এমএফএস প্রতারণা ঠেকাতে পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার

জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে মোবাইল সিম নিবন্ধন যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ

| মঙ্গলবার , ৭ এপ্রিল, ২০২৬ at ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ

মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা এমএফএসে প্রতারণা ঠেকাতে গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে মোবাইল সিম নিবন্ধন যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের মধ্যে এ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে ঢাকা১৮ আসনের এমপি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে একটি এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের অধীনে একটিমাত্র মোবাইল হিসাব খোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেজন্য হিসাব খোলার সময় গ্রাহকের মোবাইল নম্বরটি তার নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রে নিবন্ধিত আছে কি না, তা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিটিআরসি নীতিগত সম্মতি দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখন সংস্থাটির প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার কেনা শেষ হলে এ ব্যবস্থা চালু করা হবে। খবর বিডিনিউজের।

আমির খসরু বলেন, বাংলাদেশে জনপ্রিয় ও সহজ পরিশোধ ব্যবস্থা হিসেবে এমএফএস খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ ব্যবস্থা পদ্ধতিগতভাবে নিরাপদ হলেও ব্যবহারের ক্ষেত্রে নানা ঝুঁকি রয়েছে। গ্রাহকেরা নিজেরাই অনেক সময় হিসাবের গোপন পাসওয়ার্ড শেয়ার করেন। প্রতারক চক্র ডিভাইস হ্যাকিংসহ নতুন নতুন কৌশলে মানুষকে প্রতারণার শিকার করছে। এ অবস্থায় সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক নিরাপত্তা নিশ্চিত ও প্রতারণা রোধে তৎপর রয়েছে। গ্রাহক সচেতনতা বাড়াতে এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে খুদে বার্তা, ভয়েস মেসেজ, ইমেইল, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সতর্কতামূলক প্রচার চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এজেন্ট তদারকি জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব এজেন্ট হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেন দেখা যাবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

গ্রাহকদের পাঠানো অভিযোগ ‘কেস টু কেস’ ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অভিযোগ সেলের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয় বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এছাড়া গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান চালানোর কথাও বলেন তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ঝুঁকি মূল্যায়নে নিয়মিত পরিদর্শন চালায় বলে সংসদে বলেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এমএফএস ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে পাঠায়। এর ভিত্তিতে ইউনিটটি আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এজেন্ট তদারকি জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব এজেন্ট হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেন দেখা যাবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। অনলাইন ব্যাংকিংয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেবা দেওয়া সব ব্যাংকে ‘টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন’ বা দুই স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু আছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

পূর্ববর্তী নিবন্ধজনগণের টাকায় শিক্ষকদের বেতন হয়, অনিয়ম করলে ব্যবস্থা : শিক্ষামন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধআওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতায় হামের প্রাদুর্ভাব : স্বাস্থ্যমন্ত্রী