১৯০৯ সাল, ১৩১৬ বাংলার ১২ বৈশাখ। লালদীঘির মাঠে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে যুবকদের সম্পৃক্ত করতে বদরপাতি এলাকার তৎকালীন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার চৌধুরী প্রচলন করেছিলেন জব্বারের বলী খেলার। কালের বিবর্তনে সে বলী খেলা পরিণত হয় বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ঐতিহ্যে। ১৯০৯ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে জব্বারের বলী খেলার ১১০টি আসর। এরপর প্রথম ধাক্কা খায় এই বলী খেলা করোনা মহামারীর কারণে। ২০২০ এবং ২০২১ এই দুটি আসর আয়োজিত হতে পারেনি করোনার কারণে।
তবে এবারে সব পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় জব্বারের বলী খেলার ১১৩ তম আসর আয়োজনের সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিল আয়োজকরা। কিন্তু তাদের সে স্বপ্নে বড় ধাক্কা দিয়েছে মাঠ সংকট। যে মাঠে এই বলী খেলা অনুষ্ঠিত হয় সে লালদীঘি মাঠ এখনো উন্মুক্ত নয়। তাই গতকাল চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জব্বারের বলী খেলার এবারের আসর স্থগিত ঘোষণা করে আয়োজক কমিটি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল হোসেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান যেহেতু লালদীঘির মাঠ এখন সংস্কার কাজের মধ্যে রয়েছে সেহেতু এই মুহূর্তে সে মাঠে বলী খেলা আয়োজন করা সম্ভব নয়। ঐতিহাসিক ছয় দফা ঘোষণা করা হয়েছিল এই লালদীঘি মাঠ থেকে। তাই এই মাঠের চার পাশে সে ছয় দফার ম্যুরাল স্থাপন করা হচ্ছে। আর মাঠটিকে সাজানো হচ্ছে নতুনভাবে।
সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা জানান, আমরা চিন্তা করেছিলাম যদি মাঠটি তৈরি হয়ে যায় তাহলে এবারে ১২ বৈশাখ জব্বারের বলী খেলা আয়াজন করা হবে। কিন্তু মাঠের অনুমতি মেলেনি। যেহেতু মাঠের কাজ এখনো শেষ হয়নি। তাছাড়া যেহেতু জব্বারের বলী খেলার নির্ধারিত তারিখ ১২ বৈশাখ সেহেতু অন্য কোন তারিখেও এটা আয়োজন করা সম্ভব নয়। তাই ইচ্ছা থাকা সত্বেও এবারের জব্বারের বলী খেলা আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না মাঠ সংকটের কারণে।
লালদীঘি মাঠ বলা হলেও মাঠটি মূলত মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের। দীর্ঘ দিন ধরে জব্বারের বলী খেলা ছাড়াও এই মাঠে নানা খেলাধুলা আয়োজন করা হয়ে থাকে। স্কুলের ছেলেরা খেলাধুলা করে থাকে। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কারের নামে বন্ধ হয়ে আছে ঐতিহ্যবাহী এই মাঠটি। এরই মধ্যে একবার নির্মাণাধীন ম্যুরাল ভেঙেও পড়েছিল। এখন কবে নাগাদ এই মাঠ আবার সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হবে, আর উন্মুক্ত হলেও সর্বসাধারণ কতটা এই মাঠ ব্যবহার করতে পারবে সেটাও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ মাঠে যে ঘাস লাগানো হচ্ছে তাতে বেশি মানুষ হাঁটা চলা করলেও নষ্ট হয়ে যাবে। তাই এখন দেখার বিষয় কবে এই মাঠ উন্মুক্ত হয় আর সর্বসাধারণ ব্যবহার করতে পারে ।
এদিকে দুই বছর পর আবার জব্বারের বলীখেলা এবং বৈশাখী মেলা আয়োজিত হবে সে আশায় বুক বেধেছিল চট্টগ্রামসহ সারা দেশের মানুষ। কারণ এই বলী খেলাকে ঘিরে যে বিশাল মেলা বসে তাতে নানা নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের সমাবেশ ঘটে। যার জন্য অপেক্ষা করে থাকে নগরবাসীসহ চট্টগ্রামের মানুষ। কারণ এটা একটা ঐতিহ্য। তবে এবারে তাই হতাশ হতে হচ্ছে চট্টগ্রামের মানুষকে। জব্বারের বলী খেলার বিগত ১১০ বছরের পথ চলায় রমজানেও অনুষ্ঠিত হয়েছে খেলা। এমনকি ঈদের দিনও এই জব্বারের বলী খেলা আয়োজিত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে।
কিন্তু দুই বছরের অনাকাঙ্ক্ষিত বিরতির পর এবারের আসরটি আর বসছে না। ফলে হতাশা নিয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে পরের আসরের জন্য। গতকালের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জব্বারের বলী খেলা কমিটির চেয়ারম্যান জহর লাল হাজারী, সহ সভাপতি চৌধুরী ফরিদ, সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার বাদল, সাবেক কমিশনার জামাল হোসেন, এ এস এম জাফর এবং আনোয়ার চঞ্চল।













