এক লাফে শনাক্ত বেড়ে ১৩ হাজার ৭৬৮ জন

দেশে আরও ২২০ মৃত্যু

| মঙ্গলবার , ১৩ জুলাই, ২০২১ at ৫:৩০ পূর্বাহ্ণ

করোনাভাইরাস মহামারীতে দেশে এক দিনে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক লাফে সাড়ে ১৩ হাজারের ঘর ছাড়িয়ে গেল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল সোমবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ হাজার নমুনা পরীক্ষা করে রেকর্ড ১৩ হাজার ৭৬৮ জনের মধ্যে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে আরও ২২০ জনের। ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে গত ১ জুলাই থেকে সারা দেশে লকডাউনের কঠোর বিধিনিষেধ চলছে। কিন্তু এর মধ্যেই ধারাবাহিকভাবে বেড়ে চলেছে শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। আগের দিন রোববার সারা দেশে রেকর্ড ১১ হাজার ৮৭৪ জন নতুন রোগী শনাক্ত এবং ২৩০ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পরদিন মৃত্যুর সংখ্যা দশজন কমলেও এক দিনেই শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে দুই হাজারের কাছাকাছি। নতুন রোগীদের নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ১০ লাখ ৩৪ হাজার ৯৫৭ জনে। তাদের মধ্যে ১৬ হাজার ৬৩৯ জনের প্রাণ গেছে করোনায়। খবর বিডিনিউজের।
গত এক দিনে কেবল ঢাকা বিভাগেই ৬,৪১৩ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা দিনের মোট শনাক্তের প্রায় অর্ধেক। চট্টগ্রাম বিভাগেও এক দিনে শনাক্ত রোগী দুই হাজার ছাড়িয়েছে। আর যে ২২০ জন গত এক দিনে মারা গেছেন, তাদের ৬৪ জনই ছিলেন ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। খুলনা বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ৫৫ জনের। সরকারি হিসাবে গত এক দিনে আরও ৭ হাজার ২০ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৮ লাখ ৮১ হাজার ৫২১ জন।
গত ৬ থেকে ৯ জুলাই টানা চার দিন দেশে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১১ হাজারের ওপরে। মাঝখানে ১০ জুলাই তা কমে আট হাজারের ঘরে থাকলেও পর দিন ১১ হাজার ৮০০ ছাড়িয়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। গতকাল তা আরও বেড়ে সাড়ে ১৩ হাজার ছাড়িয়ে গেল।
গত ২৭ জুন থেকে টানা ১৬ দিন ধরে একশোর বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। এর মধ্যে ৭ জুলাই তা প্রথমবারের মতো ২০০ ছাড়ায়। ১১ জুলাই ২৩০ মৃত্যুর রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৬২৭টি ল্যাবে ৪৪ হাজার ৬৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৭০ লাখ ১৫ হাজার ২৩৪টি নমুনা। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ২৪ শতাংশ। আগের দিন যা ছিল ২৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ। দেশে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৫ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৬১ শতাংশ।
মৃত ২২০ জনের মধ্যে ১২১ জনেরই বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। ৪৬ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ২৬ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ১৭ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ৯ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে এবং ১ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ছিল। তাদের ১৪২ জন ছিলেন পুরুষ, ৭৮ জন নারী। ১৬৭ জন সরকারি হাসপাতালে, ৪০ জন বেসরকারি হাসপাতালে এবং ১৩ জন বাসায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচমেক হাসপাতালে সাধারণ রোগী ভর্তি সীমিত রাখাসহ কয়েক দফা সিদ্ধান্ত
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড