এনসিপির সমর্থনে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা জামায়াত প্রার্থীর

চট্টগ্রাম-৮ আসন । মাঠে না থাকলেও ব্যালটে থাকবেন

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৬:২৩ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম৮ আসনটি (চান্দগাঁও, বোয়ালখালী ও পাঁচলাইশ আংশিক) ১০ দলীয় জোটের শরীক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিএনসিপিকে ছেড়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল জামায়াতে ইসলামীর। কিন্তু দলটির প্রার্থী ডা. মো. আবু নাছের তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। তাই গতকাল তার নামে দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ বরাদ্দ দেন রিটার্নিং অফিসার। ফলে নির্বাচনের ব্যালটে প্রার্থীর নামে বরাদ্দকৃত মার্কা থেকে যাবে। অর্থাৎ অফিসিয়ালি নির্বাচনী মাঠে থাকবেন জামায়াতের প্রার্থী নাছের।

এদিকে প্রতীক বরাদ্দের পর গতকাল বিকেল ৩ টায় নগর জামায়াতের কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন থেকে জামায়াতের প্রার্থীর আসন পরিচালক ও নগর জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী ঘোষণা দেন, এনসিপি প্রার্থী জুবাইরুল হাসান আরিফকে সমর্থন দিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী ডা. আবু নাছের। এ অবস্থায় অনেকে মন্তব্য করছেন, ডা. নাছের নিবাচনী মাঠে না থাকলেও ভোটের লড়াইয়ে ঠিকই থাকবেন। কারণ নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকে না। ব্যালটে প্রার্থির নাম ও বরাদ্দকৃত মার্কা থেকেই যায়।

এদিকে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে অনুপস্থিত ছিলেন ডা. নাছের। এ বিষয়ে মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ডা. আবু নাসের অসুস্থ থাকায় নিজে উপস্থিত হতে পারেননি। ঢাকায় অবস্থান করায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন প্রত্যাহারও করতে পারেননি। তিনি বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তে জোটের ঐক্যের স্বার্থে এনসিপি প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে আবু নাছের আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিন উনার অনুপস্থিতিতে প্রত্যাহার করা যায়নি। জামায়াত সুশৃঙ্খল আদর্শিক সংগঠন। জামায়াত আমিরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের ভূমিকায় জোট গঠন হয়েছে। জোটের ঐক্যের স্বার্থে সংগঠনের সিদ্ধান্তটি জানিয়ে দিলাম। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আবু নাছের মাঠঘাট চষে বেড়িয়েছেন। গণমানুষের সঙ্গে এমনভাবে সম্পৃক্ত হয়েছেন, শুধু জামায়াত নয়, সাধারণ জনগণ, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ বিভিন্নপন্থি যারা আছেন, সবাই তাকে গ্রহণ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর নজরুল ইলাম ও দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক, দক্ষিণ জেলা এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ জাকারিয়া, বোয়ালখালী উপজেলা আমির খোরশেদুল আলম, বায়েজিদ থানা আমীর মাওলানা জাকির হোসেন।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে দশ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর ‘স্বেচ্ছাচারিতা’র প্রতিবাদে নগরের বহাদ্দারহাটে একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করেন দশ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোট চট্টগ্রাম অঞ্চল। এতে জাতীয় নাগরিক পার্টিএনসিপির মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ জানান, তিনিই ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী। তিনি এটাও বলেন, আমি খোঁজখবর নিয়েছি, আমার পক্ষ থেকে একটা ভুল বোঝাবুঝির হয়তো কারণ হয়েছে। আমি মনে করেছিলাম, ওনারা দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে এখানে ডাবলই একটা ইলেকশন করবেন। কিন্তু আমরা যখন আমাদের নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করেছি, নাহিদ ইসলাম, আসিফ সজীব ভূঁইয়ার সাথে আমরা যোগাযোগ করেছি, মনিরা শারমিন আমাদের নির্বাচন কমিটিতে আছেন উনাদের সাথে যোগাযোগ করেছি, জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলীয় জোটের সাথে যোগাযোগ করেছেন। উনারা বারবার একটা জিনিস এনসিওর করেছেন, যে চট্টগ্রাম৮ এ আমরা ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে থাকবো।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম৮ আসন গঠিত বোয়ালখালী উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশনের ৩ থেকে ৭ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ, জামায়াত ইসলামীর আবু নাছের, এনসিপি প্রার্থী মো. জোবাইরুল হাসান আরিফসহ সাত জন প্রার্থী ছিলেন। তাদের মধ্যে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ মঙ্গলবার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। এ আসনে এনসিপি প্রার্থী জোবাইরুল আরিফের প্রার্থিতা নিয়ে জামায়াত প্রার্থী আবু নাছের নির্বাচন কমিশনে চ্যালেঞ্জ করলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধজায়গা জমি নিয়ে মারামারি, প্রাণ গেল শিশুর
পরবর্তী নিবন্ধমসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিনদের জন্য গ্রেডভিত্তিক বেতন নির্ধারণ