উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা তার উত্তরসূরী হিসেবে মেয়ের অবস্থান সুসংহত করতে পদক্ষেপ নিচ্ছেন এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণে কিম জং উনের কন্যা তার মতামত দিচ্ছেন এমন ইঙ্গিতও মিলেছে।
গোয়েন্দা সংস্থার ব্রিফিংয়ের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার একাধিক আইনপ্রণেতা এ কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। দক্ষিণের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনআইএস) কিমের কন্যা দেশটির ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির আসন্ন কংগ্রেসে উপস্থিত হন কিনা, হলে তাকে কীভাবে উপস্থাপন করা হবে এবং তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পাবেন কিনা সেদিকে নিবিড় নজর রাখবে বলে ওই আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন। খবর বিডিনিউজের।
গোপনীয়তায় মোড়া উত্তর কোরিয়া কখনও কিমের মেয়ের নাম বা বয়স প্রকাশ করেনি। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দারা মনে করেন, তিনিই সেই জু আয়ে, যার নাম প্রকাশ করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক বাস্কেটবল তারকা ডেনিস রডম্যান। ২০১৩ সালে কিমের পরিবারের সঙ্গে কিছুদিন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল ডেনিসের। তখন জু শিশু ছিলেন বলে তিনি জানিয়েছিলেন। শিশু জু আয়ে–কে কোলে নেওয়ার কথাও বলেছিলেন তিনি।
অতীতে এনআইএস কিম জু আয়ে– কে উত্তরসূরি বানানোর প্রস্তুতি চলছে বলে ধারণা দিয়েছিল, কিন্তু আজকে তাদের অভিব্যক্তি হচ্ছে তাকে ভেতরে ভেতরে উত্তরসূরি হিসেবে মনোনয়নের পর্ব চলছে, এনআইএসের রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ের পর সাংবাদিকদের এমনটাই বলেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার আইনজীবী লি সিওং–কিউয়ান। জু আয়ে কৈশোরের শুরুর দিকে আছেন বলে মনে করা হচ্ছে, তা সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে অস্ত্র প্রকল্প পরিদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাবার সঙ্গে তার ছবি নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। এতে অনেক বিশ্লেষকেরই অনুমান, জু আয়েকে দেশের চতুর্থ–প্রজন্মের নেতা বানানোর জন্য তৈরি করা হচ্ছে। লি এবং আরেক আইনপ্রণেতা পার্ক সুন–ওন বলেছেন, জু আয়েকে কার্যত দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং সরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার সক্রিয় ভূমিকায় তিনি যে এখন নীতিগত বিষয়েও মত দিচ্ছেন তার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে ধারণা এনআইএসের।
উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টি এ মাসের শেষদিকে তাদের নবম কংগ্রেসের উদ্বোধনী অধিবেশন করতে যাচ্ছে, এই কংগ্রেসেই দেশটির অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ সব লক্ষ্য ও নীতিমাল উন্মোচিত হবে বলে আন্দাজ বিশ্লেষকদের। দেশটির নেতা কিম জং উন এখন পারমাণবিক শক্তিচালিত ৮ হাজার ৭০০ টন ওজনের একটি বড় সাবমেরিন নিয়ে কাজ করছেন বলেও দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দারা ধারণা করছেন, ওই সাবমেরিনটি ১০টি পর্যন্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষম হতে পারে বলে তারা আশঙ্কাও করছে, বলেছেন পার্ক ও লি।












