এত কিছুর পরও কালুরঘাট সেতু হচ্ছে না কেন?

প্রশ্ন বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির

| বৃহস্পতিবার , ১৯ অক্টোবর, ২০২৩ at ১০:২২ পূর্বাহ্ণ

বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির স্থায়ী পরিষদের সভাপতি জসিম উদ্দীন চৌধুরী বলেছেন, চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি কালুরঘাট রেল সংযুক্ত সড়ক সেতু বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা, পরবর্তীতে একনেকের সভায় পাস হয়ে নকশা প্রণয়নের পর অদ্যাবধি কালুরঘাট সড়ক সংযুক্ত রেল সেতু দৃশ্যমান না হওয়ার কারণে চট্টগ্রামবাসী হতাশ হয়েছে। এত কিছুর পরও সেতুর নির্মাণে আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমান সরকারের সময়ে দেশ উন্নয়নের রোল মডেল, চট্টগ্রামসহ দেশব্যাপী ব্যাপক উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ আজ দৃশ্যমান। নাই শুধু কালুরঘাট সেতু। চট্টল বিদ্বেষী অপশক্তির ষড়যন্ত্রের কারণে কালুরঘাট রেল সংযুক্ত সড়ক সেতু বাস্তবায়ন হচ্ছে না মনে করেন চট্টগ্রামবাসী।

গত ১৬ অক্টোবর বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির জরুরি সভা ডা. শেখ শফিউল আজমের সভাপতিত্বে দৈনিক পূর্বকোণ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় সংকল্পের কারণে বিশ্ব ব্যাংক কর্তৃক দুর্নীতির তকমা দিয়ে বন্ধ করে দেয়া পদ্মা সেতু প্রকল্প যেখানে দেশের নিজস্ব অর্থায়নে হয়ে যাওয়ার কারনে দেশ ও জাতি গর্ববোধ করছে সেখানে দেশের রাজস্বের সিংহ ভাগ যোগানদাতা বন্দর নগরী চট্টগ্রাামের গুরুত্বপূর্ণ কালুরঘাট রেল সংযুক্ত সড়ক সেতু নির্মাণ প্রকল্প উপেক্ষিত হবে তা কল্পনা করা যায়না। কারণ কালুরঘাট সড়ক সংযুক্ত রেল সেতু নির্মান ব্যাতিরেকে সরকারের নির্মানাধীন চট্টগ্রাাম কক্সবাজার ঘুনধুম রেল লাইনের সুফল পাওয়া যাবেনা। কালুরঘাট রেল সংযুক্ত সড়ক সেতু নির্মাণের কথা বহুবার জাতীয় সংসদেও আলোচনায় এসেছে। কালুরঘাট সেতুর বাস্তবায়নের অঙ্গীকারে সরকারের দুই জন সংসদ সদস্য আন্দোলন সংগ্রাম করেও শেষ পর্যন্ত সেতু দেখে যেতে পারেন নি। যা অত্যন্ত দুঃখজনক, তিনি অবিলম্বে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্বে কালুর ঘাট সড়ক সংযুক্ত রেল সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

কার্যকরী পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. শেখ শফিউল আজম বলেন, বর্তমানে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা মহামারীকে ছাড়িয়ে গেছে, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে আরো দুমাস এ প্রকোপ থাকবে ফলে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে বলা মুশকিল। কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্য এই বিষয়ে কতৃপক্ষের কার্যকর কোন উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

স্থায়ী পরিষদের সহ সভাপতি এস এম নুরুল হক বলেন, মানুষের আয়ের সাথে ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা কঠিন হয়ে পড়েছে এতে সাধারণ মানুষের জীবন সংকটাপন্ন, নিত্য দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে তার প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে, তাই টিসিবির অধিনে ঘরে ঘরে খাদ্য সামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং রেশনিং প্রথা চালু , দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণে অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দিয়ে দ্রব্য মূল্যের লাগাম টেনে ধরার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান। মহাসচিব এইচ এম মুজিবুল হক শাকুর বলেন, নগরীর উন্নয়নে গৃহীত মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে নগরবাসীর চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সংস্কারের অভাবে রাস্তা ঘাটে চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে, ফুটপাত ও রাস্তা হকারদের অবৈধ দখলে, যেন তেন ভাবে যাত্রী পরিবহন করতে গিয়ে মোড়ে মোড়ে গণপরিবহন, রিকশা, টেক্সীর অবস্থানের কারণে সীমাহীন যানজটে নাকাল নগরবাসী। তিনি নগর উন্নয়নে গৃহীত প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ করে নগরবাসীর ভোগান্তি লাঘব করার আহবান জানান। সভায় বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট মাহ্‌ফুজুর রহমান খান, লায়ন নুরুল আলম, ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ ইব্রাহিম, অ্যাডভোকেট ফয়েজুর রহমান চৌধুরী বেলাল, হাসান সিকদার এম গোফরান চৌধুরী প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধডেল্টা প্ল্যান প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে নেদারল্যান্ড সরকারের প্রতিনিধি দল
পরবর্তী নিবন্ধচবিতে ইনোভেশন হাব উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী