মানবতার বিপর্যয় দিন দিন বেড়েই চলেছে। আজ আমরা কোথায় এসে দাঁড়িয়েছি। ডিজিটালের এ আই এর যুগে আমাদেরকে যতটুটু উন্নত করেছে, শিখিয়েছে, স্মার্ট বানিয়েছে তার চেয়ে বেশী আমরা নিচের দিকে ধাবিত হয়েছি। এত কষ্ট করে শিক্ষকরা, মা বাবা সন্তানদের মানুষ করে। শিক্ষায় সুশিক্ষিত করে, সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য কত অর্থ শ্রম ঘাম ত্যাগ করে। ছাত্র সন্তান একটু সম্মানে সুখে থাকার জন্য পথ ধরিয়ে দেয়। আজ কাল সন্তানেরা সেই মূল্যায়নটকু করে না। সেদিন এক অনুষ্ঠানে এক শিক্ষক খুবই আক্ষেপ করে বলেছেন। আমাদের জীবনটা তখন আনন্দ ছিল, ভয়হীন ছিল, শ্রদ্ধা সম্মানের ছিল, সুসংগঠিত ও সুশৃঙ্খল ছিল। একে অপরের প্রতি আন্তরিকতা ও ভালোবাসা ছিল। মায়া মমতায় ভরা ছিল। এখন ছাত্রদের ক্লাসে পড়াতে গেলে কথা বলতে ভয় লাগে। পীঠস্থানে আতঙ্কে থাকি, পথ চলতে চারপাশ দেখে চলতে পারি না। ছোট ছোট ছেলেরা বুক ফুলিয়ে সিগারেট টানে, ইভটিজিং করে, চায়ের দোকানে আড্ডা মারে, বেফাঁস কথাবার্তা যখন তখন বলে বসে। চলার বলার কোন সৌন্দর্য নাই। সব সময় প্রতিকূল অবস্থায় পথ চলতে হয়। সত্যিতো, এ কেমন যুগে আমরা দাঁড়িয়ে আছি! এর পরিণাম কী? এর শেষ কোথায় বা ভবিষ্যৎ কী? সেদিন দেখলাম ৮০ কোটি টাকার মালিক ১০০টির মত বই লিখে সরকারিভাবে সম্মানিত হয়েছেন। তাঁর এক ছেলে ব্যবসায়ী, এক মেয়ে আইনজীবী মা মারা গেছেন অনেক আগেই। বাবার কাজ থেকে ঘর বাড়ি অর্থ সম্পদ সব নিয়ে অসুস্থ অবস্থায় বৃদ্ধ বাবাকে বাড়ি থেকে বেড় করে দিয়েছিল। তিনি কত যে গুণী ব্যক্তি ছিলেন বলার অপেক্ষা রাখে না। অবশেষে বৃদ্ধা আশ্রমে আশ্রয় হলো। সেই বৃদ্ধার আশ্রমেই তাঁর মৃত্যু হলো। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো মৃত্যুর আগে কোন খবর নেয়নি। মৃত্যুর পর খবর পেয়েও কোন সন্তান একটিবার শেষবারের মত বাবাকে দেখতে আসেনি। আশ্রম কর্তৃপক্ষ অবশেষে চাঁদা সংগ্রহ করে বৃদ্ধার সৎকার করে। কী আজব সন্তান, এ কেমন শিক্ষা! কেমন বিবেক। এটা একটা ব্যাধিতে পরিণত হয়ে গেছে। তাইতো দিন দিন বৃদ্ধ আশ্রমের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃদ্ধ মা বাবারা গৃহহীন হয়ে পড়ছে। পারিবারিক ও ব্যবহারিক শিক্ষা এবং সমাজ যে কত অধঃপতনে গিয়ে ঠেকেছে তা আর বোঝার বাকি রইল না। এই রকম সমাজ কেউ কখন চায়নি। এই সভ্যতা কখন কেউ আশাও করেনি। তাহলে কি আমরা উন্নত সভ্যতার আড়ালে আস্তে আস্তে আদিম যুগে ফিরে যাচ্ছি? এই সভ্যতা দেশ জাতি ও সমাজের জন্য কোন ভাবেই শুভ লক্ষণ নয়। এর জন্য প্রত্যেকের সচেতনতার প্রয়োজন সামগ্রিকভাবে এবং সন্তানদের লেখা পড়ার সাথে সাথে সঠিক ধর্ম জ্ঞানের প্রতি শিক্ষা দেওয়া বিশেষ প্রয়োজন।












