এক মঞ্চে বসে সহাবস্থানের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন ও রাজনৈতিক সম্প্রীতি রক্ষায় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ পাঁচটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও দলগুলোর চট্টগ্রামের নেতারা। এ সময় তারা সহিংসতা পরিহার, শান্তি বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। রাজনৈতিক সম্প্রীতি ও সহাবস্থান নিশ্চিত করতে একযোগে ভূমিকা রাখার সম্মিলিত শপথ গ্রহণ করেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নগরের একটি রেস্টুরেন্টে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায়, মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম (ম্যাপ) আয়োজিত ‘আন্তঃদলীয় সম্প্রীতি সংলাপ’ অনুষ্ঠানে এ প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রামে রাজনৈতিক সম্প্রীতি ও সহাবস্থান নিশ্চিত করার প্রত্যয়ে একযোগে সম্মতি জানিয়ে স্বাক্ষরও করেন। সংলাপে অংশ নেয়া অন্য দুই রাজনৈতিক দল হচ্ছে গণঅধিকার পরিষদ ও গণসংহতি আন্দোলন।
মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল চট্টগ্রাম রিজিয়নের কনসালটেন্ট সদরুল আমিনের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম–৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম–১৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান, চট্টগ্রাম–১৩ আসনের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ও দক্ষিণ জেলার আহ্বায়ক ডা. এমদাদুল হক, চট্টগ্রাম–৪ আসনের গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুল আলম।
এরশাদ উল্লাহ বলেন, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল ও ম্যাপের এই সম্প্রীতি সংলাপ দেশের আপামর জনগণকে একটি নতুন বার্তা দেবে। পরমত সহিষ্ণুতা, সহনশীলতা ও সহাবস্থান গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত। এই সত্যগুলো মেনে চললেই একটি সুস্থ ধারার সুন্দর গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করা যায়। বিপ্লব পরবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে আসুন আমরা সকলে মিলে এই সুস্থ্থ ধারার গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করি। শাহজাহান চৌধুরী বলেন, স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শেখ হাসিনার ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে জেল–জুলুম সহ্য করে আজ অব্দি মাঠেই আছি। বিপ্লব পরবর্তী জনগণের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে একটি সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন ও সহাবস্থানের গণতান্ত্রিক ধারা অপরিহার্য। আসুন আজ সবাই মিলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করি, পারস্পরিক দোষারোপের রাজনীতি পরিহার করে সহাবস্থানের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করি।
অন্যান্য নেতৃবৃন্দ জানান, চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলায় আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু করতে নিজ নিজ দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেবেন। কোথাও কোনো সহিংসতার আশঙ্কা দেখা দিলে তা যৌথ উদ্যোগে সমাধান করা হবে। পাশাপাশি অনলাইন ও অফলাইনে ঘৃণামূলক বক্তব্য প্রচার করা থেকে বিরত থাকবেন। একইসঙ্গে নির্বাচনি আইন মেনে চলা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সম্পাদক মুহাম্মদ ঊল্লাহ, মোর্শেদুল আলম, গণসংহতি আন্দোলনের চট্টগ্রাম সমন্বয়ক চিরন্তন চিরু, গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য জসিম উদ্দিন আকাশ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি জেসমিন সুলতানা পারু, ইকবাল বাহার সাবেরি, ফেলো মো. জিয়াউল হক সোহেল, মোহাম্মাদ আলী, আরিচ আহমেদ শাহ, অনুপম শীল ও আমজাদ হোসেন।












