চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির প্রথম সভা গতকাল শনিবার সকালে নগরীর কাজীর দেউড়ির ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ২৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্ণফুলীর তলদেশে নির্মিত বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধন করবেন। এ উপলক্ষে আনোয়ারার জনসভা হবে। এতে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ব্যাপক জনসমাগম করার সিদ্ধান্ত হয় সভায়। একইসাথে সংগঠনকে আরো গতিশীল করতে জেলা নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে উপজেলাভিত্তিক সাংগঠনিক টিম গঠনসহ প্রতিটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড জোরদার করার সিদ্ধান্ত হয়। আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে আবারো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আনতে দলের ঐক্য, শৃঙ্খলা সূদৃঢ় করাসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যার যুগান্তকারী উন্নয়নের সুফল জনগণের দোড়গোড়ায় পৌঁছানোর জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের দায়িত্ব নিতে হবে। দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের নবগঠিত কমিটির প্রশংসা করে তিনি বলেন, সাবেক ছাত্রনেতা, নবীন–প্রবীণের সমন্বয়ে এই কমিটি সাজানো হয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আবারো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আনার জন্য এখন থেকে দলের নেতাকর্মীদের কাজ করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হুইপ সামশুল হক চৌধুরী বলেন, দলের মধ্যে প্রতিযোগিত থাকবে, প্রতিহিংসা নয়। আমরা মুজিব আদর্শের যারা রাজনীতি করি তারা একই পরিবারভুক্ত। কমিটি করতে গিয়ে অনেক যোগ্য নেতাও বাদ পড়তে পারেন। অনেকের মধ্য থেকে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ–আলোচনা করে নবীন–প্রবীণ সমন্বয় করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিব কবির বিন আনোয়ার বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের, বিশেষ করে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে।
অধ্যাপক ড. আবু রেজা নদভী এমপি বলেন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের নেতৃত্বে দক্ষিণ জেলায় নৌকা প্রতীকের বিজয়ে একসাথে কাজ করে যেতে হবে।
বক্তৃতায় মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী ও মফিজুর রহমান দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় সবাইকে আরো যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি এস এম আবুল কালাম, হাবিবুর রহমান, আবু সুফিয়ান, শাহজাদা মহিউদ্দিন, এড. মুজিবুল হক, মো. কাশেম, মোহাম্মদ নাসির ও আয়ুব আলী, সাবেক এমপি চেমন আরা তৈয়ব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ দাশ, এড. জহির উদ্দিন ও মোসলেহ উদ্দিন মনসুর, আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. মির্জা কছির উদ্দিন, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক গোলাম ফারুক ডলার, বন ও পরিবেশ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন এমরান, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক এড. আবদুর রশিদ, শ্রম সম্পাদক খোরশেদ আলম, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা ডা. তিমির বরণ চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমদ আঙ্গুর, আ ম ম টিপু সুলতান চৌধুরী ও হায়দার আলী রনি, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আবদুর রহিম, দপ্তর সম্পাদক বিজয় কুমার বড়ুয়া, ধর্ম সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান শিবলী, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক খালেদা আক্তার চৌধুরী, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মোহাম্মদ ফারুক, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক আবসার উদ্দিন সেলিম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক জয়নুল আবেদীন জুনু, উপ দপ্তর সম্পাদক মো. জসীম উদ্দিন, উপ প্রচার সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, কোষাধ্যক্ষ সৈয়দুল মোস্তফা চৌধুরী রাজু, কার্যনির্বাহী সদস্য নুরুল কাইয়ুম খান, ছিদ্দিক আহমদ বিকম, এম এ মোতালেব সিআইপি, আ ক ম শামশুজ্জামান, দেবব্রত দাশ, মাস্টার ফরিদুল আলম, আবু সৈয়দ, অধ্যাপক ডা. নাছির উদ্দিন মাহমুদ, জান মো. সিকদার, আবদুল মালেক, শাহাদাত হোসেন, মো. নাছির উদ্দিন, মোজাহেরুল আলম চৌধুরী, অধ্যক্ষ আ ন ম সরোয়ার আলম, ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ উদ্দিন আহমদ আসিফ, ডা. আ.ম.ম মিনহাজুর রহমান, আবু ছালেহ চৌধুরী, সালাউদ্দিন সাকিব, শহিদুল কবির সেলিম, গোলাম সরওয়ার মুরাদ, ইঞ্জি. মুনির উদ্দিন আহমদ, মোজাহেদ বিন কায়সার, আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, নঈমুল হক পারভেজ, মো. খোরশেদ আলম, রূপ কুমার নন্দী খোকন প্রমুখ।
সভার সিদ্ধান্তসমূহ: টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধি সৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন, ধানমন্ডি ৩২–এ জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, দক্ষিণ জেলার প্রয়াত নেতৃবৃন্দের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। এছাড়া মেট্রোরেল, এলিভেটেটেড এঙপ্রেসওয়ে, বঙ্গবন্ধু টানেল, ফ্লাইওভার ও চট্টগ্রাম–কঙবাজার রেললাইনসহ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো হয়।
এছাড়া দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের পর কিছু ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ পরিবেশনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। একইসাথে কিছু অনুপ্রবেশকারীকে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলা আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।












