এবার চাহিদা নেই, তবু দাম চড়া ইলিশের

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ১৪ এপ্রিল, ২০২২ at ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ

বৈশাখ বরণের অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে উঠা পান্তা ইলিশের তোড়জোড় নেই এবার। বাজারের ইলিশের বিকিকিনিও নেই তেমন একটা। দামেও নেই বৈশাখের প্রভাব। রোজার দিনে ক্রেতার সংখ্যাও অনেক কম। ইলিশের ক্রেতা স্বাভাবিক অবস্থার চেয়েও কমে গেছে। তবে অন্যান্য মাছের মত ইলিশও বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। করোনাকালের আগে প্রতি বছর পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে ইলিশের বাজারে আগুন লাগতো। পান্তা ইলিশের তোড়জোড় চলতো ঘরে ঘরে, ক্লাবে, রেস্টুরেন্টে। এতে করে ইলিশের চাহিদা বেড়ে বিক্রি হত সোনার দামে। অনেক সময় টাকা দিয়েও ইলিশ জুটানো কঠিন হতো। পহেলা বৈশাখের অন্তত এক সপ্তাহ আগে থেকে ইলিশ নিয়ে মাতামাতি এবং দাম বৃদ্ধির ঘটনা ঘটতো। করোনার দুই বছরে ইলিশ কিংবা পান্তা উৎসবের সুযোগ ছিল না। এতে করে ইলিশ নিয়ে গত দুই বছরও তেমন তোড়জোড় ছিল না। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় এবার ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বর্ষবরণ হতে যাচ্ছে। কিন্তু রোজা থাকায় সকালের পান্তা ইলিশ খাওয়ার সুযোগ নেই। নেই কোথাও পান্তা ইলিশের আয়োজন। এর প্রভাব পড়েছে বাজারে। ইলিশের কোনো ক্রেতা নেই বললেই চলে। বাজারে সরবরাহ যেমন কম, ক্রেতাও হাতেগোনা। এতে করে হতাশ মাছ ব্যবসায়ীরা।
তারা বলেছেন, বৈশাখে ইলিশ বিক্রি করে কিছু ব্যবসা হত। এবার তা শূন্যের কোটায়। বেশি কাঁটার মাছ হিসেবে রোজায় এমনিতেই ইলিশের কোনো ক্রেতা থাকে না উল্লেখ করে ব্যবসায়ীরা বলেন, সেহেরিতে মানুষ মাছ খেতে চান না। কাঁটা বেছে ইলিশ খেতে বাড়তি সময় লাগে। সেহেরির তাড়াহুড়োতে ইলিশ বেছে বেছে খাওয়া রোজাদারদের জন্য বেশ কঠিন হয়ে উঠে। এতে করে ইলিশের ক্রেতা একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে।
গতকাল কাজীর দেউড়ি বাজারে শুধুমাত্র দুইজন ব্যবসায়ীর কাছে ইলিশ দেখা গেছে। তবে কোনো ক্রেতা ছিল না। সোয়া কেজি ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ১৪শ থেকে ১৫শ টাকা এবং দেড় কেজি ওজনের ইলিশ ১৬শ টাকা দাম হাঁকা হচ্ছিল।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৪ জঙ্গির ফাঁসির রায়
পরবর্তী নিবন্ধহঠাৎ ট্রেন ধর্মঘট, অবর্ণনীয় দুর্ভোগ