এপিলেপ্সি ক্লিনিকে সেবা পাচ্ছেন মৃগী রোগীরা

চমেক হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগেই হচ্ছে রোগ নির্ণয়ের ইইজি পরীক্ষা আজ বিশ্ব মৃগী রোগ দিবস

জাহেদুল কবির | সোমবার , ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ

আজ বিশ্ব মৃগী রোগ দিবস। আমাদের দেশে মৃগী রোগ নিয়ে সমাজে অনেক কুসংস্কার প্রচলিত আছে। শুধুমাত্র রোগের ইতিহাস এবং খিচুনির ভিডিও দেখে কোনো রকম দামী পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই মৃগী রোগ নির্ণয় করা সম্ভব। কিন্তু গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ মৃগী রোগীকে জ্বিনভূতে ধরেছে এমন কুসংস্কার বিশ্বাস করে বৈদ্যকবিরাজের কাছে ছুটেন। চিকিৎসকরা বলছেন, সাধারণত মৃগী রোগীর খিঁচুনি এক থেকে দুই মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হয়। তবে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে পাঁচ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হয়। খিঁচুনির সময় রোগী যেহেতু অজ্ঞান হয়ে যায়, তাই প্রথম কাজ হচ্ছে, নিরাপদ স্থানে রোগীকে সরিয়ে নিতে হবে। মাথার নিচে ভাঁজ করে কাপড় দিতে হবে, যাতে মাথায় আঘাত না লাগে। এছাড়া চশমা থাকলে খুলে ফেলতে হবে। পরনের আঁটসাঁট পোশাক ঢিলে করে দিতে হবে এবং রোগীকে এক পাশে কাত করে শোয়াতে হবে। প্রথমবার খিঁচুনি হলে সাধারণত চিকিৎসকরা ওষুধ দেন না। দ্বিতীয়বার খিঁচুনি হলে ইলেক্ট্রোএনসাফালোগ্রাফি (ইইজি), সিটি স্ক্যান অথবা এমআরআই পরীক্ষায় অস্বাভাবিকতা দেখা গেলে ওষুধ দেন। তবে ওষুধ শুরুর আগে রোগীকে তার রোগ সম্পর্কে জানানো উচিত। কারণ এই রোগ নিয়ে অনেকের বিভিন্ন ধরনের কুসংস্কার রয়েছে। রোগীকে বোঝাতে হবে এটি একটি স্বাভাবিক রোগ। শুধুমাত্র নিয়মিত ওষুধ খেয়ে ৯০ শতাংশ রোগী ভালো থাকে। ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে ২ থেকে ৫ বছর ওষুধ খেয়ে রোগমুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে।

এদিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২৫ সালে মৃগী এবং খিঁচুনি সংক্রান্ত রোগের আক্রান্ত হয়ে নিউরোলজি ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন ৮০০ রোগী। এছাড়া নিউরোলজি বিভাগে প্রতি রোববারের এপিলেপ্সি ক্লিনিকে বহির্বিভাগের ভিত্তিতে ৩৫০ জন মৃগী রোগী সেবা নিয়েছেন। তবে নিউরোলজি ওয়ার্ডে স্থান সংকুলানের অভাবে এপিলেপ্সি বা মৃগী ব্লক অথবা ইউনিট করা সম্ভব হয়নি। অপরদিকে বর্তমানে মৃগী রোগীদের রোগ নির্ণয়ের অন্যতম ইইজি নিউরোলজি বিভাগেই করা হচ্ছে। গত বছর দুই শতাধিক রোগীর ইইজি করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ মানুষ মৃগীরোগে আক্রান্ত। ৭০৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে মৃগীরোগ শুরু হয় শিশু বয়সে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এ রোগ বেশি হয়। উন্নত দেশগুলোতে খুব কম। জন্মের সময় নানা ধরনের সমস্যার কারণে মূলত মৃগীরোগ হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, জন্মের পর শিশু কান্না করে না বা কান্না করতে দেরি হয়, অঙিজেনের অভাব হওয়া, ব্রেনে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া, জন্মের সময় বেশি আকারে জন্ডিস অথবা জন্মের সময় খিঁচুনির কারণেও পরবর্তীতে শিশুর মৃগীরোগ দেখা দেয়। খিঁচুনি হলেই সেটি মৃগী রোগ নয়। অন্য কোনো সমস্যার কারণেও মাঝেমধ্যে খিঁচুনি হতে পারে। মৃগী রোগীর খিঁচুনি অল্প সময়ের জন্য হয়। এর আগে বা পরে রোগী স্বাভাবিক থাকে। এ রোগীকে স্বাভাবিক সময় দেখে বোঝা সম্ভব নয় যে রোগী মৃগী রোগে আক্রান্ত। মৃগীরোগীর খিঁচুনির ঘটনা দেখামাত্র মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে রাখাটা জরুরি। মৃগীরোগের সঙ্গে অনেক রোগের সাদৃশ্য থাকে। সেসব থেকে মৃগীরোগকে আলাদা করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে ধারণ করা ভিডিও বড় ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ রোগের ভিন্নতায় চিকিৎসাও সম্পূর্ণ বদলে যায়। মৃগী রোগের চিকিৎসায় খুব বেশি ওষুধ প্রয়োজন হয় না। ৭০ শতাংশ লোক কেবল এক ধরনের ওষুধ নিয়েই সুস্থভাবে জীবন যাপন করেন। আমাদের দেশে অনেক ভ্রান্ত ধারণা আছে যে মৃগী রোগ কখনো ভালো হয় না। এ ধারণা দূর করা প্রয়োজন।

চমেক হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. হাসানুজ্জামান বলেন, পরিবারের কারো মৃগী রোগের উপসর্গ দেখা দিলে বৈদ্য কিংবা কবিরাজের অপচিকিৎসা না নিয়ে দ্রুত পার্শ্ববর্তী স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ কিংবা মেডিকেলে নিয়ে যেতে হবে। মৃগীরোগে আক্রান্ত নারীরা গর্ভধারণের আগে ও গর্ভকালীন নিউরোলজি বিশেষজ্ঞের পরামর্শে নিয়মিত ওষুধ সেবন করে সুস্থ থাকতে পারবেন এবং সুস্থ বাচ্চা জন্ম দিতে পারবেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনগরে ১১ দলের উদ্যোগে গণভোটে হ্যাঁ’র পক্ষে রোড শো
পরবর্তী নিবন্ধযুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি আজ, শুল্ক কমার আশা