এনসিটির ভাগ্য নির্ধারণ কাল

দেশি নাকি বিদেশি অপারেটর নিয়োগ রিটের চূড়ান্ত রায়ের দিকে দৃষ্টি বন্দর ও শিপিং সেক্টরের

হাসান আকবর | সোমবার , ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনালের (এনসিটি) ভাগ্য নির্ধারণ হতে যাচ্ছে কাল। আদালতের রায়ের পর চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় এই টার্মিনালটি বিদেশী অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে যাবে নাকি দেশীয় অপারেটর পরিচালনা করবে তা চূড়ান্ত হবে। চট্টগ্রাম বন্দর এবং শিপিং সেক্টরের সবার দৃষ্টি এখন আদালতের দিকে। সরকার এই টার্মিনালটি পরিচালনার দায়িত্ব সংযুক্ত আরব আমীরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেয়ার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছে। অপরদিকে বিভিন্ন সংগঠন সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতার পাশাপাশি আদালতে যায় বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরাম।সংগঠনটির সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনালে বিদেশী অপারেটর নিয়োগের বিরোধিতা করে আদালতে রিট করেন। আদালত ইতোপূর্বে দ্বিধাবিভক্ত রায় প্রদান করলে নতুন করে বেঞ্চ গঠন এবং রায় প্রদানের দিনক্ষণ ঠিক হয়। আগামীকাল ১৩ জানুয়ারি ওই রিটের ব্যাপারে আদালত রায় প্রদান করতে যাচ্ছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ২০০৭ সালে নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনাল নির্মাণ করে। নির্মাণ এবং ইক্যুইপমেন্ট স্থাপনসহ টার্মিনালটি চালু করতে বন্দর কর্তৃপক্ষের আড়াই হাজার কোটিরও বেশি টাকা ব্যয় হয়। ২০০৭ সালে আংশিক কার্যক্রম শুরু হলেও টার্মিনালটি পুরোদমে কাজ শুরু হয় ২০১৫ সালে। দীর্ঘদিন ধরে সাইফ পাওয়ার টেক টার্মিনালটি পরিচালনা করে। গত জুলাই মাস থেকে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড টার্মিনালটি অপারেট করছে। এই টার্মিনালটি চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আয়ের উৎস হিসেবে ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অত্যাধুনিক ইক্যুইপমেন্টসহ নানা সুযোগ সুবিধার ফলে প্রতি বছরই বাড়ছে টার্মিনালটির আয়। ফলে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে নির্মিত এবং দীর্ঘদিন ধরে মুনাফায় থাকা দেশের সবচেয়ে লাভজনক টার্মিনাল এনসিটিকে বিদেশী অপারেটরের হাতে দেয়ার সাম্প্রতিক প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছেন অনেকেই। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ, অবরোধ এবং মশাল মিছিল, লাল পতাকা মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

বিদেশী অপারেটর নিয়োগে সরকারের নানা উদ্যোগ এবং বিরোধীপক্ষের আন্দোলনের মাঝে আদালতে উপরোক্ত রিট করা হয়। নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনাল বিদেশী প্রতিষ্ঠানের হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে করা উক্ত রিটের ব্যাপারে গত ৪ ডিসেম্বর উচ্চ আদালত দ্বিধাবিভক্ত রায় প্রদান করেন। ওই দিন হাইকোর্ট বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা নজীব চুক্তিসম্পর্কিত প্রক্রিয়া অবৈধ ঘোষণা করেছেন। এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রিট আবেদন (রুল ডিসচার্জ) খারিজ করে রায় দেন।

এতে করে প্রধান বিচারপতি নতুন করে বেঞ্চ গঠন করে পুনরায় শুনানি এবং রায় প্রদানের আইনি বাধ্যবাধকতা থাকায় আগামীকাল নতুন বেঞ্চ উক্ত রিটের রায় প্রদান করবেন। এই রায়ের উপর ভিত্তি করেই সরকার ডিপি ওয়ার্ল্ডকে টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দেবে নাকি নৌবাহিনীর ড্রাইডকই টার্মিনালটি পরিচালনা করবে সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনালে বিদেশী অপারেটর নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় বিগত আওয়ামী লীগ সরকার। সরকারিবেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) টার্মিনালটি পরিচালনায় ২০২৩ সালের মার্চে অনুমোদন দেয় অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি। এরপর ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনকে (আইএফসি)। এরই ধারাবাহিকতায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রাখে।

নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনালে একসঙ্গে চারটি সমুদ্রগামী জাহাজ বার্থিং নিতে পারে। এই টার্মিনালের বার্ষিক কন্টেনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ১০ লাখ টিইইউএস। যদিও বর্তমানে এটি ১২ লাখ টিইইউএসের বেশি কন্টেনার হ্যান্ডলিং করছে। চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কন্টেনার হ্যান্ডলিংয়ের ৪০ শতাংশের বেশি এ টার্মিনালেই হ্যান্ডলিং করা হয়।

বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বড় টার্মিনালটির ব্যাপারে আগ্রহী অনেকেই। নানা ধরনের সমীকরণও সক্রিয় এখানে। সবকিছু মিলে আগামীকালের রায়ই টার্মিনালটির ভবিষ্যত ঠিক করে দেবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধহজ ফ্লাইট শুরু ১৮ এপ্রিল
পরবর্তী নিবন্ধদাদার সঙ্গে দোকানে নাস্তা আনতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয় হুজাইফা