এবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি

আজাদী প্রতিবেদন  | বৃহস্পতিবার , ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৭:২৩ পূর্বাহ্ণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরপরই ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে ইসির কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য চিঠি এসেছে। বিষয়টি কমিশনের সভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের পাঠানো পৃথক দুই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২০ সালের ২ জুন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সে অনুযায়ী গত বছরের ১ জুন এই সিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। আর ২০২০ সালের ৩ জুন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়, যার মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ২ জুন। এছাড়া ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়; সে হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ শেষ হয় গত ২২ ফেব্রুয়ারি।

স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন অনুযায়ী, প্রথম সভার তারিখ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর একটি সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ গণনা করা হয়। মেয়াদ পূর্তির পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে আলোকে তিন সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন আয়োজনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের বিষয়ে আমাদের কাছে চিঠি এসেছে, আমরা কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করব। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি। এ সংক্রান্ত আইনগত বিধিবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দ্রুতই তফসিল ঘোষণার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা। পহেলা বৈশাখের আগেই যেন ধাপে ধাপে সবকিছু সম্পন্ন করা যায়, সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ঈদের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করা হবে। সারা বছরব্যাপী নির্বাচন কার্যক্রম চলবে।

এদিকে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন দলীয় নাকি নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে, সে সিদ্ধান্তের জন্য সংসদের দিকে তাকিয়ে আছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)

সদ্য বিলুপ্ত অন্তর্বর্তী সরকার স্থানীয় নির্বাচন পূর্বের মতো নির্দলীয়ভাবে সম্পন্ন করার অধ্যাদেশ করেছে। তবে সেটি সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাশ হতে হবে। এরপর কমিশন আবার বিধিমালা তৈরি করবে।

আগামী ১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশনে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন কোন মাধ্যমে হবে (দলীয় প্রতীকে হবে নাকি নির্দলীয়ভাবে) সেটা নির্ধারণ হওয়ার পরপরই নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনসহ দেশের যেসব সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে সেগুলোর তফসিল (মেয়র ও কাউন্সিলর পদ শূণ্য ঘোষণা করে) ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ব্যবহার নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আমার জানা মতে, অন্তর্বর্তী সরকার অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে মেয়র প্রার্থী পদে দলীয় মনোনয়নের বিষয়টি বাদ দিয়েছে। এখন সংসদ বসবে। সংসদ বসার পর এই বিল বা অর্ডিন্যান্স যদি অনুমোদন হয়, তবে সেভাবেই নির্বাচন হবে। আর যদি পরিবর্তন হয়ে আগের অবস্থায় ফিরে যায়, তবে অন্যরকম হবে। আমরা মূলত সংসদ অধিবেশনের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছি।

এদিকে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনসহ দেশের ছয়টি সিটি কর্পোরেশনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফলিস ঘোষণার আগ পর্যন্ত বর্তমান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গেছে।

এদিকে নির্বাচন কমিশন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করায় সবার দৃষ্টি এখন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের দিকে। বিশেষ করে মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীদের নানামুখী তৎপরতা দেখা যাচ্ছে।

ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীন দল বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য মেয়র এবং কাউন্সিলর প্রার্থীরা এলাকায় এলাকায় তাদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় নানান কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি জানান দিচ্ছেন। অনেকেই নিজেদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ইতোমধ্যে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র, সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের জন্য পৃথক তিনটি ব্যালট পেপার থাকবে। সদ্য সম্পন্ন হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম মহানগরীর সংসদীয় আসনগুলোতে (চট্টগ্রাম সিটি এলাকায়) ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা যত ছিলসিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তার চেয়ে বাড়বে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। চসিকের গত নির্বাচনে মোট ২৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এদের মধ্যে মেয়র পদে ৭ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৭১ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৫৭ জন।

প্রথমবারের মতো ইভিএমে অনুষ্ঠিত নগরীর ৪১ ওয়ার্ডের ৭৩৫টি কেন্দ্রে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। তখন নগরীতে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ৯২ হাজার ৩৩ জন এবং নারী ভোটার ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৬৭৩ জন। ওই সময়ের নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৫৪৩টি। ভোট গ্রহণের হার ছিল ২২ দশমিক ৫২ শতাংশ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধহালাল উপায়ে ব্যবসা করা প্রিয় নবীর (দ.) সুন্নাত
পরবর্তী নিবন্ধআটকে যাওয়া প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে