতীয় জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন করা হয়। অন্যদিকে হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নে পৃথক জানাজা শেষে দাফন করা হয় জামাতা দিদারুল আলমকে।
একই পরিবারের তিন সদস্যের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে ফটিকছড়ি এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্ত্রী, একমাত্র সন্তান ও জামাতাকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন শফিউল আলম। স্বজনদের ভাষায়, এই ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়।












