এআইয়ের প্রভাবে ইউরোপের ব্যাংকিং খাতে ২ লাখ ছাঁটাইয়ের ঝুঁকি

| সোমবার , ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৫:০৯ পূর্বাহ্ণ

 

দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়ে কঠিন এক শিক্ষা পেতে যাচ্ছে ইউরোপের ব্যাংকিং খাত, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের প্রভাবে দুই লাখেরও বেশি কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে সেখানকার ব্যাংকগুলো। খবর বিডিনিউজের।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসএ প্রকাশিত মার্কিন বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক ও আর্থিক পরিষেবা কোম্পানি মরগান স্ট্যানলির নতুন এক বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। বিভিন্ন ব্যাংকের এখন মানুষের বদলে এআই ব্যবহারের দিকে বেশি ঝোঁকা ও এর ফলে ব্রাঞ্চ বন্ধ করে দেওয়াই এমন পদক্ষেপের গোড়ায় রয়েছে । আর এ ছাঁটাইয়ের আকার ৩৫টি বড় ব্যাংকের মোট জনবলের প্রায় ১০ শতাংশ। বড় ধরনের এ কর্মী ছাঁটাইয়ের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে ব্যাংকের ব্যাকঅফিস অপারেশন বা পেছনের সারির দাপ্তরিক কাজ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন কমপ্লায়েন্স বিভাগের ওপর। এগুলো মূলত ব্যাংকিং খাতের সেই নিরলস পরিশ্রমের জায়গা, যেখানে অ্যালগরিদম মানুষের তুলনায় অনেক দ্রুত ও নিখুঁতভাবে স্প্রেডশিটের হিসাবনিকাশ সম্পন্ন করতে পারে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে টেকক্রাঞ্চ।

মরগান স্ট্যানলির প্রতিবেদন অনুসারে, এ পরিবর্তনের মাধ্যমে নিজেদের কাজের সক্ষমতা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারবে ইউরোপীয় ব্যাংকগুলো, যা তাদের জন্য বেশ লাভজনক হবে।

কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনা কেবল ইউরোপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। গেল বছরের অক্টোবরেই নিজেদের মার্কিন কর্মীদের সতর্ক করে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস বলেছে, ওয়ানজিএস ৩.০ নামের এআই প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত তাদের কর্মী ছাঁটাই ও নতুন নিয়োগ বন্ধ থাকবে। এ প্রকল্পের আওতায় গ্রাহক তালিকাভুক্ত করা থেকে শুরু করে আইনি প্রতিবেদন তৈরির মতো সব ধরনের কাজেই এআই ব্যবহারের লক্ষ্য নিয়েছে গোল্ডম্যান স্যাকস। এরইমধ্যে কর্মী ছাঁটাইয়ের পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে আরও কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

২০২৮ সালের মধ্যে নিজেদের মোট কর্মীর পাঁচ ভাগের এক ভাগ বা ২০ শতাংশ ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে ডাচ ব্যাংক এবিএন আম্রো। অন্যদিকে, ফরাসি বহুজাতিক ব্যাংক সোসিয়েতে জেনারেলএর সিইও সাফ বলে দিয়েছেন, পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়ায় কোনো কিছুই অপরিবর্তনীয় নয়। তবে ইউরোপের সব ব্যাংকিং নেতা এ গণছাঁটাইকে সমর্থন করছেন না। মার্কিন ব্যাংক জেপি মরগ্যান চেজএর একজন নির্বাহী বলেছেন, নতুন বা জুনিয়র ব্যাংকাররা যদি কাজের মূল ভিত্তি শেখার সুযোগ না পায় তবে তা ভবিষ্যতে পুরো ব্যাংকিং খাতের জন্য বড় বিপদ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসিএসইতে লেনদেন ৪.৩৮ কোটি টাকা
পরবর্তী নিবন্ধভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী নেতা হলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেস