উল্টো রথ টানার মধ্য দিয়ে গতকাল শুক্রবার শেষ হয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় পর্ব জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব। গত ১ জুলাই রথযাত্রা উৎসব শুরু হয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস জগন্নাথ দেব হলেন, জগতের নাথ বা অধীশ্বর। জগত হচ্ছে বিশ্ব আর নাথ হচ্ছেন ঈশ্বর। তাই জগন্নাথ হচ্ছে জগতের ঈশ্বর। তার অনুগ্রহ পেলে মানুষের মুক্তিলাভ হয়। জীবরূপে তাকে আর জন্ম নিতে হয় না। এ বিশ্বাস থেকেই রথের ওপর জগন্নাথ দেবের প্রতিমা রেখে রথযাত্রা করেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।
উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন এবং মন্দির নানা মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সকালে বিভিন্ন মাঙ্গলিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানমালা। এর মধ্যে ছিল হরিনাম সংকীর্তন, বিশ্ব শান্তি ও মঙ্গল কামনায় অগ্নিহোত্রী যজ্ঞ, মহাপ্রসাদ বিতরণ, আলোচনা সভা, পদাবলী কীর্তন, আরতি কীর্তন, ভাগবত কথা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শ্রীমদ্ভাগবত গীতা পাঠ। চট্টগ্রামেও মহাসমারোহে গতকাল উল্টো যাত্রা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
নন্দনকানন রাধামাধব মন্দির ও গৌর নিতাই আশ্রম : শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, জাতিগত বিদ্বেষ, হিংসা, হানাহানি, ধর্মীয় উন্মাদনায় সারা বিশ্ব আজ যখন বিভ্রান্ত মানবতা ভূলুন্ঠিত তখন রথযাত্রা উৎসব বিশ্বভ্রাতৃত্ববোধ ও সৌহার্দ্য সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। বর্তমান সরকার কাউকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে বক্তব্য দেয়া মেনে নেবে না। জনগণ যার যার ধর্ম পালন করবে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সকল ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছে। তিনি গতকাল শুক্রবার নন্দনকানন রাধামাধব মন্দির ও গৌর নিতাই আশ্রম প্রাঙ্গণে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) চট্টগ্রাম আয়োজিত ২৫তম কেন্দ্রীয় উল্টো রথযাত্রার রজতজয়ন্তীতে ধর্মীয় মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন। রথযাত্রায় মহান আশীর্বাদক ছিলেন ইসকনের হেডকোয়ার্টার ভারতের মায়াপুর হতে আগত অমিয় বিলাস স্বামী মহারাজ। নন্দনকানন ইসকন মন্দিরের অধ্যক্ষ পণ্ডিত গদাধর দাস ব্রহ্মচারীর সভাপতিত্বে ও সুমন চৌধুরীর সঞ্চালনায় উদ্বোধক ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন। তিনি
বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে পালন করে আসছে। কাউকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে দেওয়া হবে না। নন্দনকানন ইসকন মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক তারণ নিত্যানন্দ দাস ব্রহ্মচারী স্বাগত বক্তব্য দেন। প্রধান বক্তা ছিলেন, ড. জিনবোধি ভিক্ষু। বিশেষ অতিথি ছিলেন, হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, সম্মানিত অতিথি ছিলেন, ইস্কনের বিভাগীয় সম্পাদক চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। বিশেষ অতিথি ছিলেন, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি উত্তম শর্মা, অধ্যাপক পার্থ সারথী চৌধুরী, কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, কাউন্সিলর সলিমুল্লাহ বাচ্চু, কাউন্সিলর পুলক খাস্তগীর, প্রকৌশলী আশুতোষ দাশ, কাউন্সিলর নিলু নাগ, কাউন্সিলর রুমকী সেনগুপ্ত, মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল সেন উজ্জ্বল, অধ্যাপক বনগোপাল চৌধুরী, লিটন শীল, অনিন্দ্য দেব। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন, ইস্কন মোহরা মন্দির অধ্যক্ষ গৌর দাস ব্রহ্মচারী, অকিঞ্চন গৌর দাস ব্রহ্মচারী, মুকুন্দ ভক্তি দাস ব্রহ্মচারী, বলরাম করুনা দাস, সুবল সখা দাস ব্রহ্মচারী, শেষরুপ দাস ব্রহ্মচারী, অপূর্ব মনোহর দাস ব্রহ্মচারী প্রমুখ। মহাশোভাযাত্রা নন্দনকানন ২নং গলি গৌর নিতাই আশ্রম সম্মুখে থেকে শুরু হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে নন্দনকানন রাধামাধব মন্দিরে এসে শেষ হয়। মহাশোভাযাত্রায় ব্যানার, প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন, পৌরাণিক সাজ ও বাদ্যযন্ত্র নিয়ে যোগদান করেন।
ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দির : ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের উদ্যোগে আয়োজিত উল্টো রথযাত্রা প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অস্তিত্বের সাথে অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতা সরাসরি জড়িত। এর জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই। উদ্বোধক ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মনেপ্রাণে একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। উল্টো রথযাত্রা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের অধ্যক্ষ লীলারাজ গৌর দাস ব্রহ্মচারী। আর্শীবাদক ছিলেন ইসকন বিভাগীয় কমিটির সম্পাদক ও পুন্ডরিক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। রথযাত্রা উদযাপন কমিটির মিডিয়া সমন্বয়ক বিপ্লব পার্থের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য দেন, গৌরাঙ্গ দাস ব্রহ্মচারী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ড. জিনোবোধি ভিক্ষু, কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, কাউন্সিলর পুলক খাস্তগীর, কাউন্সিলর নিলু নাগ, কাউন্সিলর রুমকী সেনগুপ্ত, হেলাল উদ্দীন চৌধুরী বাবর, হিল্লোল সেন উজ্জ্বল, মনিলাল দাশ, কাঞ্চন আচার্য্য, রিগান আচার্য্য, রুবেল কান্তি দে, অ্যাডভোকেট হিরু সুশীল, দারুব্রহ্ম দাস ব্রহ্মচারী, রুপেশ্বর গৌর দাস ব্রহ্মচারী প্রমুখ।
শোভাযাত্রায় বিভিন্ন পৌরাণিক সাজের মাধ্যমে আবহমান বাংলার ও বৈদিক সংস্কৃতির চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়। শোভাযাত্রাটি সিনেমা প্যালেস থেকে শুরু হয়ে আন্দরকিল্লা, চেরাগী, জামালখান, আসকারদীঘির পাড়, কাজীর দেউড়ি, মেহেদিবাগ, গোলপাহাড় হয়ে প্রবর্তকে গিয়ে শেষ হয়।













