চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগে দীর্ঘ সময় বিকল হয়ে পড়ে থাকা নারীর স্তন ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ের একমাত্র ম্যামোগ্রাফি মেশিনটি আর সচল হচ্ছে না। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি নষ্ট হওয়া যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন করতে না পারার কারণে তিন বছরের ওয়ারেন্টির কোটি টাকা মেশিনটি দুই বছরও সচল ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে নতুন মেশিন কেনার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সিএমএসডি) বরাবর চাহিদাপত্র দিয়েছে চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ম্যামোগ্রাফি মেশিনটি স্থায়ীভাবে বন্ধ রয়েছে। সেই থেকে বিভিন্ন সময় মেশিনটি সচল করার উদ্যোগ নেয়া হলেও সরবরাহ প্রতিষ্ঠানের অসহযোগিতার কারণে সেটি আর সম্ভব হয়নি। ফলে কম খরচে সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দরিদ্র রোগীরা।
রেডিওলজি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ম্যামোগ্রাফি মেশিনটি চালু থাকলে দরিদ্র রোগীরা কম টাকায় সেবা পেতেন। মেশিনটির ৩ বছরের ওয়ারেন্টি সময়সীমা থাকলেও সব মিলিয়ে সচল ছিল ১ বছর ১১ মাস ২৯ দিন। মেশিন সচল থাকাকালীন সিঙ্গেল (একটি) স্তনের ম্যামোগ্রাফ পরীক্ষায় খরচ হতো ৪০০ টাকা এবং ডাবল (দুটি) স্তনের পরীক্ষায় খরচ হতো ৮০০ টাকা। তবে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে এই ফি প্রায় চার গুণ নিয়ে থাকে। বর্তমানে বাধ্য হয়ে রোগীদের বেশি টাকা দিয়েই এই পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।
জানা গেছে, নষ্ট হয়ে যাওয়া ম্যামোগ্রাফি মেশিনটি স্থাপিত হয় ২০১৮ সালের ১ আগস্ট। কোটি টাকা মূল্যের মেশিনটি ৩ বছর ওয়ারেন্টি সময়ের মধ্যে চারবার নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া বর্তমানে ৪ বছর ২ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। প্রথম দফায় স্থাপনের ৫ মাস ২৬ দিন পরে বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ১ বছর ৫ মাস ১৪ দিন পর চালু হয়। তবে এবার চালু হওয়ার মাত্র ৩ মাস ২৭ দিন পর আবারও বিকল হয়ে যায় মেশিনটি। তারপর বন্ধ ছিল ৬ মাস ২৩ দিন। চালু থাকে ৮ মাস ৬ দিন। বন্ধ থাকার ৪ মাস ৬ দিন পর চালু হলেও এবার স্থায়িত্ব হয় আরো ৬ মাস। এরপর গত ২০২২ সালের ১৭ ডিসেম্বর থেকে মেশিনটি স্থায়ীভাবে বন্ধ রয়েছে। সেই থেকে টানা প্রায় তিন বছর ধরে বিকল পড়ে আছে ম্যামোগ্রাফি মেশিন।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন আজাদীকে বলেন, ম্যামোগ্রাফি মেশিনটির যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার পর থেকে মেশিনের সরবরাহ প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করে আসছি। কিন্তু তারা আমাদের জানান–কোথাও মেশিনের যন্ত্রাংশ পাওয়া যাচ্ছে না। মেশিনটি প্রায় ৩ বছর ধরে নষ্ট পড়ে আছে। তাই আমরা নতুন মেশিন কেনার জন্য সিএমএসডিতে চাহিদাপত্র দিয়েছি। কারণ আমাদের হাতে আর কোনো বিকল্প মেশিন নেই।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে চমেক হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য একটি করে মেশিন বরাদ্দ দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ইতালি থেকে আমদানি করা দুটি মেশিনের খরচ পড়ে ৩ লাখ ৮১ হাজার ইউরো। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা তিন কোটি ৩২ লাখ ৩ হাজার ৯২১ টাকা। ওই সময় প্রতিটির মূল্য পড়ে ১ কোটি ১৬ লাখ টাকার বেশি। কিন্তু কোটি টাকা মূল্যের অত্যাধুনিক এ যন্ত্র চমেক হাসপাতালে বাঙবন্দি ছিল প্রায় বছর ধরে। পরে প্রায় দেড় বছর পর ২০১৮ সালে সেবা চালু হয়। চালু হওয়ার পর থেকে দফায় দফায় বিকল হয়ে যাওয়ায় সেবা থেকে বঞ্চিত হন রোগীরা।












