শ্রমিক–কর্মচারীদের ডাকা ধর্মঘটে দুদিনের অচলাবস্থার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেছেন, এ আন্দোলনের পেছনে বিশেষ মহলের ইন্ধন আছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার। নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনাল (এনসিটি) নিয়ে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের ‘কিছুই করার নেই’ জানিয়ে তিনি বলেছেন, সরকার চুক্তি করলে বন্দর কর্তৃপক্ষ সেটা বাস্তবায়নে বাধ্য।
মোহাম্মদ ওমর ফারুক গতকাল রোববার দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, কর্মবিরতির মধ্যেও বন্দরে অপারেশনাল কার্যক্রম চলছে। আমাদের বন্দরে শনিবার প্রায় এক হাজার টিইইউএস কন্টেনার ডেলিভারি গেছে। আজকেও প্রায় ১৭০০ টিইইউএসের মতো ডেলিভারি যাবে, অ্যাসাইনমেন্ট আছে। কার্যক্রম চলমান আছে। ভেতরে সবগুলো জাহাজের কার্যক্রম চলমান আছে। ইয়ার্ডের কার্যক্রমও চলমান আছে। ডেলিভারির গাড়ি সকালের দিকে স্বাভাবিকভাবেই একটু কম প্রবেশ করে। বিকাল থেকে ডেলিভারি কার্যক্রম চলবে এবং যারা যারা ডেলিভারি নিতে আগ্রহী কিংবা ইউজার যারা আছেন তাদের আহ্বান জানাব যে, তারা যেন তাদের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে। আমাদের চট্টগ্রাম পোর্টে যারা আছেন, তারা সাত দিন ২৪ ঘণ্টা এখানে কাজ করেন। সব জায়গায় আমাদের লোকজন আছে।
তিনি বলেন, কেউ যদি বাইরে অপপ্রচার করে যে লোক নেই, কাজ নেই, ভেতরে যাবেন না। এগুলোতে কান না দেওয়ার জন্য আমরা অনুরোধ জানাব। কর্মবিরতি খুব একটা প্রভাব ফেলছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত তারা যে কর্মসূচি দিয়েছে সেটা আমরা ম্যানেজ করে যাচ্ছি। আমাদের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা ২৪ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছেন। শনিবার রাত অব্দি কাজ হয়েছে, ডেলিভারিও গেছে। আজকেও কাজ হবে। এক্ষেত্রে আমার মনে হয় না কর্মবিরতি খুব একটা প্রভাব ফেলছে। বন্দরের যে সকল ক্ষতি অভ্যন্তরে হচ্ছে, তাৎক্ষণিকভাবে ডেলিভারি না দেওয়ার কারণে বা ডেলিভারি কম দেওয়ার কারণে, সেই বিষয়গুলো দেখার জন্য এবং ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণের জন্য আমরা একটা কমিটি করেছি। সেই কমিটি ক্ষতির পরিমাণটা নির্ধারণ করবে।
মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, রমজানের আগে এ ধরনের আন্দোলন সঠিক হচ্ছে না। সামনে রমজান। আমরা এ বিষয়ে খুব কনসার্ন। যারা বহির্নোঙরে জাহাজকে আমদানি পণ্যের ভাসমান গুদাম বানিয়ে রেখেছে আমরা সেখানে অভিযান চালাচ্ছি। আজকেও অভিযান হয়েছে। এক সপ্তাহ আগেও অভিযান হয়েছে। আগামী দুয়েকদিনের মধ্যে আরো অভিযান হবে। আমরা চাই রমজানের আগে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল থাকুক। ভোক্তারা যেন কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন, সেটা নিশ্চিত করার চেষ্টা আমরা করি। তবে এসব কিছুকে সামনে রেখে এখানে কোনো বিশেষ মহল আমাদের কর্মচারীদের কোনো ইন্ধন দিচ্ছে কিনা, কোনো অবৈধ সুবিধা নেওয়ার পাঁয়তারা কেউ করছে কিনা, সেটা আমাদের একটু খেয়াল রাখতে হবে। কারণ আমরা চাই বন্দর সার্বক্ষণিকভাবে খোলা থাকুক। ভোক্তারা সঠিক রকম সেবা পাক এবং দ্রব্যমূল্য যেন স্থিতিশীল থাকে, বিশেষ করে রমজানের আগে। এ বিষয়টা সবাইকে বিবেচনায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।
চুক্তির আগেই আন্দোলন কেন? এ প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, চুক্তির বিষয়টা তড়িঘড়ির কোনো বিষয় না। পিপিপি অথরিটির মাধ্যমে এ কার্যক্রমটা হচ্ছে। পিপিপি গাইডলাইন অনুযায়ী এ কার্যক্রমটা চলমান আছে। এখনো পর্যন্ত চুক্তি হয়েছে এ রকম কোনো খবর কিন্তু আমরা জানি না। এ ধরনের কিছু হওয়ার আগে সবাই যে এ ধরনের একটা মুভমেন্টে যাচ্ছে, এটাতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই প্রভাব ফেলছে। আমরা মনে করি এটা সঠিক হচ্ছে না।
আন্দোলনকারীদের কয়েকজনকে বদলি প্রসঙ্গে ওমর ফারুক বলেন, বদলির বিষয়টি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এটা প্রশাসনিক কারণে এবং কাজের গতিশীলতার কারণে, দাপ্তরিক কারণে যে–কোনো সময় যে কাউকে বদলি করা যায়। এটা সেটারই একটা অংশ। বিষয়টা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। এরা জয়েন করেছে কিনা, সেটা যে স্পটে তাদের বদলি করা হয়েছে, সেখানে যিনি চার্জে আছেন, তার কাছ থেকে আমরা একটা রিপোর্ট নেব। তিনি আমাদের জানাবেন। সিদ্ধান্ত অমান্য করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এনসিটি ইজারার চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা হচ্ছে একটা সরকারি সিদ্ধান্ত। এটা পিপিপি অথরিটির মাধ্যমে পিপিপি গাইডলাইন অনুযায়ী হচ্ছে। আমরা এখানে সরকারি সিদ্ধান্ত পেলে সেটা বাস্তবায়নকারী মাত্র। সুতরাং সরকারি সিদ্ধান্ত যেভাবেই হোক চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সেটা বাস্তবায়ন করবে। চুক্তিটা হলে আপনারা জানবেন।












