একগুচ্ছ পরিকল্পনা তুলে ধরে চাইলেন ধানের শীষে ভোট

ভোটকেন্দ্রে ফজরের নামাজ পড়ার আহ্বান

আজাদী প্রতিবেদন | সোমবার , ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৬:২৬ পূর্বাহ্ণ

এক গুচ্ছ পরিকল্পনা তুলে ধরে তা বাস্তবায়নে ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় ধানের শীষের উপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা সকলকে নিয়ে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই। ধানের শীষ এবং বিএনপি নির্বাচিত হলে এই দেশের খেটে খাওয়া মানুষকে সাথে নিয়ে তাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজে হাত দেবে। বিএনপি যেই প্রতিশ্রুতিগুলি দিয়েছে সরকারে গেলে ধীরে ধীরে সেগুলো বাস্তবায়ন করব। কিন্তু তার আগে আপনাদের একটি দায়িত্ব আছে। যেই উদ্যোগগুলো আমরা গ্রহণ করেছি, যেই প্রতিশ্রুতিগুলো বা যেই পরিকল্পনাগুলো আপনাদের সামনে আমরা তুলে ধরেছি তা বাস্তবায়ন করার জন্য অবশ্যই বিএনপিকে সরকার গঠন করতে হবে। যদি বিএনপির পাশে থাকেন, যদি বিএনপিকে সমর্থন দেন, ১২ তারিখের নির্বাচনে আপনারা যদি বিএনপিকে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করেন, তাহলেই একমাত্র আমরা এই পরিবর্তনগুলো করতে পারবো।

তিনি গতকাল রোববার নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে যে কোনো মূল্যে দুর্নীতর টুঁটি চেপে ধরবেন বলেও ঘোষণা দেন তারেক রহমান। দেশের মানুষের মধ্যে যে পরিবর্তনের আকাঙ্খা রয়েছে তা ব্যক্ত করে বিএনপির নানা পরিকল্পনা তুলে ধরেন। কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও হেলথ কার্ড করার পাশাপাশি নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমি একটি কথা বলে থাকি– ‘করব কাজ, গড়ব দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ’।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমেদ, সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন ও গিয়াস উদ্দিন কাদর চৌধুরী, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, এস এম ফজলুল হক। সভাপতিত্ব করেন নগর বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ। সঞ্চালনা করেন নগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান।

সকাল সাড়ে ১০টায় জনসভা শুরু হয়। তবে তার ঘণ্টাখানেক আগে থেকেই চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে মিছিল নিয়ে পলোগ্রাউন্ডে আসেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। তারেক রহমান দুপুরে ১২টা ২০ মিনিটে যখন সভাস্থলে আসেন তখন কানায় কানায় পূর্ণ ছিল পলোগ্রাউন্ড। পলোগ্রাউন্ডের সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে হোটেল রেডিসন ব্লুতে ‘ইয়ুথ পলিসি টকে’ বিশ্ববিদ্যালয়কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারেক রহমান। সেখান থেকে তার গাড়ি বহর লালখান বাজার মোড় হয়ে জনতার ভিড় পেরিয়ে সমাবেশস্থলে পৌঁছায়।

ভোটকেন্দ্রে ফজরের নামাজ পড়ার আহ্বান : তারেক রহমান ভোটের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সজাগ ও সতর্ক থাকার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ করেন। তিনি ভোটকেন্দ্র নিয়ে ষড়যন্ত্র ঠেকাতে তাহাজ্জুদের নামাজ শেষে স্ব স্ব ভোটকেন্দ্রের সামনে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি উপস্থিত জনতাকে প্রশ্ন করে বলেন, ১২ তারিখ কখন যাবেন ভোট দিতে? এসময়ে নেতাকর্মীরা সমস্বরে বলে ওঠেন, ফজরের নামাজ পড়ে। তখন তারেক রহমান বলেন, এবার ফজরে গেলে হবে না। এবার তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ার জন্য উঠতে হবে। তাহাজ্জুদের নামাজ পড়বেন এবং ভোট কেন্দ্রের সামনে গিয়ে যার যেই ভোটকেন্দ্রের সামনে গিয়ে ফজরের নামাজ জামাত করে আদায় করবেন। এবং তারপরে লাইন দিয়ে ভোটের জন্য দাঁড়িয়ে যাবেন। পারবেন তো? এসময়ে নেতাকর্মীরা বলতে থাকেনপারব। তারেক জবাব দেন, ইনশাআল্লাহ।

তারেক রহমান বলেন, বিগত ১৫ বছর যেমন আপনাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল, সেই রকম একটি ষড়যন্ত্র আবারো শুরু হয়েছে। আপনাদের প্রতি আমার আহ্বান, এই ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সকলে সজাগ থাকবেন, সতর্ক থাকবেন। যাতে আবার আপনাদের অধিকার, আপনাদের ভোটের অধিকার, আপনাদের কথা বলার অধিকার, আপনাদের বেঁচে থাকার অধিকার ছিনিয়ে নিয়ে যেতে কেউ না পারে।

