বিসিবি নির্বাচনে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে গত মাসে গঠিত হয় তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটিকে সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছিল ১৫ কার্যদিবস। নির্ধারিত সময়ের আগেই গতকাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) পরিচালক (ক্রীড়া) মোহাম্মদ আমিনুল এহসানের হাতে তদন্ত রিপোর্ট তুলে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান একেএম আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, ‘কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি। আমরা নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে তদন্ত সম্পন্ন করেছি।’গত অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বিসিবি পরিচালক পর্ষদের নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয় ও সন্দেহ তৈরি হওয়ায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এক সাবেক বিচারপতিকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল ১১ মার্চ। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের আগেই গতকাল তা জমা পড়ল।
তদন্ত কমিটির সামনে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বিসিবির কয়েকজন পরিচালক। তাদের মধ্যে সহ–সভাপতি ফারুক আহমেদ এবং সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল অন্যতম। এছাড়া বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্ত কমিটির সামনে যেতে হয়েছে। কমিটি তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ভূইয়াকে ডাকলেও তিনি উপস্থিত হননি। তদন্তে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিদ্যমান গঠনতন্ত্রের কিছু ত্রুটি–বিচ্যুতি উঠে এসেছে। এসব সংশোধন না করলে ভবিষ্যতে নির্বাচনকে হস্তক্ষেপমুক্ত রাখা কঠিন হবে বলে মনে করছে স্বাধীন তদন্ত কমিটি। সে কারণে নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে গঠনতন্ত্র সংশোধনের সুপারিশ করেছে তারা। ৩৪ পৃষ্ঠার সামারি রিপোর্টে রয়েছে প্রয়োজনীয় সুপারিশ। এর পাশাপাশি তদন্তের প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস এবং শুনানিতে হাজির ব্যক্তিদের লিখিত বক্তব্যসহ জমা দেওয়া কাগজপত্রের পরিমাণ হাজার পৃষ্ঠা ছাড়িয়েছে।
বিসিবির গঠনতন্ত্র সংশোধন প্রসঙ্গে তদন্ত কমিটির প্রধান, সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা কিছু সুপারিশ করেছি। ভবিষ্যতে নির্বাচন সুন্দরভাবে আয়োজন করা যায় কি না, বোর্ডসংক্রান্ত আরও কোনো সুপারিশ দেওয়া যায় কি না, এসব বিষয়ে আমরা কিছু গাইডলাইন দেওয়ার চেষ্টা করেছি। গঠনতন্ত্র সংশোধনের বিষয়টিও আছে।’ বিসিবির গঠনতন্ত্র ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী নির্বাচন হয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করেই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। তবে এতে কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি। এ বিষয়ে বিচারপতি আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার চেষ্টা করেছি। যাদের সম্পৃক্ততা পেয়েছি, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। যা পেয়েছি, সেটিই যথাযথভাবে উপস্থাপন করেছি। কাউকে অভিযুক্ত না করে রিপোর্ট দিয়েছি। আমরা কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ আনিনি। কী হয়েছে, কী হয়নি..সেসবই তুলে ধরেছি।’ বিসিবি নির্বাচন নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলোর কেন্দ্রে ছিল নির্বাচন কমিশন। তাদের সদস্যদের তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হওয়ার জন্য ডাকা হলেও তারা সরাসরি উপস্থিত হননি। তবে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন কমিটির প্রধান।
এদিকে, এই নির্বাচনের পর থেকে বিসিবির ৭ জন পরিচালক পদত্যাগ করেছেন। প্রতিবেদনে নির্বাচনের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকায় অনেকে পদত্যাগ করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।













