এবার দেশীয় হাতে বোনা টুপির কদর বেশি

মোরশেদ তালুকদার | শনিবার , ১৪ মার্চ, ২০২৬ at ৫:৩১ পূর্বাহ্ণ

সুগন্ধি আতরের মিষ্টি ঘ্রাণ এবং নান্দনিক নকশার টুপি; ঈদ উদযাপনে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে হাজির হয়ে মহান রবের কৃতজ্ঞতায় সালাত আদায়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ঈদ উদযাপন। নামাজের আগে মাথায় পরিপাটি টুপি এবং গায়ে আতর সৌরভ যেন ঈদের সৌন্দর্যের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই তো প্রতিবছর ঈদ ঘনিয়ে এলে সবাই ভিড় করেন আতরটুপির দোকানে। ব্যতিক্রম নয় এবারও।

আজ ২৪ রমজান। ঈদের বাকি আছে ৫ বা ৬ দিন। অন্যান্য কেনাকেটা প্রায় শেষ। তাই এবার রোজাদাররা কিনছেন ঈদ উদযাপনের অন্যতম অনুষঙ্গ আতর ও টুপি। যেন দুইয়ের কেনাকাটা ঈদের প্রস্তুতিতে যোগ করেছে আনন্দ, উচ্ছ্বাস এবং দিচ্ছে আধ্যাত্মিকতার ছোঁয়া। কারও পছন্দ হালকা ফুলের গন্ধ, কারও আবার গাঢ় ঘ্রাণের আতর। টুপির পছন্দও নানারকমসাদা, কালো কিংবা নকশাদার। নিজেদের রুচি অনুযায়ী বাছাই করছেন তারা। বিক্রেতারা জানিয়েছেন আতরটুপির বেচাকেনা ২০ রমজানের পর থেকে বেড়েছে।

ক্রেতারা বলছেন, আতরটুপি কিনতে তাদের খুব বেশি বেগ পেতে হচ্ছে না। কারণ আতর ও টুপি একই দোকানে বিক্রি হয়। নগরে আতরটুপি বিকিকিনির জন্য অধিক পরিচিত আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ মার্কেট। রিয়াজুদ্দিন বাজারেও রয়েছে অনেক দোকান। আছে চকবাজারেও। এছাড়া রাস্তাঘাটেও অনেকে ফেরি করে বিক্রি করেন টুপি। ফুটপাতেও বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে শহরের প্রসিদ্ধ মসজদিগুলোর সামনে টুপির পসরা সাজিয়ে বসেন অনেকে।

টুপির দোকান ঘুরে দেখা গেছে, শত শত ডিজাইনের টুপি পাওয়া যাচ্ছে। আছে দেশিবিদেশিও। তবে এবার কদর বেশি দেশিয় তৈরি হাতেবোনা টুপির। দোকানিরা জানিয়েছেন, একসময় হাতেবোনা টুপির মধ্যে ছিল কেবল সাদা রঙের ‘জালিটুপি’। বর্তমানে এসব টুপিগুলোর ডিজাইন ও রঙে বৈচিত্র্য আনা হয়েছে। সাথে মানও বেড়েছে। আবার ইন্দোনেশিয়ান হাতেবোনা টুপির আদলেও দেশিয় হাতেবোনা টুপি কপি করা হচ্ছে। ফলে ডিজাইনের বৈচিত্র্যের কারণে এবার কদর বেড়েছে দেশিয় হাতেবোনা টুপির। হাতেবোনা টুপি ১০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন দোকানে।

এছাড়া নগরের বিভিন্ন টুপি ও আতরের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, বিক্রি হওয়া টুপির মধ্যে আছে বাংলাদেশে তৈরি নেপালি, পাকিস্তানি, ইন্দোনেশিয়ান ভিআইপি, পাকিস্তানি কাশ্মীরি হ্যান্ডমেইড ডিজাইন টুপির রেপ্লিকা। দেশিয় তৈরি টুপির মধ্যে বাংলা খেজুর পাতা ডিজাইন, বাংলা ভিআইপি টুপি, বাংলা চুমকি উঁচু টুপি। ঝিকঝাক টুপিও আছে বিভিন্ন দোকানে।

