উন্নয়নের জন্য অতীতের মতোই পাশে থাকুন

| শনিবার , ৮ জানুয়ারি, ২০২২ at ৭:০৭ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় ঈর্ষান্বিত হয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা ‘বিভ্রান্তি’ ছড়াচ্ছে, স্বাধীনতাবিরোধীরা ‘ষড়যন্ত্র’ করছে, বিদেশি উন্নয়ন সহযোগীদের ‘ভুল বোঝানোর চেষ্টা করছে’ মন্তব্য করে এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ সরকারের বর্তমান মেয়াদের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়ক বেয়ে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এটা অনেকেরই সহ্য হবে না বা হচ্ছে না। দেশ-বিদেশে বসে বাংলাদেশবিরোধী শক্তি, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি নানা ষড়যন্ত্র করছে এই অগ্রযাত্রাকে রুখে দেওয়ার জন্য। মিথ্যা-বানোয়াট-কাল্পনিক তথ্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। বিদেশে আমাদের উন্নয়ন সহযোগীদের ভুল বোঝানোর চেষ্টা করছে।’ খবর বিডিনিউজের।
জনগণের ভাগ্য নিয়ে কেউ যাতে ছিনিমিনি খেলতে না পারে সেদিকে সবাইকে দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে কোনোভাবেই ব্যাহত হতে দেওয়া যাবে না। জনগণই ক্ষমতার উৎস। আমরা জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাস করি। তাই জনগণের সঙ্গেই আমাদের অবস্থান। গত ১৩ বছরের উন্নয়নগাথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা; জনগণকে বললেন আগামীতেও আওয়ামী লীগের পাশে থাকতে। তিনি বলেন, গত ১৩ বছরে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়েছে। আর এটা সম্ভব হয়েছে জনগণ আওয়ামী লীগের ওপর ‘আস্থা রাখার কারণে’। পর পর তিনবার রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ দিয়ে আপনারা উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করেছেন। এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে আমরা একটি কল্যাণকামী, উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি যাতে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশগুলোর কাতারে সামিল হতে পারে। এজন্য অতীতে যেমন আপনারা আমাদের সঙ্গে ছিলেন, ভবিষ্যতে আমাদের সঙ্গে থাকবেন, এ আশাবাদ ব্যক্ত করছি।
এছাড়া ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ বিভিন্ন সময়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কথা স্মরণ করেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সময়ে বিএনপি-জামায়াত জোটের ‘অগ্নি সন্ত্রাসে’ যাদের প্রাণ গেছে, তাদের স্মরণ করার পাশাপাশি আহত ও স্বজনহারা পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি নতুন সরকার গঠন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে ভাষণে সরকারপ্রধান বলেন, আমরা ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক ইশতেহার ঘোষণা করেছিলাম। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল দক্ষ, সেবামুখী ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তুলে সন্ত্রাস, জঙ্গি নির্মূল করে একটি ক্ষুধা-দারিদ্র্য-নিরক্ষরতা মুক্ত অসামপ্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা।’
আর সেই লক্ষ্যে ‘সাফল্যের’ কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের সরকার হিসেবে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা আমাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য বলেই আমি মনে করি। গত ১৩ বছরে আমরা আপনাদের জন্য কী কী করেছি, তা আপনারাই মূল্যায়ন করবেন। তবে আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি আমরা যেসব ওয়াদা দিয়েছিলাম, তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছি।
২০২৫ সালে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ৫১ শতাংশে পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দারিদ্র্যের হার ১৫ দশমিক ৬ শতাংশে এবং চরম দারিদ্র্যের হার ৭ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে আসবে। সরকারের এ মেয়াদে ১ কোটি ১৬ লাখ ৭০ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজ যে দলেরই হোক আর যত শক্তিশালীই হোক, তাদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না এবং হবে না। দুর্নীতি দমন কমিশন স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছে। তবে এই ব্যাধি দূর করতে সামাজিক সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন।
আমরা কঠোর হস্তে জঙ্গিদের উত্থান প্রতিহত করেছি। বাংলাদেশ সামপ্রদায়িক সমপ্রীতির দেশ। এখানে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ পারস্পরিক সহনশীলতা বজায় রেখে বসবাস করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ভাষণে অতীতের অন্যান্য সময়ের সঙ্গে তুলনা করে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার চিত্র তুলে ধরেন।
বিদ্যুৎ বর্তমান সময়ের ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পণ্য’ মন্তব্য করে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার আগের বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, তখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ছিল ৪ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। বর্তমানে দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ২৩৫ মেগাওয়াটে। মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে শতভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, আমরা সে প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করেছি।
খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন ‘স্বয়ংসম্পূর্ণ’ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দানাদার খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৫৫ লাখ মেট্রিক টন। বাংলাদেশ বিশ্বে ধান, সবজি ও পেঁয়াজ উৎপাদনে তৃতীয় স্থানে উন্নীত হয়েছে। অব্যাহত নীতি সহায়তা ও প্রণোদনার মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে এই ‘বিপ্লব সাধিত’ হয়েছে। দেশের প্রায় সব গ্রামে পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে জানিয়ে সড়ক, রেল, বিমান যোগাযোগ সহজ করতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারই প্রথম গ্রামোন্নয়নকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করেছে।