দেশের মানুষ পরিবর্তন চায় : দেশের মানুষ পরিবর্তন চায় মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে ২০২৪ সালের ছাত্রজনতার আন্দোলন। ছাত্রজনতা কেন সেই আন্দোলন করেছিল? কারণ বিগত ১৬ বছর ধরে এই দেশের মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার, বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তি স্বাধীনতাকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। মানুষ পরিবর্তন চেয়েছে, সেই পরিবর্তন যে পরিবর্তন এই দেশের খেটে খাওয়া মানুষকে নিরাপত্তা দেবে, নিরাপদে ব্যবসাবাণিজ্য ও চাকরি করা, নিরাপদে রাস্তায় হাঁটার অধিকার দেবে। যে পরিবর্তনের ফলে দেশের সাধারণ মানুষ তাদের সন্তানদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারবে। সেই পরিবর্তন হল বাংলাদেশের মানুষ যেন তার এবং তার পরিবারের ন্যূনতম চিকিৎসা সুবিধা তারা পায়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আরেকটি পরিবর্তন চেয়েছে। তার রাজনৈতিক অধিকার যেটি তার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, সেই অধিকার যাতে বাংলাদেশের মানুষ প্রয়োগ করতে পারে। কথা বলা অধিকার, যে অধিকার তার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। সেই অধিকার মানুষ আবার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের মানুষ পরিস্থিতির পরিবর্তন করলে আগামী দিনে বাংলাদেশে এই পরিবর্তনগুলো চায়।

তারেক রহমান বলেন, আজ সময় এসেছে পরির্তনের। এই পরিবর্তনকে যদি সত্যিকার অর্থে অর্থবহ করতে হয়, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন যদি করতে হয়, তাহলে আমাদের সবাইকে আজ ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমাদের বাংলাদেশকে যদি গড়ে তুলতে হয়, তাহলে গণতন্ত্রের পক্ষের সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যে কারণে ওয়াসিম আকরামরা জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন, তাদের জীবন আর ত্যাগের যদি মূল্য দিতে হয়, তাহলে মানুষের যে প্রত্যাশা সেই প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। সেজন্যই বলছি, ধানের শীষের ওপর আস্থা রাখুন, বিএনপির ওপর আস্থা রাখুন।

সমালোচনার স্বার্থে সমালোচনা নয় : সমালোচনার স্বার্থে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করার বিপক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, আজ এই নির্বাচনী জনসভায় দাঁড়িয়ে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দল যারাই হোক না কেন, তাদের সম্পর্কে হয়তো অনেক কথা বলতে পারি। তাদের অনেক দোষ ত্রুটি তুলে ধরতে পারি, কিন্তু তাতে কি জনগণের কোনো উপকার হবে? আমরা সমালোচনা করার স্বার্থেই যদি সমালোচনা করি, দেশের সাধারণ মানুষের তাতে কোনো উপকার হবে না, দেশের মানুষের পেট ভরবে না।

বিএনপির পরিকল্পনা প্রসঙ্গ : তারেক রহমান বলেন, বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল, যারা যতবার সরকারে ছিল এই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করেছে। সেইজন্যই আমি ১৭ বছর পর যেদিন দেশের মাটিতে পা রেখেছিলাম সেদিন আমি সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটি কথা বলেছিলামউই হ্যাভ এ প্লান। অর্থাৎ আমাদের একটি পরিকল্পনা আছে দেশের মানুষকে ঘিরে দেশকে ঘিরে।

তারেক রহমান বলেন, চট্টগ্রাম বাংলাদেশের ব্যবসা বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র। সেই চট্টগ্রামের মানুষসহ সারা বাংলাদেশের মানুষ একটি নিরাপদ পরিবেশ চায়। যেই নিরাপদ পরিবেশে তারা ব্যবসাবাণিজ্য করতে পারবে। তারা বাণিজ্যিক সুবিধা চায়। এই চট্টগ্রামের মানুষ সারা বাংলাদেশের মানুষের মতন তাদের সন্তানরা যাতে লেখাপড়া করতে পারে সেই পরিবেশ তৈরি করতে চায়। সে জন্যই আমরা বলেছি, আপনাদের রায়ে ১২ তারিখে ইনশাআল্লাহ, আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে প্রাইমারি শিক্ষা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন শিক্ষার স্তরে স্তরে পরিবর্তন আনতে চাই। যেখানে আমরা শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমন করে গড়ে তুলতে চাই, যেখানে শুধু সার্টিফিকেট পাবে না, শিক্ষা ব্যবস্থা এমন হবে যাতে শিক্ষা জীবন শেষে তারা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা সহজেই করে নিতে পারে।

