অ্যাসিড বোঝাই একটি জাহাজ এসেছে চট্টগ্রাম বন্দরে। এই অ্যাসিড ব্যবহার করে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) আনোয়ারাস্থ ডিএপি প্ল্যান্টে ফসফেট সার উৎপাদন করা হবে। ফলন ভালো হওয়ার জন্য যা ব্যবহৃত হবে দেশের কৃষি সেক্টরে। কারখানায় সার তৈরির প্রধান কাঁচামাল ফসফরিক অ্যাসিডের মজুদ ফুরিয়ে আসায় সরকার ১০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১ হাজার টন অ্যাসিড আমদানি করে। এই অ্যাসিড নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার রিচার্ডস বে বন্দর থেকে এমটি সোয়ান প্যাসিফিক নামের একটি ক্যামিকেল ট্যাংকার এসে পৌঁছায় চট্টগ্রাম বন্দরে।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় জাহাজটি সরাসরি সিইউএফএল জেটিতে বার্থিং নেয়ার কথা ছিল। ওখানে অ্যাসিড খালাস করে ৩৬ ঘণ্টা পর আজ সকালে জাহাজটির চট্টগ্রাম ত্যাগ করার কথা ছিল। জাহাজটির পণ্য খালাস যাতে ব্যাহত না হয় সে জন্য আগেভাগেই ৫ কোটি টাকা শুল্কও পরিশোধ করে বিসিআইসি। কিন্তু এনসিটি ইস্যু নিয়ে চলমান আন্দোলনের কারণে জাহাজটিকে বহির্নোঙর থেকে ভিতরে আনা সম্ভব হয়নি। বন্দরের বার্থিং সভা হলেও জাহাজের মুভমেন্ট না হওয়ায় জাহাজটি বহির্নোঙরেই আটকে থাকে, সিইউএফএল জেটিতে বার্থিং নিতে পারেনি। ফলে খালাস করতে পারেনি ডিএপি প্ল্যান্টের অতি প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ফসফরিক অ্যাসিড। সব আয়োজন সম্পন্ন হলেও শুধুমাত্র মুভমেন্ট না থাকায় জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অলস ভাসছে।
নির্ধারিত সময়ে খালাস কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় জাহাজটির বিপরীতে প্রতিদিন ৩২ হাজার মার্কিন ডলার বা প্রায় ৪০ হাজার টাকা ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে। এই টাকা পরিশোধ করতে হবে ডলারে। সূত্র বলেছে, গতকাল পর্যন্ত ডিএপি (ডাই–অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সার কারখানা সচল থাকলেও উৎপাদন অব্যাহত রাখতে জরুরি ভিত্তিতে ফসফরিক অ্যাসিড সরবরাহ প্রয়োজন। খালাসে বিলম্ব অব্যাহত থাকলে শুধু ডেমারেজ ব্যয়ই নয়, সার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ারও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শুধু এই একটি জাহাজই নয়, আরো অনেকগুলো জাহাজই বহির্নোঙরে অলস ভাসছে। যেগুলোর বিপরীতে প্রতিদিনই কয়েক কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রায় ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে।









