শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এজন্য শিক্ষক ও অভিভাবকদের সহায়তা একান্ত প্রয়োজন। সপ্তাহের যে কোনও একদিন একটা ক্লাস রাখা উচিত যেখানে শিক্ষার্থীদের নাচ, গান, আবৃত্তির পাশাপাশি গল্প বলা শেখাতে হবে। মাঝে মাঝে ওদেরকে বলতে হবে বানিয়ে গল্প বলার জন্য। প্রতিযোগিতার আয়োজন করলে ওদের আগ্রহ বেড়ে যাবে। স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও মেধা পুরস্কার হিসেবে বই দিতে হবে। এতে শিক্ষার্থীদের মনে বইয়ের প্রতি আকর্ষণ বাড়বে। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের পাঠ্যবইয়ের বাইরে কোন বই পড়তে দিতে চায় না। কিন্তু শিক্ষার্থীদেরকে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বই, পত্রিকা পড়তে দিতে হবে। তবেই ওদের বাহ্যিক জ্ঞান বাড়বে। অনেক সময় দেখা যায় যে কোন বই মেলায় সন্তানরা বই নিতে চাইলেও অভিভাবক তাদের ভুলিয়ে খাবারের দোকানে নিয়ে যায়। একটা বই কিনলে শুধু টাকার হিসেব করলে চলে না কারণ এটি পড়ে জ্ঞান আহরণ করা যায় এবং নিজের কাছে যত্নে রাখা যায় সারাজীবন। তাই সকলের উচিত সন্তানদের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বই পড়ায় বাধা সৃষ্টি না করে তাদের বই পড়ায় সহায়তা করা।
আগামী ২৭ ও ২৮ মার্চ শৈলী প্রকাশন ও বাংলাদেশ শিশুসাহিত্য একাডেমির উদ্যোগে চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হবে স্বাধীনতার বই উৎসব। এই উৎসবে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাধীনতার কবিতা আবৃত্তি ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিযোগীদের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার দেয়ার পাশাপাশি উপস্থিত অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকে পাবে উপহার হিসেবে বই। চট্টগ্রাম একাডেমি থেকে ফরম সংগ্রহ করতে হবে। এই স্বাধীনতার বই উৎসবে ৩০% কমিশনে বই সংগ্রহ করার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া শৈলী প্রকাশন অমর একুশে বইমেলা ছাড়াও চট্টগ্রাম একাডেমি ও শিল্পকলায় বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন উপলক্ষে বইমেলার আয়োজন করে। এতে শিক্ষার্থীদের বই সংগ্রহ করার সুযোগ থাকে। আসুন সবাই এই স্বাধীনতার মাসে, ঈদ উদযাপনে এবং বসন্ত উৎসবে প্রিয়জনকে বই উপহার দিই। আপনার সন্তানের পছন্দের বই কিনুন। বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না। বই হোক অবসরের সঙ্গী। উপহার হিসেবে উত্তম বস্তু হলো বই। তাই এই স্বাধীনতার উৎসবে সবাইকে সাথে নিয়ে নিজের পছন্দের একটি বই সংগ্রহে রাখুন। এই বই জ্ঞান বৃদ্ধির পাশাপাশি ঘরের শোভাও বৃদ্ধি করবে।











