এলপিজি আমদানির ইচ্ছা বিপিসির প্রয়োজনে অনুমোদন, বলছেন উপদেষ্টা

| বৃহস্পতিবার , ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৭:০৮ পূর্বাহ্ণ

বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে প্রয়োজনে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাবিপিসিকে এলপিজি আমদানির অনুমতি দেওয়ার আভাস দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা। তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানির অনুমতি চেয়ে ১০ জানুয়ারি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি পাঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান আমিন উল আহসান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, প্রয়োজন হলে বিপিসিকে অনুমোদন দেব। আমরা সরকার থেকে এলপিজি আমদানির সম্ভাব্যতা পরীক্ষা করছি। এতে বাজারে ভারসাম্য আসতে পারে বলেও মনে করেন জ্বালানী উপদেষ্টা। খবর বিডিনিউজের।

বিপিসি তাদের চিঠিতে বলেছে, সম্প্রতি দেশের বাজারে এলপিজির সরবরাহ ঘাটতি ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশিত খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, ভোক্তারা স্বাভাবিক দামের তুলনায় অনেক বেশি দামে এলপিজি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। বিষয়টি বিপিসির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, বর্তমানে দেশে এলপিজি আমদানি ও সরবরাহ কার্যক্রম পুরোপুরি বেসরকারি খাতনির্ভর। সরকারি পর্যায়ে বা বিপিসির মাধ্যমে সরাসরি এলপিজি আমদানির কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট বা সরবরাহ বিঘ্ন দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে বাজার স্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে সরকারের হস্তক্ষেপ সীমিত হয়ে পড়ে। চিঠিতে আরও বলা হয়, আমদানি করা অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের মাধ্যমে উপজাত হিসেবে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) যতটুকু পাওয়া যায়, তা দিয়ে দেশের চাহিদার ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে।

তবে বিপিসি স্বীকার করেছে, সংস্থাটির নিজস্ব পর্যায়ে এলপিজি খালাস ও সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নেই। এ প্রসঙ্গে চিঠিতে বলা হয়, বর্তমানে বিপিসির নিজস্ব পর্যায়ে এলপিজি সংরক্ষণ ও খালাসের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো (যেমন : জেটিভিত্তিক পাইপলাইন, ফ্লোমিটার, স্টোরেজ ট্যাংক) নেই।

এ অবস্থায় কুতুবদিয়া গভীর সমুদ্র এলাকায় বেসরকারি এলপিজি অপারেটরদের ব্যবহৃত লাইটারিং পদ্ধতি অনুসরণ করে আগ্রহী অপারেটরদের লাইটার জাহাজ ব্যবহার করে এলপিজি খালাস ও বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে বলে প্রস্তাব দিয়েছে বিপিসি। চিঠিতে বলা হয়, এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এলওএবি) সঙ্গে আলোচনা করে আগ্রহী অপারেটর প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রস্তুত, আমদানির পরিমাণ নির্ধারণ, মূল্য পরিশোধের পদ্ধতি এবং খালাস ও বণ্টন প্রক্রিয়া ঠিক করা যেতে পারে।

অতীতের নজির তুলে ধরে বিপিসি বলেছে, দেশে জ্বালানি তেলের হঠাৎ চাহিদা বৃদ্ধি বা সরবরাহ সংকট দেখা দিলে জিটুজি (সরকারটুসরকার) ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে কোটেশন আহ্বানের মাধ্যমে অতিরিক্ত আমদানি করা হয়েছে। একই পদ্ধতিতে এলপিজি আমদানির সম্ভাবনাও যাচাই করা যেতে পারে। চিঠিতে বলা হয়, বিপিসির তালিকাভুক্ত জিটুজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ যেহেতু বৃহৎ পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান এবং এলপিজিসহ বিভিন্ন ধরনের পেট্রোলিয়াম জ্বালানি উৎপাদন ও সরবরাহে সক্ষম, সেহেতু উক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের নিকট হতে কোটেশন আহবানের মাধ্যমে এলপিজি আমদানির সম্ভাব্যতা যাচাই করা যেতে পারে।

আন্তর্জাতিক বাজারে বিদ্যমান অন্যান্য সম্ভাব্য উৎসও যাচাইবাছাই করে সর্বোত্তম উৎস নির্বাচন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে চিঠিতে। এক্ষেত্রে আমদানির জন্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের নীতিগত অনুমোদন চাওয়া হয় বিপিসির তরফে।

রান্নার কাজে ব্যবহার হওয়া এলপিজি সিলিন্ডার নিয়ে দেশের বাজারে সংকট চলছে এক মাসের বেশি সময় ধরে। পরিমাণভেদে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩৫০ থেকে হাজার টাকাও বেড়েছে। সংকটের বিষয়টি সামনে আসার পর শুল্কে ছাড়, আমদানি সহজ করতে বাকিতে আমদানির সুযোগ, আমদানির কোটা বাড়ানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। তবে শিগগিরই সংকট কাটার আভাস মিলছে না।

সরকার এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দিলেও সেই দরে বাজারে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। বাড়তি দামেও চাহিদা অনুযায়ী এলপিজি মিলছে না কোথাও কোথাও। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। মাসখানেক ধরে শুরু হওয়া সরবরাহ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে কয়েক দিন আগে। সঙ্গে যোগ হয়েছে তিতাস গ্যাসের পাইপলাইনে ফাটলের কারণে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ঢাকার একটি বড় অংশে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআইনজীবী আলিফ হত্যা মামলায় চার্জগঠনের শুনানি ১৯ জানুয়ারি
পরবর্তী নিবন্ধবিজিবিতে সৈনিক হিসেবে শপথ নিলেন ফেলানীর ছোট ভাই আরফান