আমার ব্যালকনির সামনের কৃষ্ণচূড়া গাছ। আমার যখন খুব মন খারাপ হয়, কিংবা এমনিই অবসরের দিনগুলোয় দুপুরে বা বিকেলবেলা ব্যালকনিতে এসে যখন দাঁড়াই, সর্বপ্রথম চোখ যায় এই গাছটায়। শীত– বসন্তের পালা পরিবর্তনের সময় কেমন যেন নির্জীব প্রাণহীন হয়ে থাকে গাছটা। প্রথম প্রথম আমার খুব চিন্তা হতো। আমি ভাবতাম, আহারে! গাছটা মরে যাবে না তো? কিন্তু পরে দেখতাম, যখন বর্ষা আসে তখন কি সুন্দর সতেজ সজীব হয়ে লাল ফুল আর সবুজ পাতার সাজে কী সুন্দর প্রাণবন্ত হয়ে ফুটে ওঠে!
তখন যেন এর থেকে চোখ ফেরানোই দায় হয়ে যায়। তাকিয়ে থাকতেই ইচ্ছে করে কেবল! আমার ওই গাছটাকে দেখতে কী যে ভালো লাগে তখন! এক নিমিষেই মন খারাপটা হাওয়া হয়ে যায়!
এই গাছেরাও কিন্তু আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে যায়। জীবনের ঘাত প্রতিঘাতগুলো সয়ে নিতে নিতে একসময় আমাদের প্রাণশক্তি ক্ষয় হতে থাকে। আমরা মুষড়ে পড়ি, বিমর্ষ হয়ে পড়ি। ভাবি, জীবনটা বোধ হয় এখানেই শেষ। কষ্ট পাই, পিছিয়ে পড়ি, সমস্ত রকম আনন্দ উচ্ছ্বাসের জায়গাগুলো দখল করে নেয় হতাশা, বিষাদ।
কিন্তু সেই ভাবনাটাকে দূরে সরিয়ে দিয়ে আমরা যদি চেষ্টা করে যাই সেই পর্যুদস্ত সময়টাকে জয় করে নিতে, তবে জয় অবশ্যম্ভাবী। আর, একবার এই বিষাদ, হতাশাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে পারলেই আমরা আবার জীবন ফিরে পাই, আবার হাসতে পারি, গাইতে পারি মন খুলে। তখন আর ভাবার অবকাশ থাকে না কখন কে কি বললো, কার কথায়, কার অবহেলায় এতটা দুঃখ পেলাম, কষ্ট পেলাম! এই ঘুরে দাঁড়াতে পারাটাই একসময় মনে করিয়ে দেয় কত তুচ্ছ কিছুর জন্য, কত ভুল মানুষের অবহলার জন্য আমরা কষ্ট পেয়েছিলাম!











