প্রতি বছর বৈশাখের ১২ তারিখে লালদীঘির ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহাসিক জব্বারের বলী খেলা ও বৈশাখী মেলা। খেলার আগের দিন থেকে শুরু করে পরদিন পর্যন্ত লালদিঘীর মাঠ ও আশপাশের কয়েক কিলোমিটার জায়গাজুড়ে বসে বৈশাখী মেলা। গত দুই বছর করোনার কারণে এই ঐতিহসিক মেলা হয়নি। সর্বশেষ ২০১৯ সালে এ মেলার ১১০তম আসর বসেছিল। গতকাল বুধবার আবদুল জব্বার স্মৃতি কুস্তি প্রতিযোগিতা ও মেলা কমিটি এক সংবাদ সম্মেলনে এবারও মাঠের কারণে বলী খেলা ও মেলা স্থগিতের ঘোষণা দেয়।
এ বিষয়ে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি আজাদীকে বলেন, আগামী বছর থেকে মেলা এবং খেলা দুটোই হবে। এবছর তো কোভিডের কারণে হবে কিনা বলতে পারছি না। তাছাড়া এখনো তো রমজান। মেলা তো রাস্তায় হয়। রমজানে পুলিশ রাস্তায় মেলা করতে দিবেন কিনা উনারা বুঝবেন। তবে লালদীঘির মাঠের ভেতরে আর কখনো মেলা এবং পার্কিংয়ের কোনো সুযোগ থাকবে না।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন থেকে ঐতিহাসিক এই লালদীঘির মাঠটি অবৈধভাবে দখল ও সংস্কারের অভাবে জৌলুস হারিয়ে একাংশে গড়ে উঠেছিল অবৈধ মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড এবং বছরের অন্যান্য সময়ে বসতো নানান ধরনের মেলা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ঐতিহাসিক লালদীঘির মাঠের গুরুত্ব অনেক। বলতে গেলে ইতহাসের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এই মাঠ। এই মাঠের গুরুত্ব অনুধাবন করে কোতোয়ালী আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল মাঠটিকে সংস্কারের উদ্যোগ নেন। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এর আধুনিকায়ন করছে। বর্তমানে এখানে ঐতিহাসিক ছয় দফা মঞ্চ, বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার ম্যুরাল স্থাপন, কিডস কর্নার, ঘাস লাগানো, সীমানা প্রাচীর, ফটক নির্মাণের কাজ চলমান আছে।
শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের কাজ শেষ হলে প্রধানমন্ত্রী এটি উদ্বোধন করবেন। অল্প কিছু কাজ বাকি আছে। উদ্বোধনের পর মাঠ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। কখন উদ্বোধন করা হবে তা এখনও নির্ধারণ হয়নি। উদ্বোধন হলে পরবর্তীতে মাঠের ক্ষয়ক্ষতি না করে বলী খেলা আয়োজন করা যাবে। মাঠে খেলা হবে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। এ বছরের ব্যাপারটি কিছুটা ভিন্ন, তবে আগামী বছর থেকে মেলা বা খেলায় কোনো সমস্যা হবে না।













