মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও দেশে জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালী পার হয়ে আসা জাহাজগুলো ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে। গতকাল কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নিয়ে চতুর্থ চালানবাহী একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। একই দিনে মালয়েশিয়া থেকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে আরও একটি জাহাজ বন্দরে ভিড়ে। আজ বৃহস্পতিবার এবং আগামী শনিবার এলএনজি এবং ডিজেল নিয়ে আরো দুইটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছাবে। চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে জ্বালানি তেল ও গ্যাস আমদানি পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) ক্যাপ্টেন আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, সামপ্রতিক সময়ে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি নিয়ে মোট ১৮টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে। এর মধ্যে আটটি জাহাজ ইতোমধ্যে খালাস শেষ করে বন্দর ত্যাগ করেছে। বর্তমানে ছয়টি জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাস কার্যক্রম চলছে।
সূত্র জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রেখেছে। ফলে দেশে তাৎক্ষণিক কোনো জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা নেই। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলেও এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়নি। পাইপলাইনে থাকা জাহাজগুলো নির্ধারিত সময়ে পৌঁছালে সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা। ক্যাপ্টেন আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকেও জ্বালানিবাহী জাহাজ দ্রুত খালাসে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, কন্টেনার ডিপো ও লাইটারেজ জাহাজে ডিজেল সরবরাহ এবং চাহিদা–সংক্রান্ত তথ্য বিপিসির কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলকে জানানো হয়েছে। বিপিসি একদিকে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নিচ্ছে, অন্যদিকে পাইপলাইনে থাকা জাহাজগুলো দ্রুত দেশে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ এবং জনসচেতনতা বজায় থাকলে সম্ভাব্য যেকোনো জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।