টুপি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, একসময় ভারতীয় টুপিরও কদর ছিল। কিন্তু গত বছর থেকে ভারতীয় টুপি চাহিদার তুলনায় কম আসছে। এবছর তার্কিশ টুপি, চায়নিজ টুপি, মালয়েশিয়ান টুপি, পাকিস্তানি কাশ্মীরি টুপি এবং আফগানি পাগড়ী ও টুপি আসছে। আমদানি হওয়া আরো টুপির মধ্যে আছে মালয়েশিয়ান, গুজরাটি, তাজিকিস্তান, স্টার আফগানি টুপি। এছাড়া রয়েছে আব্বাসী, ফিরোজি ও নুরানী টুপি, পাকিস্তানি হাতে বানানো, পাকিস্তানি নরমাল টুপি, পাকিস্তানি গর্জিয়াস, ইন্ডিয়ান বগিস, ইন্ডিয়ান মুম্বাই টুপি, গুজরাটি, ইন্দোনেশিয়ান টুপি, তার্কিস টুপি, রুমি ক্যাপ, অটোম্যান টুপি, হাতে তৈরি কাশ্মীরি ডিজাইন, বগিস।

এর মধ্যে তার্কিশ টুপি বিক্রি হচ্ছে ৫০০৬০০ টাকায়, চায়না টুপি ২০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা, কাশ্মিরী টুপি ৬০০ টাকা থেকে ১৪০০ টাকা, আফগানি টুপি ৪০০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা, আফগানি পাগড়ী এক হাজার টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। পাকিস্তানি টুপি ১৫০ টাকা ১৫০০ টাকায়ও পাওয়া যাচ্ছে।

চকবাজারের গুলজার টাওয়ারের আয়াত স্টোরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা লোকমান হোসেন আজাদীকে বলেন, এবার হাতেবোনা টুপির চাহিদা বেড়েছে। চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ও হাটহাজারী, বগুড়া, ময়মনসিংহ, বরিশাল; এসব অঞ্চল থেকে হাতেবোনা টুপি আসছে। এগুলো বিদেশে রপ্তানি হয়, আবার দেশেও প্রচুর চাহিদা তৈরি হয়েছে। এসব টুপি বেশ ভালো চলছে।

এদিকে এবার ঈদের নামাজ পড়ার জন্য অনেকের মধ্যে জুব্বা কেনার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যারা জুব্বা কিনছেন তারা জুব্বার সঙ্গে পরার জন্য কিনছেন হাজী রুমাল। দেশে তৈরি এসব রুমাল ৪০০৫০০টা টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবার সৌদি আরব থেকে আসা এ ধরনের রুমাল ১৪০০ টাকা থেকে ৬ হাজার টাকা দামেও বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে আতরের দোকানগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে পৃথিবীর বিভিন্ন নামিদামি ব্রান্ডের আতর। স্প্রে করা যায় এমন আতরও কিনছেন তরুণরা। কাবার গিলাপে ব্যবহার করে এমন আতরের কদর এবার বেশি বলে জানা গেছে। এছাড়া বিক্রির তালিকায় আছে বাংলাদেশের সিলেট থেকে আসা অর্গানিক অয়েল বা আতর। যেটা সিলেটি উদ নামেও পরিচিত। পাশাপাশি ভারতের আজমল ব্রান্ড এবং আল হারমাইন ব্রান্ডের আতর। সুরাতি, আমীর আল উদ, এসআচ আল আরাবিয়া, দালাল, সুলতান, মাস্কাল কাবা, নাফা কাস্তুরী, সুইটস মাসকাল তাহারা, উদ, আবদুস সামাদ কোরাইশী, শাফাঘ উদ, জান্নাতুল ফেরদৌস, আমির আল কুয়াদিরাজা’সহ বিভিন্ন নামের আতর বিক্রি হচ্ছে।

আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ মার্কেটের একটি আতরের দোকানের বিক্রয় কর্মী জানান, গত দুয়েকদিন ধরে আতরের বিকিকিনি বেড়েছে। রিয়াজুদ্দিন বাজারের একটি দোকানের বিক্রয় কর্মী রাশেদ জানান, সব ধরনের ক্রেতার কথা বিবেচনা করে মানভেদে আতরের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্পোরেট, সফট মিষ্টি এবং আকর্ষণীয় ঘ্রাণের আতর আছে। আছে অর্গানিক কালেকশনও।

এসময় কাদের নামে এক ক্রেতা বলেন, ঈদের নামাজে নতুন টুপি না হলে ভালো লাগে না। তাই নিজের এবং ভাইয়ের জন্য টুপি কিনলাম। সাথে আতরও।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকৌতুক কণিকা
পরবর্তী নিবন্ধশাহ আমানতে চারটি ফ্লাইট বাতিল