স্বাস্থ্যখাতে দেশে ‘ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে’ মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাড়ে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে গ্রামীণ নারী-শিশুসহ সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে বিনামূল্যে ৩০ ধরনের ওষুধ দেওয়া হয়। আমাদের স্বাস্থ্যসেবার সমপ্রসারণ এবং গুণগত মানোন্নয়নের ফলে মানুষের গড় আয়ু ২০১৯-২০ বছরে ৭২ দশমিক ৮ বছরে উন্নীত হয়েছে। ৫ বছর বয়সী শিশু মৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ২৮ ও অনুর্ধ্ব-১ বছর বয়সী শিশু মৃত্যুর হার ১৫-তে হ্রাস পেয়েছে। মাতৃমৃত্যু হার কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি লাখে ১৬৫ জনে। করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখতে হলেও শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়নি বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষার উন্নয়ন ও প্রসারে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকার বৃত্তি-উপবৃত্তি বিতরণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট্রের আওতায় স্নাতক ও সমমানের শ্রেণির আরও ২ লাখ ১০ হাজার ৪৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ১১১ কোটি বিতরণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের ৭ হাজার ৬২৪টি এমপিও-ভুক্ত মাদ্রাসায় ১ লাখ ৪৮ হাজার ৬১ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে মাসে ২৭৬ কোটি টাকা বেতন-ভাতা দেওয়া হচ্ছে। ২০২০ সালে নতুন ৪৯৯টি মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া ১ হাজার ৫১৯টি এবতেদায়ী মাদ্রাসার ৪ হাজার ৫২৯ জন শিক্ষককে ত্রৈমাসিক ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হচ্ছে। দাওয়ারে হাদিস পর্যায়কে মাস্টার্স সমমান দেওয়ার কথাও তিনি বলেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ গ্রহণের ফলেই এই ক্রান্তিকালে ডিজিটাল প্রযুক্তি ‘ত্রাতা হিসেবে’ আবির্ভূত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশের ১৮ হাজার ৪৩৪টি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ৩ হাজার ৮০০ ইউনিয়নে ফাইবার অপটিক ক্যাবল স্থাপনের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের নবম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ গত মাসে ফাইভ জি নেটওয়ার্কের যুগে প্রবেশ করেছে। মহামারীর সময় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১১ কোটিতে উন্নীত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, অনলাইনে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং লেনদেন সুবিধা গ্রহণ করে সাধারণ মানুষ ‘স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অব্যাহত রাখতে’ সক্ষম হয়েছে।
দেশে প্রায় ৬ লাখ তরুণ-তরুণী ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। এ খাতের উদ্যোক্তাদের সহজশর্তে পূঁজি সরবরাহের ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, আমাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১-এর মাধ্যমে দেশের সবগুলো টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠান সমপ্রচার ছাড়াও প্রত্যন্ত ৩১টি দ্বীপে ইন্টারনেট সেবা প্রদান করা হচ্ছে। কয়েকটি ব্যাংক এবং সেনাবাহিনী স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১-এর সেবা গ্রহণ করছে।
ইন্টারনেট বিপ্লবের পর বিশ্ব যে এখন ডিজিটাল প্রযুক্তির চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে, সে কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব একদিকে যেমন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে, তেমনি খুলে দিবে সম্ভাবনার দ্বার। আমাদের চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের উপযোগী সুদক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। আমাদের রয়েছে বিপুল সংখ্যক তরুণ। এই তরুণ প্রজন্মকে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তোলার যাবতীয় উদ্যোগ আমরা গ্রহণ করছি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির আওতায় ২০২১-২০২২ অর্থবছরে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা, অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি, চা শ্রমিক, বেদে সমপ্রদায়, তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীসহ দূরারোগ্য ব্যক্তিদের চিকিৎসা ইত্যাদি খাতে সর্বমোট ১ লাখ ৭ হাজার ৬১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সর্বমোট উপকারভোগীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২ লাখ ৮৭ হাজার। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ১২ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শেখ হাসিনা জানান, মুজিববর্ষে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৯৭টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ২ শতক খাস জমি বরাদ্দ দিয়ে বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। জলবায়ু উদ্বাস্তুদের মধ্যে বিতরণের জন্য কঙবাজারের খুরুশকুলে ১৩৯টি ৫-তলা ভবনে ৪ হাজার ৪৪৮টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হচ্ছে। এরইমধ্যে ১৯টি ভবন বরাদ্দকারীদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকায় বস্তিবাসীদের জন্য মিরপুরে ১০ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হচ্ছে, যারমধ্যে গত বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ৩০০ পরিবারের মধ্যে ফ্ল্যাট বিতরণ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার দেশের নারী সমাজকে উৎপাদন এবং সেবামূলক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ব্যবস্থা নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
সরকার প্রধান বলেন, ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বৈদেশিক নীতির এই মূলমন্ত্রকে পাথেয় করে বাংলাদেশ বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে।
জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে এ মুহূর্তে শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে। মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত ১১ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে শান্তিপূর্ণভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সব চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আমাদের বর্তমান এবং আগামী দিনের সকল কার্যক্রমের লক্ষ্য হচ্ছে নতুন প্রজন্মের জন্য একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যত বিনির্মাণ। অফুরন্ত জীবনীশক্তিতে বলীয়ান তরুণ প্রজন্মই পারে সকল কূপমণ্ডুকতা এবং প্রতিবন্ধকতা দূর করে একটি প্রগতিশীল অসামপ্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে। যে বাংলাদেশের স্বপ্ন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেখেছিলেন। তারুণ্যের শক্তিই পারবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করতে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম এগিয়ে যাবে মাথা উঁচু করে ভবিষ্যতের পানে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ‘প্রতি মাসে টিকা পাবে এক কোটি মানুষ’
পরবর্তী নিবন্ধসংরক্ষিত আসনের উপনির্বাচনে লড়বেন ৩ প্রার্থী