জরায়ুমুখ ক্যান্সার সচেতনতা মাস উপলক্ষে চট্টগ্রামের ১ম ও একমাত্র টানা তিন বারের আইএসও এক্রিডিটেশন প্রাপ্ত ল্যাবরেটরি এপিক হেলথ কেয়ারের আয়োজনে চমেক মেইন গেইট শাখার সম্মেলন কক্ষে একটি বিশেষ গোল টেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
“স্ক্রিন, প্রিভেন্ট এন্ড প্রোটেক্ট; এ রাউন্ড টেবিল ডিসকাশন অন সার্ভিকাল হেলথ” শীর্ষক এই আলোচনায় জরায়ুমুখ ক্যান্সার বিষয়ে সচেতনতা, আগাম শনাক্তকরণ, উপসর্গ ও সঠিক রোগ নির্ণয়, প্রতিরোধ, চিকিৎসা পদ্ধতি, চিকিৎসা-ব্যয় ও বাস্তবতা, ও ফলো-আপের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এপিক হেলথ কেয়ারের এজিএম (মেডিকেল সার্ভিসেস) ডাঃ হামিদ হোছাইন আজাদ এর সঞ্চালনায় আলোচনায় সম্মানিত প্যানেলিস্টবৃন্দ হিসেবে অংশগ্রহণ করেন চমেক অবস ও গাইনী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপিকা (প্রাক্তন) ডা. রওনক জাহান, সহকারী অধ্যাপিকা ডা. নার্গিস আক্তার সিদ্দিকী ও ডা. নার্গিস সুলতানা, চমেক রেডিওথেরাপি বিভাগের সহকারী অধ্যাপিকা ডা. ফাহমিদা আলম, রেসিডেন্ট সার্জন ডা. ফজলে রব্বী রিয়াদ, কনসাল্টেন্ট অনকোলজিস্ট ডা. জান্নাতুন নিছা ও এপিক হেলথ কেয়ারের কনসাল্টেন্ট (প্যাথলজি) ডাঃ রুমানা মাহমুদ।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, জরায়ুমুখ ক্যান্সার একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ হলেও সচেতনতার অভাবে এখনো বহু নারী দেরিতে রোগ নির্ণয়ের শিকার হচ্ছেন। নিয়মিত স্ক্রিনিং, প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে ধারণা এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে এই ক্যান্সার প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। আলোচনায় জরায়ুমুখ ক্যান্সারের উপসর্গ ও সঠিক রোগ নির্ণয়ের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি আগাম শনাক্তকরণ ও ফলো-আপে ল্যাব ডায়াগনোসিসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে জরায়ুমুখ ক্যান্সারের চিকিৎসা কার্যকরভাবে সম্ভব এবং রোগীদের সুস্থ জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এ ক্ষেত্রে অযথা ভয় ও ভুল ধারণা দূর করা অত্যন্ত জরুরি বলে মত দেন তারা।
এছাড়া আলোচনায় জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকাদান, নিয়মিত স্ক্রিনিং এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবনধারার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এইচপিভি ভ্যাকসিনকে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি শিডিউলে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন বক্তারা, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই ক্যান্সার থেকে সুরক্ষিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবার ও সমাজে নারীর সুরক্ষায় পুরুষদের ইতিবাচক ভূমিকার কথাও আলোচনায় উঠে আসে।
বক্তারা সম্মিলিতভাবে বলেন, সচেতনতা, আগাম শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা—এই তিনটি বিষয়ই জরায়ুমুখ ক্যান্সার মোকাবিলার মূল চাবিকাঠি।
গোল টেবিল আলোচনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এপিক হেলথ কেয়ার এইচআর এন্ড এডমিন বিভাগের ডাইরেক্টর তহমিনা মরিয়ম, সেলস এন্ড মার্কেটিং বিভাগের এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর টি এম হান্নান, ডাইরেক্টর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট মোঃ জসীম উদ্দীন, ডাইরেক্টর অপারেশন্স ডাঃ আব্দুর রাজ্জাক খান, ডিজিএম অপারেশন্স ডাঃ সোমেন পালিত, ডিজিএম (সেলস এন্ড মার্কেটিং) সুমন রঞ্জন ভৌমিক প্রমুখ।