তিনি বলেন, আমরা বলতে পারি অমুক জায়গায় এত বেডের হাসপাতাল করব। আমরা তা বলতে চাই না। আমরা চাই গ্রামের মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে। এ জন্য আমরা এক লাখ হেলথ ওয়ার্কার নিয়োগ দেব। যাতে ঘরে বসে সেবা পাওয়া যায়।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। সেই নারীদেরকে আমরা কর্মহীন রেখে কোনোভাবেই বাংলাদেশকে আমাদের প্রত্যাশিত লক্ষ্যে নিয়ে যেতে পারি না। নারীদেরকে আমরা স্বাবলম্বী করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই। সে জন্যই বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমরা বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে, গ্রামগঞ্জসহ সকল পরিবারের নারীদের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ মূল প্রাণশক্তি হচ্ছে কৃষক। এই কৃষক যদি ভালো থাকে তাহলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্যদ্রব্যের যে ঊর্ধগতি পণ্যমূল্যের যে ঊর্ধগতি এই ঊর্ধগতি যদি রোধ করতে হয় তাহলে আমাদেরকে কৃষির উৎপাদন বাড়াতে হবে। এবং কৃষির উৎপাদন বাড়াতে হলে আমাদেরকে কৃষক ভাইদের পাশে কৃষাণী বোনদের পাশে আমাদেরকে দাঁড়াতে হবে এবং সে জন্যই আমরা বলেছি বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমরা ধীরে ধীরে বাংলাদেশের সকল কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড নামে একটি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। যে কার্ডের মাধ্যমে কৃষক এবং কৃষাণী ভাই বোনেরা ঋণ সুবিধাসহ বিভিন্ন সুবিধা। এতে আস্তে আস্তে তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে।

দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা হবে : বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে যেকোনো মূল্যে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরার ঘোষণা দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, অপরাধীর পরিচয় সে আইনের দৃষ্টিতে অপরাধী এবং অপরাধী যেই হোক, তার বিরুদ্ধে দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাজেই দুর্নীতি যেই করুক, দুর্নীতি যারাই করুক, তাদের বিরুদ্ধে দেশের আইন একইভাবে প্রযোজ্য হবে। আজকে আমি এখানে লাখ লাখ মানুষের সামনে পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই, আমরা যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি সেসব পরিকল্পনার মধ্যে কেউ যদি আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করে বা দুর্নীতির মাধ্যমে সেগুলোকে বাধাগ্রস্ত করে, তাদের কোনো ছাড় আমরা দেব না।

তিনি বলেন, আমরা যতই পরিকল্পনা গ্রহণ করি না কেন, যদি আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না করি, তাহলে আমাদের কোনো পরিকল্পনা সফল হবে না। এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে অবশ্যই আমাদের দুটো বিষয়ে খুব কড়াকড়িভাবে নজর দিতে হবে। কারণ, এই দুটো বিষয় (দুর্নীতি ও নিরাপত্তা) বাংলাদেশকে, বাংলাদেশের জনগণকে তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বিগত দিনগুলোতে বঞ্চিত করেছে।

তারেক রহমান বলেন, অতীতে বিএনপি যতবার সরকার পরিচালনা করেছে, বিএনপি প্রমাণ করে দেখিয়েছে, একমাত্র বিএনপিই এই দুটো কাজ সফলভাবে করতে পারে। কি সেই বিষয় দুটো? এক. মানুষের নিরাপত্তা, যাতে করে মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে, ব্যবসাবাণিজ্য, চাকরিবাকরি সব করতে পারে। বিগত সময় যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনা করেছিলেন, তখন আপনারা দেখেছিলেন, যেই হোক না কেন, এমনকি আমাদের দলের অনেক লোক, যারা কোনো অনৈতিক কাজে জড়িত হলে তাদেরও কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি।

জনসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের স্বাধীনতাসার্বভৌমত্বের প্রতীক, গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ, এ দেশের মানুষের নেতা জনাব তারেক রহমান, যিনি সেই পতাকা পেয়েছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকে। সেজন্য তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, আই হেভ এ প্ল্যান অর্থাৎ আমাদের একটি পরিকল্পনা আছে এই দেশের জন্য, এই দেশের মানুষের জন্য। এ দেশের লাখকোটি বেকারের জন্য তিনি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভাতা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। কৃষকের জন্য কৃষক কার্ড, সবার জন্য স্বাস্থ্য কার্ড এবং দরিদ্র পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করবেন। শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করবেন। পণ্যের হাব সৃষ্টি করবেন। মেধানির্ভর, প্রযুক্তিনির্ভর এবং বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যাতে আমরা জনশক্তি সৃষ্টি করতে পারি, সেরকম একটি আগামীর বাংলাদেশ সৃজন করবেন।

সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী, আমাদের চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্খা অনুযায়ী বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হলে তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষের প্রতীকে ভোট দিয়ে দেশের স্বাধীনতাসার্বভৌমত্বকে অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। আগামীর বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনাকে এগিয়ে নিতে হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধভাইয়া বললে ভালো লাগবে, স্যার বলার দরকার নেই
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম হবে সত্যিকারের বাণিজ্যিক রাজধানী