এক পরিবারের ৯ জনের মধ্যে প্রাণ গেল ছয়জনের

একজন লাফিয়ে বাঁচেন, দুজন ছিলেন সৈকতে সকালে রিসোর্ট ছাড়ার কথা ছিল

কক্সবাজার প্রতিনিধি | রবিবার , ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ at ৫:৫৮ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের মধ্যে ছয়জনই এক পরিবারের সদস্য। ছয়জনের মধ্যে একজন শিশু, চারজন নারী ও একজন পুরুষ রয়েছেন। তারা হলেন ঢাকার রামপুরা–বনশ্রী এলাকার আশিকুল ইসলামের স্ত্রী ইসরাত জাহান মালিহা, তার শ্যালিকা লায়লা জাহান নাবিলা, মিলিতা মেহজাবিন আলভি ও ফারিহা কবির, পরিবারের সদস্য নাফিস তেহামী ও পাঁচ বছরের শিশু ফায়িজান আহমদ।

গতকাল সকালে ইনানীর পাটুয়ারটেকের টুপটুপ রিসোর্টে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ছয়জনের সাথে থাকা পরিবারের অন্য সদস্য মো. আশিকুল ইসলাম দোতলা থেকে লাফ দিয়ে প্রাণে বাঁচেন। তবে আহত হয়েছেন। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ইসরাত জাহান মালিহা ও স্ত্রীর ছোট বোন লায়লা জাহান নাবিলাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। রিসোর্টে লাগা আগুনে সেই ছুটি পরিণত হয়েছে বিষাদে।

আশিকুল ইসলামের এক স্বজন বলেন, আগুন লাগার পর মো. আশিকুল ইসলাম দোতলা থেকে লাফ দেন। এতে তিনি বেঁচে আছেন। তবে আশিকুলের স্ত্রী, স্ত্রীর বোনসহ পরিবারের ছয়জন মারা গেছেন।

সকালে রিসোর্ট ছাড়ার কথা পরিবারটির : বিডিনিউজ জানায়, গতকাল সকালে পরিবারের দুই সদস্য সৈকতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। ফলে তারা বেঁচে যান। অপর একজন আগুনের মধ্যে রিসোর্টের দোতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে প্রাণে বাঁচেন। তবে তিনি আহত হয়েছেন।

স্বজনরা বলছেন, পরিবারটি বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে যান। শনিবার তাদের ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। সেভাবেই তারা প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তার আগে সকালে আগুন সব তছনছ করে দেয়।

পরিবারের যে দুজন সদস্য সৈকতে ছিলেন, তারা রিসোর্টে আগুন লাগার বিষয়টি দেখতে পেয়ে সেখানে ছুটে যান। কিন্তু আগুনের প্রবল তাপের কারণে আর রিসোর্টের ভেতর যেতে পারেননি। ফলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও আর যোগযোগ করতে পারেননি। পরে তারা ঢাকায় থাকা তাদের আত্মীয় আমিনুল ইসলামকে মোবাইল ফোনে জানান। আমিনুল সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা থেকে বিমানে করে কক্সবাজার পৌঁছান। নিহতদের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।

আমিনুল ইসলাম সেখানে সাংবাদিকদের বলেন, আমার ভাগনে–ভাগনিসহ ছয়জন মারা গেছেন। এখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ভিকারুননিসার শিক্ষার্থী আছে। আমার তিন বোনের পাঁচ ছেলে–মেয়ে মারা গেছে। এক ভাগনির ছোট বাচ্চাও মারা গেছে। দুদিন আগে তারা এসেছিল। পরিবারের নয়জনের মধ্যে ছয়জন মারা গেছে। তিনজন বেঁচে আছে। আজকে সকাল সাড়ে ১০টায় ওদের ঢাকায় ফেরার কথা ছিল।

কক্সবাজারের এসপি এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, পরিবারটির নয়জন বেড়াতে এসেছিলেন। তিনজন সুস্থ আছেন।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আশিকুল ইসলাম জানান, সকালে তিনি ঘুমাচ্ছিলেন। তার স্ত্রী আগুন দেখতে পেয়ে তাকে ডেকে তোলেন। এরপর পাশের কক্ষে থাকা অন্য স্বজনদের ডাকতে যান তিনি। তিনি দ্রুত একটি জানালা ভেঙে সেখান দিয়ে লাফ দিয়ে বেরিয়ে আসেন। কিন্তু তার স্ত্রী আর বেরিয়ে আসতে পারেননি। পরে বলেন, আমরা একই পরিবারের ৯ জন ছিলাম। তিনজন বের হতে পারলেও ছয়জন ওই রিসোর্ট থেকে বের হতে পারেনি। এর মধ্যে আমার স্ত্রী, তার আপন বোন, খালাতো বোন, খালাতো বোনের ছেলে, খালাতো ভাইসহ ছয়জন ছিল।

এ অগ্নি দুর্ঘটনায় আহত নয়জন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তারা হলেন সায়ানুল মান্নান (৩৫), তার স্ত্রী ফাহমিদা (৩১), মাসুদ (৩০) ও তার স্ত্রী মেহেরুন্নেছা (৩০), ডা. শিহাব উদ্দিন সাদি (৩১), ডা. নাফিজা নাওয়ার খান (২৯), আশিক (২৮), আইরিন ও ইমা।

সায়ানুল মান্নানের বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, আমার ছেলে এবং বৌমা সুস্থ আছে। কক্সবাজারে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে তারা দুপুরের পর বিমানে করে ঢাকার মিরপুরের পীরেরবাগ বাসায় এসেছে। ঢাকার বিমানবন্দরে নেমে অন্যের মোবাইল ফোন দিয়ে ঢাকায় পৌঁছার খবর দিয়েছে।

আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা সবুক্তগীন মাহমুদ সোহেল বলেন, আহতদের মধ্যে পাঁচজন দগ্ধ, তাদের শরীরের প্রায় ৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। দগ্ধ পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনাহিদুর, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে খুঁজছে পরিবার
পরবর্তী নিবন্ধরিসোর্টে আগুন, ১০ পর্যটকের মৃত্যু